দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরে অবৈধ সম্পর্কে গর্ভপাত ঘটানোর মামলায় প্রতারক প্রেমিক ও চিকিৎসকের ৮ বছর সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ১০ হাজার টাকা অনাদায়ে আরও এক বছর সাজা দিয়েছেন।
মঙ্গলবার দুপুরে দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের (২) বিচারক মাহমুদুল করিম এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্তরা হলেন, বোচাগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের হাকিম উদ্দিনের ছেলে পিন্টু মোস্তাফিজুর রহমান এবং দিনাজপুর জেলারেল হাসপাতালের মহিলা ও গাইনি বিভাগের চিফ কনসালটেন্ট ডা. হজরত আলী।
এ দিকে রায় ঘোষণার পর দিনাজপুরে তোলপাড় শুরু হয়। চিকিৎসক সংগঠনের নেতারা আদালতে সাজাপ্রাপ্ত আসামি ডা. হজরতের ছবি তুলতে সাংবাদিকদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে সাংবাদিকরা ছবি তুললে ঘুষ দিয়ে তা ধামাচাপা দিতে দৌড়ঝাপ শুরু করে। অন্যদিকে মামলার রায় ঘোষণার পর ডা. হজরত আলীকে জেলহাজতে না পাঠিয়ে তাকে মহিলা হাজতে রাখা হয়।
বোচাগঞ্জ উপজেলার মুরারিপুর গ্রামের আমিনুল ইসলামের মেয়ে আনিসা বেগমের সঙ্গে একই উপজেলার ইসলামপুর গ্রামের হাকিম উদ্দিনের ছেলে পিন্টু মোস্তাফিজুর রহমানের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিভিন্ন প্রলোভনে আনিসার সঙ্গে মেলামেশা করে। এতে আনিসা গর্ভবতী হয়। পরে প্রেমিক পিন্টু জোরপূর্বক আনিসাকে ১৯৯৯ সালের ২৬ এপ্রিল দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে ডা. হজরত আলী গর্ভপাত ঘটায়।
এ ঘটনার পর আনিসা বাদী হয়ে বোচাগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করে। মামলাটি ২০০৪ সালে আমলে নেন দিনাজপুর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-২। মঙ্গলবার ওই মামলার রায় দেন আদালত।