বিরামপুর ও ফুলবাড়ী প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুর রেলস্টেশন সড়কে বিজিবির সাথে চোরাচালানির সংঘর্ষ হয়েছে। এতে ২ জন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলেন, বিরামপুর পৌর এলাকাকা পূর্ব জগনাথপুর রেল কলোনী এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে ছেলে সুলতান (২৫) এবং একই এলাকার শুকুর আলী’র ছেলে শাহীন (৩০)। এলাকাবাসীর দাবী নিহত দু’জনেই চা দোকারদার। ঘটনাটি ঘটেছে,আজ মঙ্গলবার বিকেল ৫টায় বিরামপুর রেল স্টেশন চত্বরে। এ হতাহতের ঘটনা স্বীকার করেছেন, বর্ডা গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি’ দিনাজপুরের সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল মো.খালেকুজ্জামান।
সূত্র মতে, একদল চোরাকারবারী ভারতীয় শাড়ি ও জিরাসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে বিরামপুর রেল স্টেশনে অবস্থান করার সময় বিজিবি’র একটি টহল দল তাদের ধাওয়া করে। এ সময় চোরাকারবারীরা বিজিবিকে লক্ষ্য করে এলোপাথারী ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজিবি গুলি বর্ষণ করলে দুই জন নিহত হয়। এ সময় এক বিজিবি আহত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বিজিবি অহেতুক এলোপাথারী কমপক্ষে ১০/১২ রাউন্ড গুলি ছুঁড়লে নিরীহ দু’জন চা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছে কমপক্ষে আরও ৪ জন। বিজিবি ২৯ ফুলবাড়ী ব্যাটালিয়নের অধিনস্থ বিরামপুর বিজিবি বিশেষ ক্যাম্পের হাবিলদার তায়েজ এর নেতৃত্বে এ গুলি ছুঁড়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন। নিহতদের লাশ বিরামপুর হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্রে করে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহা-সড়ক প্রায় এক ঘন্টা অবরোধ করে রাখে উত্তেজিত জনতা। সন্ধা পৌনে ৬ থেকে বিরামপুর হাসপাতাল মোড় এলাকায় সড়ক অবরোধ করায় এতে সড়কের দু’ধারে আটকা পড়ে অসংখ্য যানবাহন। চরম দূর্ভোগ পোহাতে হয় রোজাদার ঘর মূখো মানুষদের। পরে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় ইফতারের আগে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সৈয়দপুর থেকে ছেড়ে আসা আন্ত:নগর তিতুমীর ট্রেনকে বিরামপুর রেলস্টেশনে আটকে দিয়েছে স্থানীয় জনগন।
এ নিয়ে এলাকাবাসী ও বিজিবি’র মধ্যে উত্তেজনা চলছে।