• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

গাফফার চৌধুরীর সভা পণ্ড

Protest-at-Brooklynসিসি ডেস্ক: জনতার প্রতিবাদ আর প্রতিরোধের মুখে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবারের ব্যানারে নিউইয়র্কে আয়োজিত কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরীর আলোচনা সভা বাতিল ও পণ্ড হয়ে গেছে।

রোববার সন্ধ্যায় এই সভা হওয়ার কথা ছিল। প্রথমে সিটির জ্যামাইকাস্থ তাজমহল পার্টি সেন্টারে এই আলোচনা সভার আয়োজন করার কথা ছিল। গত ৩ জুলাই বাংলাদেশ মিশনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আল্লাহর নামসহ নবী-রাসুল, ধর্ম, ইসলাম প্রভৃতি স্পর্শকাতর বিষয়ে বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দেশ-প্রবাসে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার ফলে ‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি’ আর ব্যবসায়িক সুনাম নষ্টের আশঙ্কায় রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ এই আলোচনা সভা বাতিল করে।

এ ব্যাপারে তাজমহল পার্টি সেন্টারের অন্যতম স্বত্তাধিকারী মাসুম খান বলেন, ‘গাফফার চৌধুরীর বক্তব্য নিয়ে ফেসবুকে নানা রকম মন্তব্য দেখে আমরা ‘অপ্রীতিকর পরিস্থিতি’র আর ব্যবসায়িক সুনাম বিনষ্টের আশঙ্কায় আজকের (৫ জুলাই রোববার) আলোচনা সভা বাতিল করেছি। আমি এ ব্যাপারে বিস্তারিত আরকিছু বলতে চাই না। সবকিছুই তো বুঝতে পারছেন।’

পরবর্তীতে এই সভা ব্রুকলিনে করার উদ্যোগ নেয়া হলে সেখানে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ব্যাপক প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তুললে শেষ পর্যন্ত সভাটি পণ্ড হয়ে যায়।

৫ জুলাই রোববার তাজমহল পার্টি সেন্টারে আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবার, শহীদ পরিবার, মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতার পক্ষের উদ্যোগে ‘আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল’ অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন একুশে ফেব্রুয়ারির গানের রচয়িতা, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও লেখক আব্দুল গাফফার চৌধুরী। অনুষ্ঠানে অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে অবদুল মোমেন; বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিজ্ঞানী ও কাউন্সিলম্যান ড. নূরন নবী; সুনামগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য মতিউর রহমান; বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ মোহাম্মদ উল্লাহ; চলচ্চিত্রকার সৈয়দ কবীর আনোয়ার; মুক্তিযোদ্ধা ও সিলেট পৌরসভার সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান ফখরুল ইসলাম খান; মূলধারার রাজনীতিক মোর্শদ আলম; নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি কমান্ডার নূরুন নবী; বাংলাদেশ লীগ অব আমেরিকার সভাপতি বেদারুল ইসলাম বাবলা; বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক নিউইয়র্কের সাবেক সভাপতি কামাল আহমেদ; জালালাবাদ অ্যাসোসিয়েশন অব আমেরিকার সভাপতি বদরুল হোসেন খান; স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায় ও শহীদ হাসান। আলোচনা সভা আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন শরাফ সরকার, প্রধান সমন্বয়কারী ড. শাহজাহান মাহমুদ আর সদস্য সচিব হাজী এনাম।

তবে রোববারের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদসহ দলে শীর্ষ স্থানীয় অনেক নেতাই অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণ পাননি। অনুষ্ঠান পণ্ড হওয়ার আগে এ বিষয়ে ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু আমি আওয়ামী লীগ করি, দলের সভাপতি। তাই আওয়ামী পরিবারের নামে আহুত যেকোনো অনুষ্ঠানে যাওয়ার অধিকার রাখি এবং এই আলোচনা সভায় আমি যোগ দেবো। দলের সকল নেতাকর্মীকেও এই অনুষ্ঠানে যোগ দেয়ার জন্য বলেছি।’

এ ব্যাপারে আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলের আহ্বায়ক শরাফ সরকার বলেন, ‘অন্যকোন কারণে নয় রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ মানা করার কারণেই তাজমহল পার্টি সেন্টারে আনুষ্ঠানটি হচ্ছে না।’

একাত্তরের বীর মুক্তিযোদ্ধার, বিশিষ্ট বিজ্ঞানী এবং যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের প্লেইন্স বরো সিটির কাউন্সিলম্যান ড. নূরন নবী বলেন, ‘বাংলাদেশ মিশনের অনুষ্ঠানে আব্দুল গাফফার চৌধুরী ইসলাম বা ধর্ম সম্পর্কে কোনো বিরূপ মন্তব্য করেননি। তার বক্তব্য পুরোপুরি না শুনেই অনেকে ভুল ধারণাবশত: যা না তাই মন্তব্য করছেন। এটা দুঃখজনক। গাফফার ভাইয়ের বক্তব্য পুরোপুরি শুনলে সবকিছু পরিষ্কার হয়ে যাবে। বাংলা ভাষার উৎপত্তি আর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ইতিকথা বলতে গিয়েই তিনি প্রাসঙ্গিকভাবে কিছু কথা বলেছেন, যা যুক্তি নির্ভর।’ বিএনপি-জামায়াতিরাই তার বক্তব্য বিকৃত করে ইস্যূ তৈরি করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেন ড. নবী।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রবাসী বলেন, ‘আমি অনুষ্ঠানে ছিলাম, গাফফার সাহেবের বক্তব্য শুনেছি। তবে তার বক্তব্য বিষয়বস্তুর (বাংলাদেশ: অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ) বাইরে চলে গিয়েছিল। আল্লাহর নামসহ নবী-রাসুল, ধর্ম, ইসলাম প্রভৃতি স্পর্শকাতর বিষয়ে এতো বক্তব্য না রাখলেই ভালো হতো। ওই অনুষ্ঠানে তিনি দেশ নিয়ে যতো না কথা বলেছেন তার চেয়ে বেশি কথা বলেছেন হিন্দু-মুসলিম বিষয়ে। যা অনেককেই বিব্রত করেছে। পাশাপাশি প্রশ্নকারী ২/১ সাংবাদিকের প্রশ্নও ছিল ‘সেনসেটিভ’।’

ব্রুকলিনে প্রতিবাদ-প্রতিরোধে সভা পণ্ড
গত ৩ জুলাই জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে প্রদত্ত আব্দুল গাফফার চৌধুরীর বক্তব্যে কমিউনিটিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হলে রোববার অপরাহ্নে তাজমহল পার্টি সেন্টার কর্তৃপক্ষ আলোচনা সভাটি বাতিল করার পর আয়োজকরা ব্রুকলিনে সভাটি করার সিদ্ধান্ত নেয়। এই খবর পেয়ে স্থানীয় জনতা সেখানে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। তারা ‘নারায়ে তাকবির, আল্লাহু আকবর’ শ্লোগান তুলে প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। প্রতিবাদকারীরা জুতাও প্রদর্শন করে। উদ্ভুত পরিস্থিতে আওয়ামী সমর্থকরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করলে স্থানীয় ম্যাকডোনাল্ড এভিনিউতে মারমুখি অবস্থার সৃষ্টি হয়। পুলিশও অবস্থান নেয় স্থানটিতে।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাকেক যুগ্ম-সম্পাদক বায়তুল জান্নাহ মসজিদ পরিচালনা কমিটির সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও সেক্রেটারি আব্দুর রহিম, প্রোগ্রেসিভ ফোরাম ইউএসএ’র সভাপতি অধ্যাপক নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি মাহবুবুল রহমান, মাওলানা ইব্রাহীম প্রমুখ ব্রুকলিনের প্রতিরোধ সমাবেশে নেতৃত্ব দেন।

উদ্বুত পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান উপস্থিত জনতার উদ্দেশে বলেন, ‘আমরা আওয়ামী লীগ করি। দেশের ৯০ ভাগ লোক ধর্ম সমর্থন করে। ধর্মকে অসম্মানিত করা আমাদের কাজ নয়। আওয়ামী লীগ সরকারও করে না। যারা আওয়ামী লীগের নামে আলোচনা সভা ডেকে জ্যামাইকার তাজমহল আর ব্রুকলিনে যুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করলো তারা কারা? তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘পবিত্র হজ আর ইসলাম সম্পর্কে কথা বলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাৎক্ষণিকভাবে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন।’

পবিত্র রমজান মাসে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আব্দুল গাফফার চৌধুরী তেমন কিছু বলে থাকলে তা খতিয়ে দেখে আমরা পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেবো।’

পরবর্তীতে পুলিশী হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। শেষ পর্যন্ত কলামিস্ট আব্দুল গাফফার চৌধুরীকে নিয়ে ব্রুকলিনেও আওয়ামী পরিবারের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল মূলত পণ্ড হয়ে যায়।

সেই সঙ্গে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন প্রধানের বাসায় অবস্থানকারী গাফফার চৌধুরী ওই সভায় যোগ দিতে ব্রুকলিনে পৌঁছেন। কিন্তু প্রতিবাদের মুখে তিনি গাড়ি থেকে না নেমেই ফিরে যান।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতৃত্বকে বাইরে রেখে ‘যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী পরিবার’ নামে আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-সমর্থকরা এই সভার আয়োজন করেছিলেন। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলের এক নেতা বলেন, ‘দলের নেতৃত্বের বাইরে গিয়ে সভার আয়োজন করায় আজ তা পণ্ড হলো। দলের মধ্যে ঐক্য থাকলে এমনটি হতো না বা কেউ এর প্রতিবাদ করা সাহসও পেতো না।’

গাফফার চৌধুরীর বক্তব্য
এদিকে এক টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্দুল গাফফার চৌধুরী বলেন, ‘আমার বক্তব্য না বুঝেই বিভ্রান্তকর বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। আমি ইসলাম বিরোধী কোনো বক্তব্য দেই নি। একাডেমিক সেমিনারে আমি আমার বক্তব্য ব্যাখ্যা দিয়ে বলার চেষ্টা করেছি। দেশের কিছু রাজনীতিক ও মৌলবাদী বিএনপি-জামায়াতিরা আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘যারা আমার বক্তব্যের বিরোধীতা করছেন তারা পুরো বক্তব্য না শুনেই ভুল বলছেন। যারা আমার বক্তব্য না বুঝে প্রতিবাদ করে তাদের চেয়েও বড় মুসলমান আমি।’ তিনি সকলকে তার বক্তব্য পুরোপুরি পড়ার আহ্বান জানান।

বাংলামেইল


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ