• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৫ অপরাহ্ন |

অনলাইনে ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষার আহ্বান

passপ্রযুক্তি ডেস্ক: অনলাইন ব্যবহারের সময়ে ব্যবহারকারী যেসব তথ্য জানছেন সেগুলোর উপাত্ত ওলটপালট করে দিয়ে ব্যবহারকারীর পরিচয় গোপন রাখা প্রয়োজন বলে মনে করেন জাতিসংঘের একজন তদন্তকারী। তিনি জানান, অপরাধীরা সুবিধা নিতে পারে এই ঝুঁকি সত্ত্বেও অনলাইন ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করা প্রয়োজন।

জাতিসংঘের স্পেশাল র্যা পোর্টিয়ার ডেভিড কে অনলাইনব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য গোপন রাখার ব্যবস্থা বা এনক্রিপ্ট না রাখা হলে যেসব ঝুঁকি তৈরি হয় তার উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ইন্টারনেট ব্যবহারকে নিরাপদ করার জন্য রাষ্ট্রগুলোর অনেক কিছুই করার আছে।

তবে, তার এই প্রস্তাব বিভিন্ন দেশের সরকারগুলোর কাছ থেকে বিরোধীতার মুখে পড়েছে যাদের মধ্যে মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী এমন দেশের সরকারও রয়েছে।

ব্লগার এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা যখন বাস্তব জগতের তুলনায় ডিজিটাল জগতে অনেক বেশি হয়রানির মুখোমুখি হয়ে থাকেন। তখন ব্যক্তির গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়টির গুরুত্বই আলাদা। এই যুক্তি তুলে ধরে ডেভিড কে সরকারগুলোর প্রতি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের তথ্য এনক্রিপ্ট করার ধারণা গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানান।এই এনক্রিপশন ব্যবস্থায় ইন্টারনেট ব্যবহারকারী পরিচয় অজ্ঞাত হিসাবে থাকার সুবিধা পান। আন্দোলনকারী, সাংবাদিক এবং শিক্ষক ও গবেষকদের অনেকেই ইতোমধ্যেই এই কৌশল অনুসরণ করে ইন্টারনেট ব্যবহার করে থাকেন। তবে, সরকারগুলো এই এনক্রিপশনের বিরোধীতা করে বলছে যে এধরণের ব্যবস্থা অপরাধী ও সন্ত্রাসবাদী চক্রগুলোকে নিরাপত্তাবাহিনীকে পাশ কাটিয়ে চলার সুবিধা করে দেবে।

জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের বৈঠকে প্রথমবারের মত বক্তৃতা দিতে গিয়ে মি কে তার উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।

মি কে বলছিলেন যে এখানে দূর্ভাগ্যজনকভাবে এমন উদ্বেগজনক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে যেখানে রাষ্ট্র হয় এনক্রিপশন এবং পরিচয় গোপন করা নিষিদ্ধ করছে অথবা তাতে এমন মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ আরোপ করছে যাতে কার্যত তা অর্থহীন হয়ে পড়ছে। এর ফলে ব্যাক্তির গোপনীয়তা রক্ষা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন হচ্ছে।

মি কে বলেন যে তিনি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর নজরদারি বা তা তদন্ত করার বিরুদ্ধে নন, তবে তা হতে হবে আদালতের অনুমোদনক্রমে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে কম্পিউটার প্রস্তুতকারকদেরকে সরকারগুলো যদি ব্যবহারকারীর তথ্য গোপনে সংগ্রহের ব্যবস্থা রাখতে বাধ্য করে তাহলে বেপরোয়া বা নির্বতনকারী সরকারগুলো তা অপব্যবহার করবে। তিনি বলেন সন্ত্রাসীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের আশংকা যেভাবে দেখানো হয় তা বাস্তবের সাথে সঙ্গতির্পূণ নয়।

মি কে বলছিলেন যে আপনি যদি ওসামা বিন লাদেনের লুকিয়ে থাকার বাড়িটিতে যেসব জিনিষ পাওয়া গেছে সেগুলোর প্রতি নজর দেন তাহলে দেখবেন যে সেখানে পেন ড্রাইভের মতো জিনিষ ছিলো যেগুলো বাহক মারফত আনা-নেওয়া হত। তারা অতোটা কাঁচা নয় যে তারা মনে করবে যে অনলাইন ব্যবহার করে তথ্য আদানপ্রদান করলে সেগুলো গোপন রাখা সম্ভব। আমার মনে হয় অনেক লোকই, বিশেষ করে অপরাধজগতে অনেকেই ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। তারা এর বাইরে অন্য কিছুর ওপর নির্ভরশীল।

জাতিসংঘ অনুসন্ধানকারী বলেন যে কিছু রাষ্ট্র ইন্টারনেটকে শত্রু মনে করে। তিনি বলেন যে ওর্য়াল্ড ওয়াইড ওয়েবে প্রবেশাধিকার বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে মৌলিক মানবাধিকার লংঘন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ