আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে আসছে বুলেট ট্রেন। বুলেট ট্রেনে চেপে কলকাতা থেকে দিল্লি পৌঁছে যাওয়া যাবে ১৪ ঘণ্টাতেই। আগামী বছর থেকে কাজ শুরু হবে বুলেট ট্রেনের।
ভারতের রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুলেট ও হাইস্প্রিড ট্রেন খরচসাপেক্ষ। তাই প্রাথমিক ভাবে সেমি হাইস্পিড ট্রেন চালু করা হবে। আগামী এক বছরের মধ্যেই পরীক্ষামূলক ভাবে তার দৌঁড় শুরু হয়ে যাবে।
ভারতে বুলেট ট্রেন চালু করার জন্য প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই স্বপ্ন দেখতেন নরেন্দ্র মোদী। তাই ঠিক হয়েছে প্রথম বুলেট ট্রেন চলবে আহমেদাবাদ -মুম্বাইয়ের মধ্যে। এক বছর আগে মোদীর ক্ষমতায় আসার সময় ওই প্রকল্পের খরচ ছিল ৬৪ হাজার কোটি টাকা।
সম্প্রতি রেল মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বতর্মানে ওই প্রকল্পের খরচ বেড়ে হয়েছে ৯০ হাজার কোটি টাকা। স্বভাবতই রেলের পক্ষে ওই অর্থ বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়। আর এত বড় মাপের প্রকল্পে টাকা ঢালতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না বিদেশি সংস্থাগুলিও। এই পরিস্থিতিতে ট্রেনের গতি বাড়ানোর প্রথম ধাপ হিসেবে তাই সেমি হাইস্পিডেই ভরসা করছে রেল মন্ত্রণালয়।
সেই লক্ষ্যেই বিশেষ ধরনের ট্রেন সেট প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেল। ইতিমধ্যেই ডাকা হয়েছে আন্তর্জাতিক দরপত্র। এর মধ্যে দু’টি ট্রেন সেট বিদেশ থেকে আনা হবে। বাকি ১৩টি ট্রেন সেট বানানো হবে ডানকুনিতে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যে দুটি ট্রেন সেট বিদেশ থেকে আনা হবে, প্রাথমিক ভাবে তার মধ্যে একটি ব্যবহার করা হবে রাজধানী হিসেবে। অন্যটি শতাব্দী এক্সপ্রেস হিসেবে।
এই প্রকল্পের সুফল ভোগ করবে পশ্চিমবঙ্গও। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী মোদীর মেক ইন ইন্ডিয়া ধারনাকে মাথায় রেখে বিদেশি সংস্থাকে ট্রেন সেট বানাতে হবে ভারতেই। ট্রেন সেট তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণ হবে রেলমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত ডানকুনির ইলেকট্রিক লোকো ইউনিটে।
শহরতলিতে যে লোকাল ট্রেন চলে তারই উন্নত ধাঁচের সংস্করণ হল ট্রেন সেট। ইঞ্জিনবিহীন গোটা ট্রেনটি একটি ‘সিঙ্গল ইউনিট‘। এগুলো দু‘দিকেই চলতে সক্ষম। সাধারণ দূরপাল্লার গাড়িগুলির তুলনায় এর কামরাগুলি পরস্পরের (স্কাফেনবার্গ কাপলারস) সঙ্গে অনেক দৃঢ় ভাবে সংযুক্ত থাকে। ফলে এই ট্রেনের গড় গতিবেগ সাধারণ ট্রেনের চেয়ে অনেক বেশি।
মন্ত্রণালয়েরর একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এরোডায়নামিক্সের কথা মাথায় রেখে প্রথম কামরাটি অনেকটা বুলেট ট্রেনের মতো ছুঁচলো হয়ে থাকে। যাতে বায়ুর ঘর্ষণজনিত বাধা উপেক্ষা করে ট্রেনটি দ্রুতগতিতে দৌঁড়তে সক্ষম হয়।’
রেল মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য, অন্তত ১৬০ কিলোমিটার গতিতে ওই ট্রেন চালানো। ফলে কলকাতা-দিল্লি রুটে অন্তত চার থেকে ছয় ঘণ্টা সময় সাশ্রয় হবে। অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন এই ট্রেনগুলি দ্রুত স্পিড যেমন তুলতে পারে, তেমনি দ্রুত থামতেও পারে। সেই সঙ্গে নিরাপদও।
এ ছাড়াও ট্রেন সেটের সব থেকে বড় ফায়দা হল বিদ্যুৎ সাশ্রয়। সাধারণ দূরপাল্লার ট্রেনের চেয়ে উন্নত প্রযুক্তির কারণে অনেক কম বিদ্যুতে দৌড়তে পারে এই ট্রেনগুলি।
চিনের একটি সংস্থা জানিয়েছে, তারা সে দেশে ট্রেন সেটের মাধ্যমে ওই গতিতে ট্রেন চালায়। একটি ট্রেন সেটের আয়ু ৩৫ বছর। প্রথম সাত বছর সেগুলির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে সংশ্লিষ্ট বিদেশি সংস্থাটি। পরে সেই দায়িত্ব তুলে দেওয়া হবে ভারতীয় রেলের হাতে। আর এই রক্ষণাবেক্ষণের জন্যও বেছে নেওয়া হয়েছে ডানকুনিকে।