• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন |

হেরে গেলো বাংলাদেশ

216847খেলাধুলা ডেস্ক: জয়ের জন্য খুব বেশি কঠিন কোন লক্ষ্য নয়। ১৪৯। তবু জয়ের ধারে-কাছে পর্যন্ত ঘেঁষতে পারেনি মাশরাফিরা। ১৮.৫ ওভারে অলআউট হয়ে গেছে ৯৬ রানে। শেষ পর্যন্ত পরাজয় ৫২ রানের বিশাল ব্যবধানে।

লক্ষ্য ছোট বলেই হয়তো শুরু থেকে খুব আত্মবিশ্বাসী দেখা গেলো তামিমকে। যে কারণে কাইল অ্যাবটের বলে হালকা আউট সুইঙ্গারটি বুঝতে পারলেন না তিনি। ছেড়ে দিলে নিশ্চি ওয়াইড। কিন্তু খেলতে গেলেন এবং ব্যাটের কানায় লাগিয়ে ক্যাচ তুলে দিলেন উইকেটের পেছনে কুইন্টন ডি ককের হাতে। দলীয় ৭ রানে গেল প্রথম উইকেট।

অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস দেখাতে গেলেন সৌম্য সরকারও। রয়ে-সয়ে, দেখে-শুনে খেলার চিন্তাটাই যেন উধাও হয়ে হেছে তাদের মাথা থেকে। ক্যাগিসো রাবাদার বাউন্সারকে খেলতে গেলেন চোখ বন্ধ করে। ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দিলেন জেপি ডুমিনির হাতে। জায়গায় দাঁড়িয়ে ক্যচটি তালুবন্দী করে নিলেন তিনি। ১৩ রানে পড়ল দ্বিতীয় উইকেট।

দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান সাকিব আল হাসান আর মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ভর করে প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশ অনেকদুর এগিয়ে যাবে। ৩৭ রানের জুটি গড়ে তারা দু’জন সে ইঙ্গিতই দিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ছন্দপতন। জেপি ডুমিনির বলে ডিপ মিডউইকেটে ক্যাচ তুলে দিলেন মুশফিক। জায়গায় দাঁড়িয়ে ক্যাচ লুফে নিলেন ডেভিড মিলার।

মুশফিক আউট হওয়ার পর আশা ছিল সাকিব-সাব্বির জুটি নিয়ে। সাব্বির নিজেকে নিয়ে বেশ উচ্চসিত ছিলেন। ফিনিশার হিসেবেই নিজেকে প্রমান করতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ডুমিনির বলে একি করলেন তিনি! রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে ঠিকমত ব্যাটেই লাগাতে পারলেন না। অবিশ্বাস্যভাবে আবার ক্যাচটিও ধরে ফেললেন ডি কক। ৭ বলে ৪ রান করে আউট হলেন তিনি। চার উইকেট গেল ৫৬ রানে।

এরপর মাঠে নামলেন নাসির হোসেন। প্রত্যাশার পাহাড় নিয়ে। কিন্তু সেই পাহাগেই সম্ভবত চাপা পড়লেন তিনি। মাঠে নেমে মাত্র দুটি বল মোকাবেলা করলেন। রান করলেন ১টি। এরপরই পাঙ্গিসোর বলে শট কভারে রিলো রুশোর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন তিনি।

তখনও আশার প্রতীক হয়ে ছিলেন সাকিব আল হাসান। লিটন দাসকে নিয়ে বেশ ভালোই খেলে যাচ্ছিলেন তিনি। ৩০ বলে ২৬ রানের একটি ইনিংসও খেলে ফেলেন। কিন্তু ডেভিড ওয়াইজের বলে ওয়েন পারনেলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফিরতে হলো তাকেও।  সাকিব আউট হয়ে যাওয়ার পরই বাংলাদেশের জয়ের সব আশা শেষ হয়ে যায়।

বাকি ছিল শুধুই পরাজয়ের আনুষ্ঠানিকতা। দেখার বিষয় সেই আনুষ্ঠানিকতা কতদুর টেনে নিতে পারেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তাতে যেন ঘোর আপত্তি তাদের। বাড়ি ফেরার তাড়া ভর করেছে যেন তাদের ব্যাটে। সুতরাং, দ্রুত উইকেট বিলিয়ে দিয়ে আসো।

অধিনায়ক মাশরাফি রাবাদার বলে একটি বাউন্ডারি মারলেন। পরের বলেই খেলতে গিয়ে ব্যাটের কানায় লাগান। ডিপ মিডউইকেটে তার ক্যাচ ধরেন ডি ভিলিয়ার্স। সোহাগ গাজী রানআউট হয়ে গেলেন দ্রুত একটি রান নিতে গিয়ে। ২ বল পরই শেষ ভরসার প্রতীক হয়ে থাকা অভিষিক্ত লিটন দাস আউট হলেন ২২ রান করে। ডেভিড ওয়াজের স্লোয়ারে সুইপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ দিলেন ডি ভিলিয়ার্সের হাতে।

সর্বশেষ পরাজয়ের ষোলকলা পূর্ণ করলেন মুস্তাফিজুর রহমান। ওয়েন পার্নেলের বলে বোল্ড হয়ে হেলেন তিনি মাত্র ১ রান করে। একইসঙ্গে ১৮.৫ ওভারে ৯৬ রান করে অলআউট হয়ে গেলো বাংলাদেশও।  প্রোটিয়াদের পক্ষে রাবাদা, ওয়াইজ এবং ডুমিনি নেন ২টি করে উইকেট। একটি করে উইকেট নেন কাইল অ্যাবট, ওয়াইন পার্নেল এবং পাঙ্গিসো।

সংক্ষিপ্ত স্কোর কার্ড

দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৪৮/৪, ২০ ওভার (ডু প্লেসিস ৭৯*, রিলে রুশো ৩১*, ডুমিনি ১৮, ডি কক ১২; আরাফাত সানি ২/১৯, নাসির ১/৩৭, সাকিব ১/২৪)।

বাংলাদেশ: ৯৬/১০, ১৮.৫ ওভার (সাকিব ২৬, লিটন ২২, মুশফিক ১৭, সৌম্য ৭, তামিম ৫, মাশরাফি ৫, সাব্বির ৪, সোহাগ ৩, নাসির ১, মুস্তাফিজ ১, আরাফাত ১*; রাবাদা ২/২৮, ওয়াইজ ২/১২, ডুমিনি ২/১১, অ্যাবট ১/১০, পার্নেল ১/১২, পাঙ্গিসো ১/২১)।

ফল: দক্ষিণ আফ্রিকা ৫২ রানে জয়ী। ম্যাচ সেরা: ফ্যাফ ডু প্লেসিস।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ