এম আর মহসিন: আবহাওয়া অনুকূল থাকায় নীলফামারী সৈয়দপুরের আম ও জাম্বুরা (বাতাবি লেবু) গাছগুলো ফুলে ফুলে ভরে গেছে। তাই এ মৌসুমে আম ও জাম্বুরার বাম্পার ফলনের আশা করছেন স্থানীয় কৃষি অফিসসহ সংশ্লিষ্ট চাষিরা।
উপজেলার লক্ষণপুর লালদীঘি এলাকার সেভেনটি নামের এক চাষি জানান, তার বাড়ির আশপাশ এলাকায় ১৫ বিঘা জমিতে তিনি আমের বাগান করেছেন। সেখানে ছোট বড় মিলে আম গাছ রয়েছে প্রায় ৪শটি। গত মৌসুমে গাছে মুকুল তেমন একটা না হলেও এবারে মুকুলে মুকুলে ভরে গেছে। তিনি বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থেকে মুকুলের মতো যদি আম জন্মায় এবং বড় হয় তাহলে অর্ধকোটি টাকার মতো আম বিক্রি করতে পারবেন বলে জানান তিনি। এছাড়া উপজেলার বোতলাগাড়ী ইউনিয়নের বাটু সরকার, কামারপুকুর ইউনিয়নের ফয়েজ আহমেদসহ প্রায় ৫০টির মতো চাষি জানান, তাদের বাগানে রয়েছে প্রায় হাজার খানিক আম গাছ। গত বছরের তুলনায় এবারে মুকুল ধরেছে দ্বিগুন। যদি আবহাওয়া অনুকূলে এবং বৈরি আবহাওয়ায় না পড়ে তাহলে তাদের বাগানের আম দিয়ে সৈয়দপুরের চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য এলাকারও চাহিদা মেটাতে পারবেন। তাদের বাগানের আম বিক্রি করে কোটি টাকা আয় করতেও পারবেন বলে জানান তারা।
অন্যদিকে এন্টিবায়োটিক ফল হিসেবে দেশ জুড়ে পরিচিত রয়েছে জাম্বুরা (বাতাবি লেবু) ফল। জ্বর, জন্ডিস ও ডায়াবেটিস রোগের মহোৎসব বলেও জানান শহরের নামিদামি কবিরাজরা। তাছাড়া অন্যান্য ফল খেতে ফরমালিন ও কার্বোরাইড এর ভয় থাকলেও জাম্বুরা ফল থাকে নির্ভেজাল। গত ৩/৪ বছর আগে জাম্বুরা ফলের চাহিদা তুলনামূলক কম থাকলেও গত বছর থেকে এর চাহিদা বেড়েগেছে দ্বিগুন। একদিকে যেমন জাম্বুরার চাহিদা বেড়ে গেছে। অন্যদিকে গত বছরের তুলনায় জাম্বুরা গাছে মুকুলও ধরেছে দ্বিগুন। শুধুমাত্র বৈরি আবহাওয়ায় না পড়ে তাহলে জাম্বুরাগুলি বড় হয়ে একেকটি জাম্বুরা ৫০ থেকে ১০০টায় বিক্রি হতে পারে বলে জহুরুল ইসলাম খোকন নামের এক জাম্বুরা গাছের বাগান মালিক জানান।
এ ব্যাপারে কথা হয় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হোমায়রা মন্ডলের সাথে। তিনি জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবারে আম গাছগুলো মুকুলে ভরে গেছে। পাশাপাশি জাম্বুরার (বাতাবি লেবু) ফলনও ভালো হতে পারে বলে আশা করা যায়।