ঢাকা: রাজধানীসহ দেশের প্রায় সব জায়গায় ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বলা চলে দেশে এখন হাসপাতাল, ক্লিনিকের চেয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যাই বেশি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বর্তমানে সারাদেশে অনুমোদিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ৬ হাজার ৮৬৮টি। এর মধ্যে রাজধানীতে অনুমোদিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা ৬৬০টি।
তবে অনুমোদনহীন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। অনুমোদনহীনভাবে প্রতি নিয়তই গড়ে উঠছে ডায়াগনস্টিক সেন্টার। ফলে রোগ নির্ণয়ের ক্ষেত্রে রোগীদের বাড়তি পয়সা খরচার ভোগান্তি প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। তবে এসকল রোগ নির্ণয় কেন্দ্রের বেশিরভাগের বিরুদ্ধেই হরহামেশা নানা অভিযোগ লক্ষ্য করা যায়। বেশ কিছু হাসপাতাল ঘুরে গত কয়েক দিনে রোগীদের মুখ থেকে জানা গেল এই সকল রোগ নিরাময় কেন্দ্র নিয়ে তাদের নানা অভিযোগের কথা।
রোগীদের মতে আজকাল রোগ সারাতে না যত পয়সা খরচ হয় তার থেকে বেশি খরচ লেগে যায় রাজধানীর বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগ নির্ণয় করতে গেলে। আর ডাক্তারদের কাছে যাওয়া মানেই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে আসতে হয় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যাওয়ার। মানে বাড়তি কিছু পয়সা হাতে নিয়ে আসা। প্যাথলজি পরীক্ষার জন্য সরকারিভাবে নির্ধারিত কোনো ধরনের মূল্য তালিকা না থাকায় রোগীদের কাছ থেকে উচ্চমূল্য আদায় করছে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো।
দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালসমূহের কতিপয় আইটেমের ওপর ইউজার ফি হার নির্ধারণসংক্রান্ত সরকারি পরিপত্র ও রাজধানীর বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্যাথলজি পরীক্ষার মূল্য তালিকা বিশ্লেষণ করে এ তথ্য জানা গেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ডায়াগনস্টিক সেন্টারের জন্য রোগ নির্ণয়ের নির্ধারিত কোনো মূল্য তালিকা নেই। ‘দ্য মেডিকেল প্রাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ রেগুলেশন অর্ডিন্যান্স-১৯৮২’ এর ভিত্তিতে এ সব প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হওয়ার কথা থাকলেও এ অধ্যাদেশটি বর্তমানে অনেকটাই অকার্যকর।
পরবর্তী সময়ে কয়েকবার বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবার জন্য যুগোপযোগী একটি আইন করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে আইন বা নীতিমালা না থাকায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো রোগ নির্ণয়ে ইচ্ছে মত টাকা নিয়ে থাকে বলে জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে (রোগ নির্ণয় কেন্দ্র) অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, সরকারি হাসপাতালের তুলনায় বেসরকারি সেন্টারগুলোতে যেকোনো ধরনের পরীক্ষার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি টাকা নেওয়া হয়।
একজন চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ জানান, ‘অনেক ক্ষেত্রে ছোট ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও টেকনোলজিস্ট থাকে না। ফলে রোগীদের ভুল রিপোর্ট দিয়ে থাকে। অনেকে আবার নামকরা সেন্টারগুলোর সঙ্গে চুক্তি করে থাকে। তারা রোগীদের স্যাম্পল (পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা) সংগ্রহ করে অর্ধেক মূল্যে এখান থেকে পরীক্ষা করিয়ে রোগীদের রিপোর্ট দিয়ে থাকে। এর ফলে রোগীদের বেশি মূল্য