খেলাধুলা ডেস্ক: ফুটবল বিশ্বকাপের আর মাত্র ১০০ দিন বাকি থাকতে এবার কলম ধরেছেন ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সাবেক সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো। তার বক্তব্য, ব্রাজিল সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় যে নেতিবাচক প্রচার চলেছে, তা যুক্তিযুক্ত নয়।
বিশ্বের আর কোনো দেশে বোধহয় সমাজজীবন এমনভাবে ফুটবলকেন্দ্রিক নয়। ২০০২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ জয়ে ব্রাজিলিয়ানদের হর্ষ আর ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে বিদায় নেওয়ার পর ব্রাজিলিয়ানদের বিষাদের তুলনা করলেই সেটা বোঝা যায়। তাহলে কি ফুটবলের ক্ষেত্রেও ইউরোপীয়দের তুলনায় তৃতীয় বিশ্বের দেশই থেকে যাবে ব্রাজিল?
না, ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ তো রয়েছে, যা সংঘটিত হবে ব্রাজিলের মাটিতেই। সেটাই হবে ব্রাজিলের নিজেকে প্রদর্শন করার সুযোগ: স্বচ্ছল অর্থনীতি, শক্তপোক্ত গণতন্ত্র, উচ্ছ্বল, প্রাণবন্ত সংস্কৃতি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতি রোনাল্ডোর যে খোলাচিঠি গতকাল ৪ মার্চ বার্লিনের ব্রাজিলীয় দূতাবাস থেকেও প্রকাশিত হয়। যে চিঠির অনুলিপি ডয়চে ভেলের কাছে তার অনেক আগেই পৌঁছে। সে চিঠির বক্তব্য হলো, আগামী বিশ্বকাপের মাধ্যমে ব্রাজিল ও তার বাসিন্দারা বিশ্বজনমানসে নিজেদের তুলে ধরার সুযোগ পাবে।
‘ফাজের বোনিতো’
এ সবই মিষ্টি কথায় মন ভেজানোর চেষ্টা, ব্রাজিলে যাকে বলে ‘ফাজের বোনিতো’। অর্থাৎ ব্রাজিলের বিশ্বকাপ উদ্যোক্তা পরিষদের সদস্য রোনাল্ডো এবং অপরাপর প্রতিনিধিরা যা করছেন। কনফেডারেশনস কাপ চলাকালীনই লাখ লাখ ব্রাজিলিয়ান বিশ্বকাপের বিরুদ্ধে এবং স্বদেশে অর্থনৈতিক অসাম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রদর্শন করেছেন; স্টেডিয়াম নির্মাণের সময় বিভিন্ন দুর্ঘটনায় পূর্তশ্রমিকদের মৃত্যু; স্টেডিয়াম তৈরির কাজ সময়মতো শেষ হবে না, এমন আশঙ্কা; এ সব বিবরণই ইউরোপীয় গণমাধ্যমগুলিতে প্রকাশিত হয়েছে।
বিশেষ করে জার্মানির ক্ষেত্রে শুধুমাত্র নেতিবাচক বিবরণ দিয়েই কাজ চালানো হচ্ছে বলে ব্রাজিলিয়ানদের ধারনা। নয়ত যে ৯০ লাখ টিকিট বিক্রি হয়েছে, যে ১৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবী নাম লিখিয়েছেন- তাদের বেলা? জার্মান জাতীয় কোচ ইওয়াখিম ল্যোভ এবং মার্কিন জাতীয় কোচ ইয়ুর্গেন কিন্সমান, দুজনেই ব্রাজিলের নতুন স্টেডিয়াম কিংবা বিমানবন্দরগুলির আধুনিক স্থাপত্য নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। কিন্তু এ সব ইতিবাচক খবরকে যেন পশ্চিমী মিডিয়ায় আমলই দেওয়া হচ্ছে না, বলে ব্রাজিলিয়ানদের ক্ষোভ।
‘লা প্রেসিদেন্তা’ ও স্টেডিয়াম নির্মাণ
ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগামী অক্টোবরে। বর্তমান প্রেসিডেন্ট দিলমা রুসেফ বস্তুত রাষ্ট্রপ্রধান, এবং তা-তে তার কোনো আপত্তি নেই; এমনকি তিনি ‘লা প্রেসিদেন্তে’-র বদলে আরো বেশি স্ত্রীলিঙ্গসুলভ ‘লা প্রেসিদেন্তা’ সম্বোধনই পছন্দ করেন, যদিও পর্তুগিজ ভাষায় ‘প্রেসিদেন্তা’ শব্দরূপই সম্ভব নয়। মোট কথা, রুসেফকে যদি আবার প্রেসিদেন্তে কিংবা প্রেসিদেন্তা হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হতে হয়, তাহলে স্বদেশে বিশ্বকাপ পরিপূর্ণভাবে সফল হওয়া প্রয়োজন।
তার জন্য সবার আগে প্রয়োজন স্টেডিয়ামগুলো যথাসময়ে সমাপ্ত হওয়া। কিন্তু কি কুরিতিবার ‘আরেনা দা বাইসাদা’, সাঁও পাওলো’-র ‘আরেনা করিন্থিয়ান্স’, মানাউস-এর ‘আরেনা দে আমাজোনিয়া’, কুইয়াবা-র ‘আরেনা পান্তানাল’, নাতাল-এর ‘আরেনাস দাস দুনাস’ বা পোর্তো আলেগ্রে-র ‘এস্তাদিও বাইরা-রিও’, কোনো স্টেডিয়ামই ফিফার নির্দিষ্ট সময়সীমা, অর্থাৎ ২০১৩ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হতে পারেনি।
স্টেডিয়ামের বাইরে?
নাতালের স্টেডিয়াম গত জানুয়ারির শেষে উদ্বোধন করা হয়েছে। পোর্তো আলেগ্রে-র স্টেডিয়ামে এসসি ইন্তারনাসিওনাল কাবের প্রথম টেস্ট খেলাটি সংঘটিত হয়েছে বটে, কিন্তু কাবের মতে তারা স্টেডিয়ামের দায়িত্বে, বাইরে মিডিয়া সেন্টার ইত্যাদির জন্য কাব দায়ী নয়। বলতে কি, শেষমেষ সমস্যা দাঁড়াবে বিমানবন্দর থেকে আসা-যাওয়ার রাস্তা, স্টেডিয়ামমুখী বাসরুট, মেট্রো ইত্যাদি নিয়ে।
তবে উত্তর তো একটা আছেই, যেমন ব্রাজিলিয়ানরা বলে, জার্মানিতে সংগঠন খুব ভালো, বাকি সব কিছু খারাপ; সে তুলনায় ব্রাজিলে সংগঠন খারাপ, কিন্তু বাকি সব কিছু ভালো। তবে তাদের আশাবাদিতা এবং আনন্দ করার ক্ষমতাটা নাকি মজ্জায় মজ্জায়: ব্রাজিল হলো সেই আনন্দের দেশ, যেখানে বিশ্বকাপ খেলতে ও দেখতে আসা মানুষদের সাদর অভ্যর্থনার কোনো অভাব ঘটবে না।