কুমিল্লা: কুমিল্লার দেবিদ্বারে গভীর নলকূপের পাইপের ভেতরে গুম করা শাহিনা আক্তার নামে এক গৃহবধূর (৩২) লাশ তোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। নলকূপের ৮০ ফুট গভীরে চলে গেছে শাহিনার লাশ। লাশ তুলতে ৮০ হাজার টাকায় পাইপ তোলার মিস্ত্রিদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। শনিবার দুপুরে লাশ তোলার প্রক্রিয়া শুরু হলেও তা শেষ হতে আরো তিন দিন লেগে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তারেক মো. আবদুল হান্নান।
এদিকে শাহিনাকে হত্যা করে লাশ গুমের ঘটনায় আটক করা আবদুল করিম শনিবার আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তিনি জানিয়েছেন, শাহিনার স্বামী মোবারক হোসেনের সঙ্গে দুই লাখ টাকা চুক্তি করে তারা তাকে হত্যা করেছেন। হত্যার এক মাস পর বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে নিহতের লাশের সন্ধান পায় দেবিদ্বার থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার বিকেলে হত্যার সঙ্গে জড়িত আব্দুল করিমকে পুলিশ আটক করার পর তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী লাশের সন্ধান পাওয়া যায়।
ঘাতক আব্দুল করিম ছেচরাপুকুরিয়া গ্রামের ছোলায়মান মিয়ার ছেলে। নিহত গৃহবধূ দেবিদ্বার উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের তুলাগাঁও গ্রামের কেরামত আলীর মেয়ে। তার স্বামী একই ইউনিয়নের ছেচরাপুকুরিয়া গ্রামের দুবাই প্রবাসী মোবারক হোসেন।
নিহতের বড় ভাই শাহ আলম সরকার জানান, ১২ বছর আগে মোবারক হোসেনের সঙ্গে বিয়ে হয় তার বোন শাহিনা আক্তারের। তাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ২ বছর আগে ভগ্নিপতি মোবারক হোসেন দেশে আসার পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ শুরু হয়। এর সূত্র ধরে মোবারক হোসেন ও তার পরিবারের সদস্যরা শাহিনা আক্তারের ওপর নির্যাতন চালাতে শুরু করেন। ৪ মাস পরে মোবারক হোসেন বিদেশে চলে যান কিন্তু তার পরও মোবারক হোসেনের পরিবার শাহিনার ওপর নির্যাতন অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে শাহিনা তাদের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় মামলা দায়ের করেন।
পরবর্তীতে মোবারক হোসেন বিদেশ থেকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য শাহিনার ওপর চাপ সৃষ্টি করেন। তাকে স্বামীর বাড়ি থেকে চলে যেতে বলা হয়। কিন্তু শাহিনা যাননি।মানুষের বাড়িতে কাজ করে সন্তানদের নিয়ে স্বামীর বাড়িতেই পড়ে থাকেন তিনি। এর পর হঠাৎ ৭ ফেব্রুয়ারি রাতে শাহিনা নিখোঁজন হন। কোনো খোঁজ না পাওয়ায় দেবিদ্বার থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
দেবিদ্বার থানা পুলিশের উপপরিদর্শক এবং এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ্ কামাল আকন্দ জানান, গৃহবধূ শাহিনা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে আমরা বিভিন্নভাবে তদন্ত চালাতে থাকি। বৃহস্পতিবার বিকেলে ছেচরাপুকুরিয়া গ্রামের আব্দুল করিমকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করি। পরে জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল করিম স্বীকার করেন তিনি হত্যার সঙ্গে জড়িত। স্বীকারোক্তিতে তিনি জানান, শাহিনাকে হত্যা করার জন্য তার স্বামী মোবারক হোসেন তাদের সঙ্গে দুই লাখ টাকায় চুক্তি করেন। তারা এ পর্যন্ত এক লাখ টাকা পেয়েছেন। চুক্তি মোতাবেক ৭ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টার দিকে আব্দুল করিম ও তার দুই সহযোগী শাহিনাকে ঘর থেকে ডেকে এনে পাশের একটি ফাঁকা স্থানে নিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেন। হত্যার পর শাহিনার লাশ ঘটনাস্থলের পাশে একটি অব্যবহৃত গভীর নলকূপের (ডিপ টিউবওয়েল) পাইপের ভেতর ফেলে পাইপের মুখ মাটি দিয়ে বন্ধ করে দেয়।
ওসি তারেক মো. আবদুল হান্নান জানান, ঘাতক আব্দুল করিমের তথ্যানুসারে আমরা বৃহস্পতিবার রাতেই তাকে নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে ওই ডিপ টিউবওয়েলের পাইপ শনাক্ত করে হত্যার আলামত পাই। ওই পাইপ উঠানোর জন্য কুমিল্লার একটি নলকূপ খনন টিমের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে।
শনিবার দুপুর থেকে তারা খনন কাজ শুরু করেছেন। বাকি ঘাতকদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলেও জানা ওসি। সূত্র: রাইজিং বিডি