সিসি নিউজ: সৈয়দপুরে আন্তর্জাতিক নারী দিবসে ১৯ জন গ্রামীণ মহিয়সী নারীকে সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ ইনিশিয়েটিভস্ বাংলাদেশ(রিইব) এর উদ্যোগে ওই সম্মাননা প্রদান করা হয়। শহরের পৌরসভা সড়কস্থ প্রতিষ্ঠানের সৈয়দপুর আঞ্চলিক অফিসের ড. কোরবান আলী কনফারেন্স রুমে এ সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রিইব’র চেয়ারম্যান এবং জাতিসংঘের সোমালিয়া জাতিগত সংঘাত নিরসনের কনসাল্ট্যান্ট আন্তর্জাতিক খ্যাতিমান মানবাধিকার কর্মী ড. শামসুল বারি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার কমিউনিটি লিগ্যাল সার্ভিস প্রকল্পের সমন্বয়কারী বদিউজ্জামান। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রিইব সৈয়দপুর অফিসের সমন্বয়কারী মতিউর রহমান।
কৃষি, মানবাধিকার,তথ্য অধিকার,নারী অধিকার,আদিবাসী সমাজের অধিকার,শিশু শিক্ষা,যৌথ উদ্যোগ,ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং গণগবেষণা এই ৯ ক্যাটাগরিতে এ সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। সম্মাননাপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে কৃষিতে নতুন প্রযুক্তি সম্প্রসারণ,তামাক চাষ দুর করা, আধুনিক জাতের বীজ ব্যবহার করে কৃষিতে নিজের পরিবর্তন,সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য ৩জন,মানবাধিকারের ক্ষেত্রে যারা গ্রাম পর্যায়ে সমাজের মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করছেন এমন ৩ জন,তথ্য অধিকার ব্যবহার করে সরকারী কাজে জবাবদিহিতা এনেছে এমন ১ জন, নারীদের ক্ষমতায়ন, পারিবারিক বিরোধ মীমাংসা, সালিশের অংশগ্রহনের জন্য ৩ জন, আদিবাসী সমাজের অধিকার রক্ষায় ৩ জন,শিশু শিক্ষার অবদানের জন্য ৩ জন,ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা ১ জন এবং গণগবেষনার মাধ্যমে নিজেরা একত্রিত হয়ে নিজেদের সমস্যা নিজেরা সমাধান করার ক্ষেত্রে অবদান রেখেছেন এমন ২ জনসহ মোট ১৯ জন।
প্রধান অতিথি ড. শামসুল বারি বলেন ওই সব খেটে খাওয়া মানুষই সমাজের মূল চালিকা শক্তি। আজকের বাংলাদেশ গঠনের ক্ষেত্রে তাদেরই সবচেয়ে বেশী অবদান। তাই তাদের সম্মাননা প্রদান করে তাদের সংগ্রামী জীবনের অংশীদার হয়েছে রিইব। এর সাথে জড়িত সবাইকে তিনি আন্তরিক অভিনন্দন ও ধন্যবাদ দেন। সম্মাননা প্রাপ্ত প্রত্যেক নারীকে একটি সার্টিফিকেট, একটি ক্রেস্ট এবং সাংসারিক ও কৃষি উপকরণ প্রদান করা হয়। সম্মাননা পাওয়ার পর সবাই ক্রেস্ট, সাটিফিকেট ও পুরষ্কার হাতে নিয়ে এক সাথে ‘আমরা করবো জয়’ গানটি গেয়ে উঠেন এবং মানুষের জন্য আরও বেশী কাজ করার দীপ্ত শপথ নেন।
সম্মাননা পেয়ে গ্রামীন গৃহবধু ফেন্সি বেগম বলেন, আমরা নিজেরা গণগবেষণা করে নিজেদের সমস্যা সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের এলাকায় চেয়ারম্যান বিচার-সালিশ করে আনিছুর রহমান নামক এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক রায় দিয়ে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল। আমরা গবেষণার দল আবার পুনরায় তদন্ত করে দেখতে পাই ঘটনা মিথ্যা। তাই আমরা আবার রায় দিয়েছি আনিছুর নির্দোষ। পরে কেউ আনিছুরকে আ র কিছুই করতে পারেনি। কামরুন নাহার ইরা বলেন, আমি অনেক দিন ধরে গ্রামীন মহিলাদের নিয়ে কাজ করছি। ৩টি বাল্য বিবাহ বন্ধ, যৌতুকের কারনে ৪ টি পরিবারে স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন ছিল। সেটা সমাধান এবং স্কুলে দুর্নীতি বন্ধ করেছি। রিইব আমার কাজের যে স্বীকৃতি দিল তা আমার কাজে স্পৃহা আরও বেড়ে গেল। কৃষাণী সুমিত্রা রানী রায় বলেন, আমরা স্বামীর সাথে মাঠে কাজ করি। কিন্তু কখনও কল্পনা করিনি যে পুরস্কার পাব। পুরস্কার পেয়ে আমার খুব ভাল লাগছে। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক মতিউর রহমান বলেন গ্রামীন নারীদের সম্মানিত করতে পেরে আমরাও গর্বিত। সাধারণতঃ সম্মাননা ও পুরস্কার পায় ওপরের লোকজন। কিন্তু রিইব ব্যতিক্রমধর্মী কাজ করে। বিধায় এমন ব্যতিক্রম অনুষ্ঠানের মাধ্যমে একেবারে তৃণমূল পর্যায়ের নারীদের সম্মাননা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।