সিসি ডেস্ক: ঢাকার ৩৩টি ক্যাম্পের উর্দুভাষী বিহারিদের পুনর্বাসনের জন্য ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলোতে উপযুক্ত স্থান খুঁজে বের করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ওইসব জেলার জেলা প্রশাসকদের (ডিসি)। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রক্রিয়াটির সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূলত রাজধানীতে জনগণের চাপ কমাতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, যেহেতু বেনারসী এবং জামদানি শাড়ি তৈরিসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী কাজের সঙ্গে তারা যুক্ত তাই তাদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত আবাসন গড়ার লক্ষ্যেই প্রধানমন্ত্রী শেখা হাসিনার উদ্যোগে শহরের মধ্যে থেকে এসব বিহারি ক্যাম্প স্থানান্তর প্রক্রিয়া চলছে।
তারা আরও জানিয়েছে, ঢাকার ৩৩টি ক্যাম্পে প্রায় এক লাখ উর্দুভাষী লোক বসবাস করছে।
গত বছর কুর্মিটোলা বিহারি ক্যাম্পের জমি দখলের উদ্দেশ্যে স্থানীয় সরকারি দলের সংসদ সদস্যের কর্মীদের হাতে ১০ জন বিহারি নিহত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী এ উদ্যোগটি নিয়েছিলেন।
চলতি বছরের এপ্রিলে বিহারিদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তাদের ঢাকার বাইরে একটি উপযুক্ত জায়গায় পুনর্বাসনের আশ্বাস দিয়েছিলেন তিনি।
ঢাকা ছাড়াও নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, চট্টগ্রাম, বগুড়া, রাজশাহী, যশোর, জামালপুর, পাবনা, মুন্সীগঞ্জ, রংপুর, নীলফামারী ও গাইবান্ধা জেলার মোট ৭০টি ক্যাম্পে প্রায় তিন লাখ বিহারি বসবাস করে।
সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) মহাপরিচালক শেখ ইউসুফ হারুনের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার দেওয়া প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়। যেহেতু বিহারি ক্যাম্প স্থানান্তর প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার দেওয়া কার্যক্রমের একটি অংশ তাই ওই বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব অমিত কুমার বাউল বলেন, ‘ক্যাম্পে বসবাসরত মানুষদের জন্য মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করতেই তাদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে, তাদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখনও তাদের স্থানান্তরের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে পাইনি আমরা।’
সম্প্রতি বাংলাদেশি পাসপোর্টের জন্যও আবেদন করা মোহাম্মদপুর বিহারি ক্যাম্পের বাসিন্দা ফারজানা নাজ বলেন, ‘ক্যাম্পের অবস্থা খুবই শোচনীয়। সেখানকার প্রতিটি বাড়ির একটি থেকে আরেকটি মাত্র দুই ফুট দূরে অবস্থিত। আর এই জায়গা দিয়েই ক্যাম্পের মানুষ, গৃহপালিত প্রাণী যাতায়াত করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িগুলো খুবই ছোট। আট ফুট দৈর্ঘ্য ও প্রস্থের বাড়িতেই পুরো পরিবারকে থাকতে হয়। এমনকি জায়গার অভাবে মাটিতে বিছানা করেই থাকতে হয় তাদের। এছাড়া সামান্য বৃষ্টি হলেই ক্যাম্পে বন্যা দেখা দেয় টয়লেট উপচে সবজায়গায় তা ছড়িয়ে পড়ে। আর এর ফলে ক্যাম্পবাসীরা প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছে নানান রোগে।’
তিনি আরও বলেন, ‘২০০৮ সালের এক আইনের মাধ্যমে আমাদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হলেও এখনও জন্ম নিবন্ধন, পাসপোর্ট ও নাগরিকত্বের অন্যান্য কাগজপত্র পেতে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়।’
জেনেভা ক্যাম্প স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, ‘ইতিমধ্যে ক্যাম্প স্থানান্তরের বিষয়ে আমাদের লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছি। সেখানে নতুন জায়গায় স্থানান্তর করতে হলে আমাদের কি কি মৌলিক অধিকার দিতে হবে সেগুলো সুনির্দিষ্ট করে দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশে মুক্তিযুদ্ধের পর থেকেই উর্দুভাষীরা বৈষম্য ও চরম দারিদ্রের মধ্যে জীবনযাপন করছে। আমরা বাংলাভাষী না হলেও এদেশে বাংলাদেশিদের মতোই বসবাস করতে চাই।’