• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:১৬ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

দিশেহারা গ্রিসপ্রবাসী বাংলাদেশিরা

greecej61436181556আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গ্রিসে গণভোটের পর দিশেহারা হয়ে পড়েছেন দেশটিতে বসবাসরত প্রবাসীরা। গ্রিসে ২০ হাজার থেকে ৩৫ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশি রয়েছেন, তাদের সবার অবস্থা একই রকম। তারা আতঙ্কিত ও অনন্যোপায়।

 চরম আর্থিক সংকটে গ্রিস ছাড়তে শুরু করেছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশিরাও যে যেভাবে পারছেন পার্শ্ববর্তী ইতালি, ফ্রান্স ও যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাচ্ছেন। গত সপ্তাহে ব্যাংক লেনদেন এক সপ্তাহ বন্ধ রাখার ঘোষণার পর জীবনব্যয় নির্বাহের জন্য জমিয়ে রাখা অর্থ শেষ হলে না খেয়ে থাকা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।

 দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, গ্রিস সংকটে তাৎক্ষণিকভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। গ্রিসে বাংলাদেশিদের কারাখানায় কাজ করে থাকেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। বাংলাদেশিরা চালান, এমন ২৫০টি কারখানা রয়েছে গ্রিসে, যার মধ্যে অধিকাংশই পোশাক কারখানা। এসব কারখানায় প্রায় ৫ হাজার বাংলাদেশি কাজ করেন। আসন্ন বিপদে এরই মধ্যে অনেক বাংলাদেশি প্রবাসী গ্রিস ছেড়েছেন। আর যাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই, শেষ পর্যন্ত তাদের হয়তো দেশেই ফিরে আসতে হতে পারে- এমন আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 গ্রিস-সংকটে বাংলাদেশের রপ্তানি আয়েও প্রভাব পড়বে। সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বেকার হয়ে পড়বেন শ্রমিক এবং বন্ধ হয়ে যাবে কারখানাগুলো। এতে প্রবাসী আয় কমে যাবে। গ্রিসের অর্থনৈতিক সংকটের প্রভাব ইউরোপের অন্য দেশে পড়লে দেশের পোশাক রপ্তানির খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ৬০ শতাংশ রপ্তানি হয় ইউরোপের দেশগুলোতে।

 গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, গ্রিসে বাংলাদেশ কমিউনিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন জানিয়েছেন, বাংলাদেশিসহ সব বিদেশিই গ্রিসে আতঙ্কে আছেন। সামনের দিনগুলোতে কাজ ও ব্যবসাবাণিজ্য থাকবে কি না, তা নিয়ে ভয়ে আছেন তারা।

গত কয়েক বছরে গ্রিসের প্রায় দেড় লাখ ছোট-বড় কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। দেশটির আয়ের ১৬ শতাংশ আসে পর্যটন খাত থেকে। কিন্তু তাও এখন মুখ থুবড়ে পড়েছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে গেছে। এর পরও করের বোঝা বাড়ছেই। গ্রিসের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ‘গরিব বাঁচানো’র অঙ্গীকার নিয়ে ক্ষমতায় গেছেন। প্রধানমন্ত্রী অ্যালেক্সিস সিপরাস ক্যারিশম্যাটিক নেতা হিসেবে পরিচিত। দেশের মানুষকে তিনি বিপদ থেকে মুক্ত করতে পারবেন বলে বিশ্বাস করেন গ্রিকরা। যার প্রতিফলন দেখা গেছে রোববারের গণভোটে। তার আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রায় ৬৭ শতাংশ গ্রিক ভোট দিয়েছেন বেইল-আউটের শর্তের বিপরীতে। এখনো জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে সক্ষম হলেও, কত দিনে সংকট দূর হবে তার সঠিক নির্দেশনা দিতে পারেননি সিপরাস।

এদিকে সামনেই ঈদ। কিন্তু গ্রিসে বসবাসরত বাংলাদেশিরা এবারের ঈদ উপলক্ষে হয়তো টাকা পাঠাতে পারবেন না। এর প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপরও পড়বে।

গ্রিসের সামনে দুটি উপায়। এক. শর্ত মেনে বিদেশি দাতাগোষ্ঠীর ঋণ নেওয়া। দুই. ইউরোজোন থেকে বের হয়ে গিয়ে অন্য উপায়ে অর্থের সংস্থান করা। রোববার বেইল-আউটের ঋণের প্রস্তাব গণভোটে গ্রিকরা প্রত্যাখ্যান করার পর নতুন করে এ নিয়ে ইউরোপীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি গ্রিক নেতারা। জনমত পক্ষে থাকায় গ্রিক নেতারা ইইউ নেতাদের সঙ্গে এবং বিদেশি দাতাগোষ্ঠীর সঙ্গে দর-কষাকষির সুযোগ পাচ্ছেন। কিন্তু সেই সুযোগ দ্রুত কাজে না লাগাতে পারলে অথবা ইইউ নেতারা গ্রিসকে সুযোগ না দিলে দুরবস্থার শেষ থাকবে না। দুর্ভিক্ষও দেখা দিতে পারে দেশটিতে।

এ অবস্থায় গ্রিসে থাকা বাংলাদেশিরা উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন পার করছেন। প্রবাসীদের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করতে পারে সরকার। তাদের সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর রাখাও সরকারের দায়িত্ব।

তবে গ্রিসের জন্য ইউরোপীয় নেতারা কঠোর অবস্থান থেকে সরে এসে যদি নতুন ঋণ অনুমোদন দেন, তবে এই দুরবস্থা হয়তো কেটে যাবে। সে ক্ষেত্রে মহাসংকট আর থাকবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ