সিসি নিউজ: নোয়াখালীর কবিরহাট থানা ঘেরাও করে ব্যাপক ভাঙচুর ও ওসিকে লাঞ্ছিত করেছে আওয়ামী লীগের যুব ও ছাত্র সংগঠন যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় তিন পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে খারাপ বার্তা দেয়াকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ নেতার দুইভাইকে আটক করার অভিযোগে এ হামলা চালায় তারা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৪০ রাউন্ড গুলি করেছে পুলিশ। আহত পুলিশ কনস্টেবল ইয়াসিন, কাইয়ুম ও বাবুলকে হাসপাতলে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের মধ্যে যুবলীগ নেতা শাহাদাত হোসেন, আব্দুল ওয়াহেদ, এবিএম সিরাজকে নোয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে আব্দুল ওয়াহেদের অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়।
জানা গেছে, যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে একটি খারাপ বার্তা দেয় কবিরহাট পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মোসলেহে উদ্দিন নবী। মন্ত্রী বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীকে জানান। একরামুল করিম অভিযুক্ত নবীকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন।
বুধবার রাত ১২টার দিকে কবিরহাট থানার পুলিশ নবীকে গ্রেফতার করতে তার বাড়ি যায়। তাকে না পেয়ে তার দুই ভাই বখতিয়ার ও মনির হোসেনকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে আসে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাত ১টার দিকে আওয়ামী লীগের উপজেলা সেক্রেটারি ও কবিরহাট পৌর মেয়র জহিরুল ইসলাম ও রায়হানের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের দুই শতাধিক নেতাকর্মী থানা ঘেরাও করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে পুলিশ ৪০ রাউন্ড গুলি করে। এ সময় যুবলীগকর্মীরা কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহাবুববুর রহমানকে লাঞ্ছিত করে।
পরে নোয়াখালী থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরশাফুজ জামান ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
একটি সুত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন থেকে পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোসলেহ উদ্দিন নবী যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কাছে কয়েকজন ব্যক্তির চাকরির বিষয়ে সুপারিশ করে আসছিলেন। গত বুধবার রাতে তিনি আবারও মন্ত্রীকে সরাসরি মোবাইল ফোনে চাকরির সুপারিশ করেন। এ সময় মন্ত্রী অসম্মতি জানান এবং এ বিষয়ে আর ফোন না করার জন্য বলেন। কিন্তু পরক্ষণে তিনি মোবাইলে মন্ত্রীকে খারাপ ভাষায় একটি ম্যাসেজ পাঠায়।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসএম মাহবুবুল আলম গ্রেফতারের কথা সত্যতা অস্বীকার করে বলেন, পৌর মেয়র জহিরুল হক রায়হান মদপান করে মাতাল অবস্থায় রাতে থানায় এসে বলেন, আমাকে গ্রেফতার করেন। এক পর্যায়ে তিনি দলীয় নেতাকর্মিদের ফোন করে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে প্রচার করেন। পরে দলীয় নেতাকর্মীরা থানায় এসে হামলা ও ভাঙচুর করে। পুলিশ বাধ্য হয়ে ৪০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি করে এবং অতিরিক্তি পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে কবিরহাট থানার ওসিকে একটি তদন্তের রিপোর্ট দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।