জাহাঙ্গীর আলম, ফুলবাড়ি (কুড়িগ্রাম): একদিন ধরলা নদীর করাল গ্রাসে মিয়াজ উদ্দিন হারিয়ে ফেলে তার চাষের জমি আর বাস্তভিটে। ফলে দূর্বিসহ জীবন কাঁটাতে হয় তাকে স্ত্রীসন্তান নিয়ে। স্ত্রী আর্জিনা তখন সাংসারিক কষ্ট থেকে বাঁচার জন্য নতুন পথ খুঁজতে থাকেন। এমন সময় উপজেলা বিআরডিবি মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণের এক কর্মশালা হাতে নেয়। আর্জিনা সেখানে ৬ মাসের সফল প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।
তারপর প্রশিক্ষণ শেষে শুরু করেন বাড়িতে বসে গ্রামের মহিলা ও শিশুদের পোশাক সেলাইয়ের কাজ। কিন্তু পুঁজির অভাবে তা বাঁধা হয়ে পড়ে। এমন সময় তার কাছে আর্থিক সাহায্যের হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসে ঠেঙ্গামারা নামের একটি বেসরকারি সংস্থা । স্বল্প সুদে তারা আর্জিনাকে ৯ হাজার টাকা ঋণ দেয় । এবার নতুন পোশাক তৈরির কাজে হাত দেন আর্জিনা। অন্যদিকে স্বামী মিয়াজ গ্রামে গ্রামে স্ত্রীর তৈরি পোশাক ফেরি করে বিক্রি করে। ধীরে ধীরে তাদের ব্যবসার প্রসার ঘটতে থাকে। এবার সময় মতো ঋণের টাকা পরিশোধ করে পুনরায় ১৫ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে নানা রকম পাইকারি কাপড় ক্রয় করে। আবার তা পরিশোধ করে নতুন ঋণ গ্রহণ করেন।
এ ভাবে আর্জিনা এখন একজন সফল ব্যবসায়ী। সে ব্যবসার লাভ থেকে এখন ৪টি গরু ও ৩বিঘে জমির গর্বিত মালিক। ফুলবাড়ি উপজেলার পশ্চিশ ধনিরাম গ্রামের আর্জিনা বেগম(২৮) এক পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জননী। আর্জিনা তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানান, সে ব্যাংকের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের ঋণ পেলে গ্রামের অসহায় ও দুঃস্থ মহিলাদের জন্য একটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তুলবে। আর্জিনা এখন একজন সফল নারী উদ্যোক্তা হবার স্বপ্ন দেখে।