• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন |

নদীর নাম হতে পারে দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা!

Lalmonirhat-Dahogram-Tista-Pic-9-e1435974498961লালমনিরহাট: ভারতের গজল ডোবা গেট খুলে দিলে দহগ্রাম আঙ্গোরপোতায় দেখা দেয় বন্যা।

আর বন্যার পর শুরু হয় ভাঙ্গন। যতই দিন যাচ্ছে দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা ছোট হয়ে পড়ছে। কোন একদিন নদীর নাম হতে পারে দহগ্রাম-আঙ্গোরপোতা। এভাবেই লালমনিরহাটের বহল আলোচিত দহগ্রাম -আঙ্গোরপোতার মানচিত্রের কথা বলছিলেন ৬৫ বছরের বৃদ্ধ আনছার আলী।
৬৫ বছরের বৃদ্ধ আনছার আলী আরো বলেন, কয়েক বছর আগেও দহগ্রাম ইউনিয়নটি প্রায় এক থেকে দেড় কিলোমিটার তিস্তার গর্ভে বিলিন হয়েছে। আর এবারও আরো এক  কিলোমিটার বিলিন হতে পারে।
স্থানীয়রা জনান, প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকা বর্ষাকালে ভরা নদী আর শুষ্ক মৌসুমে ধু-ধু বালু চরে পরিনত হয়। ফলে দারিদ্রতা বাড়ছে দীর্ঘ দিন ভারতের কাছে অবরুদ্ধ থাকা দহগ্রাম আঙ্গোরপোতায়। অর্থনীতির চাকাও যেন থেমে  যাচ্ছে এ অঞ্চলে।
দহগ্রামের সুরজ আলী বলেন, আমরা সব সময় থাকি বিপদে। কিছুদিন আগে ছিলাম ভারতের জেল খানায় । আবার বন্যার পানি নেমে গেলে তিস্তার পর্শ্বে থাকা বসত  ভিটা, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হয়ে পরে। এতে প্রতিনিয়ত ছোট হয়ে যাচ্ছে দহগ্রামের মানচিত্র।
ফসলি জমি আর বসতবাড়ি হারিয়ে অনেকেই পথে বসে গেছেন। গত বছর থেকে এ পর্যন্ত  প্রায় শতাধিক পরিবার নদী ভাঙ্গনে সর্বস্ব হারিয়ে রাস্তার পাশ্বে মানবেতর জিবন যাপন করছেন।
দহগ্রাম ইউনিয়নের সর্দারপাড়া গ্রামের কৃষক দেলবর আলী(৪৮), সামছুল ইসলাম(৫০) জানান, এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমানে ধান, গম, ভুট্টা ও সবজি চাষ হলেও প্রতি বছরেই নদীগর্ভে বিলিন হচ্ছে ফসলি জমি। অবর্বদ্ধ জিবনের মুক্তি পেলেও, মুক্তি মিলছে না তিস্তার ভাঙ্গন ও বন্যার প্রকোপ থেকে।
তিস্তার ভাঙ্গন এ অঞ্চলের উন্নয়নের এক মাত্র প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, তিস্তার ভাঙ্গনে প্রতি বছর বসত বাড়িসহ ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলিন হওয়ায় অর্থনৈতিক
ভাবে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা।
দহগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, প্রায় ১০ বছর পূর্বে তিস্তার মুল ধারা দহগ্রামে ছিল না। ছোট একটি নালা ভারত ভুখন্ড থেকে বের হয়ে এখন খরস্রোত তিস্তায় পরিনত হয়েছে। এর ভাঙ্গনে প্রতি বছর ছোট হচ্ছে দহগ্রাম আঙ্গোরপোতা ভুখন্ডের মানচিত্র।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড দহগ্রামে তিস্তার ভাঙ্গন রোধে দুইটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়াতে কাজ বন্ধ রেখেছে । পানি কমে গেলেই কাজ শুরু করবে ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ