নীলফামারী প্রতিনিধি: ভারতের গজলডোবার গেটে খুলে দেয়া আর উজানের ভারী বর্ষন এবং পাহাড়ী ঢলে মৃতপ্রায় তিস্তা নদীরতে পানির ঢল নেমেছে। আজ গভীর রাত থেকে পানি বাড়তে বাড়তে সকাল ৬টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার (৫২দশমিক ৪০মিটার) ২৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সকাল নটায় আট সেন্টিমিটার কমে বিপদসীমার ১৬ সেন্টিমিটার এবং দুপুর ১২টায় ১০ সেন্টিমিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। হঠাৎ পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার ভাটি ও উজানের বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদিকে পানি নিয়ন্ত্রণে আনতে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি গেটে খুলে রেখেছে ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড।
ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান জানান, ‘ভারীবর্ষণ আর পাহাড়ী ঢলে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৪০ মিটার) ২৪ মিটার উপড় দিয়ে প্রবাহিত হলেও দুপুর ১২টার দিকে আট সেন্টিমিটার কমে এসেছে। তবে এই পানি বেশিক্ষন স্থায়ী থাকবেনা। খুব শীঘ্রই নেমে যাবে। তাছাড়া পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যারাজের সবকটি গেট খুলে রাখা হয়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে কোন এলাকা প্লাবিত হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমার কাছে এমন কোন সংবাদ আসেনি বা পায়নি।
এদিকে পানি বৃদ্ধির ফলে তিস্তার নদীর সংলগ্ন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার খালিশাচাপানী ইউনিয়নের ৫নং ওয়াডের পশ্চিম বাইশপুকুর গ্রাম প্লাবিত হওয়ায় ওই গ্রামের ৪০টি পরিবার, রাস্তাঘাট, ফসলী জমি কোমড় পানিতে তলিয়ে রয়েছে। এছাড়াও ডিমলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি ও গয়াবাড়ি এবং জলঢাকা উপজেলার শৌলমারি ও ডাউয়াবাড়ি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম হাটু পানিতে তলিয়ে রয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানগণ।
ডিমলা উপজেলার খালিশাচাপানী ইউনিয়নের ৫নং ওয়াড সদস্য রমজান আলী জানান, সোমবার দিবাগত রাত ১টার দিকে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে ভোর ৪টার দিকে পশ্চিম বাইশপুকুর গ্রামে পানি প্রবেশ করে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে গ্রামের ৪০টি পরিবারের ঘরবাড়ি, গ্রামের রাস্তা ঘাট কোমড়পানিতে তলিয়ে যায়। এসময় ওই পরিবার গুলোর ঘরে থাকা হাঁস মুরগী পানিতে ভেসে গেলেও পরিবারের লোকজনদের সরিয়ে নেয়া হয়েছে।
খালিশা চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল হক জানান, রাত থেকেই তিস্তা নদীর সংলগ্ন ইউনিয়নের পশ্চিম বাইশপুকুর গ্রামে পানি ঢুকতে শুরু করে। তবে বেলা ১১টার দিকে পানি নামতে শুরু করেছে। খুব শীঘ্রই পানি নেমে যাবে মনে হচ্ছে।