মাহবুবুল হক খান, দিনাজপুর : দিনাজপুরে ৫ জানুয়ারীর নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্গত ১১টি উপজেলায় ১২৮টি মামলার তদন্ত শেষে আদালতে চার্জশীট প্রদান করেছে পুলিশ।
দিনাজপুর চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের একটি সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারীতে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ৫টি সংসদীয় আসনের অন্তর্গত ১১টি উপজেলায় ভোট গ্রহণ করা হয়। এ নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের কেন্দ্র দখল ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডে ১২৮টি মামলায় ২০১৪ সালের অক্টোবর থেকে চলতি বছর ২০ জুন পর্যন্ত মামলা তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে চার্জশীট পেশ করে।
সূত্রটি জানায়, দন্ডবিধি এবং বিস্ফোরক আইনে একত্রিত থাকায় এসব ঘটনায় ১টি মামলায় নিয়মিত ও বিস্ফোরক আইনে পৃথক ২টি চার্জশীট দাখিল করা হয়। নিয়মিত আইনের মামলাগুলো জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এবং বিস্ফোরক আইনের মামলাগুলো দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
১২৮টি মামলায় আসামী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে সাড়ে ৭ হাজার বিএনপি-ছাত্রদল-যুবদল-জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীকে। এদের মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার আসামীকে গ্রেফতার করা হয়। আসামীদের মধ্যে এখনও ৪ হাজার পলাতক রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী করা হয়েছে।
দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর এ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম জানান, আদালত থেকে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারীর দীর্ঘসময় অতিবাহিত হলেও আসামীরা গ্রেফতার না হওয়ায় বিচার প্রক্রিয়া ধীর গতিতে রয়েছে। আসামীদের গ্রেফতারের বিষয়টি পুলিশ সুপার কার্যালয়কে অবহিত করা হয়েছে। পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের ব্যাপারে পুলিশের নিস্ক্রিয়তা ও রহস্যজনক নিরবতা রয়েছে।
১২২৬ জন বিএনপি, জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আরো অজ্ঞাতনামা ২৫ হাজার ৩০০ নেতাকর্মীকে মামলার আসামী করা হয়েছিল। দায়েরকৃত মামলার বাদীরা হলেন ভোট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্য। মামলাগুলো পুলিশ তদন্ত কার্যক্রমে সহিংস ঘটনায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ ও চিত্র দেখে আসামীদের চিহ্নিত করেছেন। ভিডিও ফুটেজগুলো চিহ্নিত আসামীদের অনেকেই গ্রেফতার হচ্ছে এবং অনেকেই গ্রেফতার এড়াতে পালিয়ে রয়েছেন। আসামীদের মধ্যে বেসরকারি স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকের সংখ্যা অনেক বেশি।
সূত্রটি জানায়, ১১টি উপজেলায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার আসামী সাড়ে ৩ হাজার বিএনপি-জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছেন। আসামীদের মধ্যে অধিকাংশই আদালত থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।