• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:০১ অপরাহ্ন |

ঘুষ: বরিশালে উপ-পুলিশ কমিশনার বরখাস্ত

Barisal-Police-Commissioner-BM00বরিশাল: ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জিললুর রহমানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে তাকে সিলেট রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার বেলা ৩টার দিকে স্বারাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রেরিত ফ্যাক্স বার্তায় এ সংক্রান্ত একটি নির্দেশনা বরিশাল পুলিশে আসে।

বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধরী জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশের বিষয়টি জিললুর রহমানকে জানিয়ে দেয়া হয়েছে। এর আগে একই ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ১০ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

তারা হলেন- সহকারি উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) আনিসুজ্জামান, মনির হোসেন ও হানিফ, নায়েক কবির হোসেন, গাড়ি চালক শহীদুল ইসলাম, বাবলু জোমাদ্দা ও দোলন বড়াল, কনস্টেবল তাপস কুমার এবং রেশন স্টোরকিপার আব্বাস উদ্দিন এবং আরিফুর রহমান।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শৈবাল কান্তি চৌধরী বলেন, গত বছর পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও পদোন্নতি হচ্ছিল না বিএমপিতে কর্মরত ২৩০ পুলিশ সদস্যের। পদোন্নতির আশায় ওই পুলিশ সদস্যের কাছ থেকে টাকা তুলে বরখাস্ত ১০ জন ‘ঘুষের তহবিল’ গঠন করেছিলেন। যার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন উপ-পুলিশ কমিশনার জিললুর রহমান।

বিষয়টি বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চমহলে জানাজানি হলে জড়িত ১০ পুলিশ সদস্যের বরখাস্ত আদেশ সোমবার সদর দপ্তর থেকে ফ্যাক্স যোগে বরিশালে পৌঁছে। এরপরেই তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ সূত্র জানায়, পুলিশের বিভিন্ন পদে পাঁচ হাজার ৯০ জন জনবল চেয়ে অনেক আগে পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দেয়া হয়েছিল। ওই আবেদনের প্রেক্ষিতে ৮০৫টি পদ সৃষ্টি হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে নিয়োগ দেয়নি সদরদপ্তর।

কিন্তু এক বছর আগে পদোন্নতি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কয়েকজন মন্ত্রণালয়ে উৎকোচ দিয়ে ওইসব পদে নিয়োগ পেতে গোপনে সবার কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করছিলেন।

“তারা এএসআই থেকে এসআই, নায়েক থেকে এএসআই এবং কনস্টেবল থেকে নায়েক পদে পদোন্নতির কথা বলে প্রত্যেকের কাছ থেকে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়, যার মাধ্যমে মোট ৭৭ লাখ টাকার ওই অবৈধ তহবিল গঠিত হয়।”

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রধান কর্মকর্তা শৈবাল কান্তি চৌধুরী বলেন, টাকা রাখার জন্য ডাচ বাংলা ব্যাংকের বরিশাল শাখায় এএসআই আনিসুজ্জামান, নায়েক কবির হোসেন ও চালক বাবলু জোমাদ্দার একটি যৌথ হিসেব খোলেন। ৭৭ লাখ টাকার মধ্যে ১৭ লাখ টাকা ওই ব্যাংক অ্যাকাউন্টে রয়েছে। বাকি ৬০ লাখ টাকা বিএমপির উপ-কমিশনার জিললুল রহমানের কাছে জমা রাখা হয়েছে।”

শৈবাল কান্তি চৌধুরী বলেন, গত ১১ জুন ঢাকা সদর দপ্তরে গেলে তহবিল সংগ্রহের বিষয়টি তাকে জানানো হয়। এরপর ১৩ জুন বরিশালে ফিরে উপ-কমিশনার শোয়েব আহমেদকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্যে ঘটনার আরও খোঁজ-খবর নিয়ে ১৭ জুন আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে পুলিশ সদরদপ্তরের নিরাপত্তা সেল।

বরখাস্ত হওয়া ওই ১০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘুষের জন্য তহবিল গঠনের বিষয়টি তদন্ত কমিটির কাছে স্বীকার করেছেন। পরে তাদের সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।

এছাড়া পুলিশ সদরদপ্তরের নিরাপত্তা সেলের গঠিত কমিটির তদন্তে উপ-পুলিশ কমিশনার জিললুর রহমান জড়িত থাকার বিষয়টির সত্যতা পাওয়ায় তাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ