• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ছিটমহল জনগনণা: নীলফামারীতে ৩১ পরিবারের নিবন্ধন

unnamed5নীলফামারী: অত্যান্ত আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে সোমবার সকাল ৯টা থেকে শুরু হয় নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার অভ্যান্তরে থাকা ভারতীয় চারটি ছিটমহলে জনগননা। সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জনগণনার কাজ চলে।প্রথম দিন দুটি ছিটমহলের ৩১ পরিবার জনগননায় হাজির হয়ে নিবন্ধন করেছে। তবে তারা কেউ বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার মত পোষন করেননি।

সরেজমিনে দেখা যায় জনগণনার প্রথম দিন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার অভ্যান্তরে ভারতীয় ৪টি ছিটমহলে মধ্যে দুটি ছিটমহল যথাক্রমে ২৮ নম্বর বড় খানকাবাড়ি খারিজা ও ৩১নম্বর ছিটমহল নগর জিকাবাড়ীর বাসিন্দাদের জনগণনা করা হয়। ২৮ নম্বর ছিটমহল বাসিন্দারা ডিমলা শহীদ স্মৃতি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ক্যাম্পে ও ৩১ নম্বর নগর জিগাবাড়ীর বাসিন্দারা জয়নালে বাড়ীর আঙ্গিনা সংলগ্ন ক্যাম্পে জনগণনায় অংশ নেয়। ২৮ নম্বর ছিটমহলে জনগননাকারী হিসেবে ভারতের জয়দেব কুমার কে সহযোগীতা করছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি আজিজুল ইসলাম। ৩১ নম্বর নগর জিগাবাড়ী ছিটমহলে ভারতের সনজিব বসাক কে সহযোগীতা করছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান জুয়েল। সুপার ভাইজার হিসেবে ভারতের পক্ষে মেকলিগঞ্জ পৌরসভার ভুমি সংস্কার দপ্তরের কর্মকর্তা অমরেশ পাল ও বাংলাদেশের ডিমলা উপজেলা পরিসংখ্যান কর্মকর্তা এমদাদুল হক দায়িত্ব পালন করছেন। জনগণনার প্রথম দিন দুই ছিটমহলের মধ্যে ২৮ নম্বর ছিটমহলের ১৪টি পরিবার ও ৩১ নম্বর ছিটমহলে ১৭টি পরিবার জনগণনায় নাম নিমন্ধন করেন। এদের মধ্যে কোন পরিবার ভারতে যাওয়ার ইচ্ছা পোষন করেননি। এই দুই ছিটমহলের অন্যান্য পরিবার গুলো বাকী সময়ের মধ্যে জনগণনায় অংশ নিবে বলে জানায়। এ ছাড়া বাকী দুটি ছিটমহলের বাসিন্দাদের জনগণনা মঙ্গলবার থেকে শুরু করা হবে বলে জানান ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

নীলফামারীর জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, ডিমলা থানার অফিসার ইনচার্জ রহুল আমিন খান, খগাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম লিথন, টেপাখড়িবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম শাহিন ছিটমহলের জনগনন্ াকার্যক্রম পরিদর্শন করেন। মঙ্গলবার রংপুর বিভাগীয় কমিশনার দিলোয়ার বখ্ত ছিটমহলের জনগননা কার্যক্রম পরিদর্শনে আসবেন বলে প্রশাসন সুত্রে জানানো হয়।

নীলফামারী জেলা প্রশাসক জাকীর হোসেন বলেন, উৎসব মুখর পরিবেশে ছিটমহলবাসীরা জনগননায় অংশগ্রহন করছে। স্ব-স্ব ছিটমহল বাসী নির্দিষ্ট ক্যাম্পে এসে তালিকা ভুক্তিতে অংশ নিতে শুরু করেছে। জড়িপকাজ চলবে আগামী ১৬ জুলাই পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত জড়িপ ক্যাম্প খোলা থাকবে। ডিমলার অপর দুইটি ছিটমহলের জনগণনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ৪টি ছিটমহলের জনগননা সম্পন্ন করা হবে।

সুত্র মতে ২০১১ সালে নীলফামারীর ৪টি ছিটমহলে জনগণনায় মোট ১১৯টি পরিবারে ৪৯৬জন সদস্য ছিল। এরমধ্যে পুরুষ ২৫৮ ও নারী ২৪৮জন।গত চার বছরে ওই সংখ্যার অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন । এই সময়ের মধ্যে নতুন করে অনেকের জন্ম হয়েছে অনেকে আবার মারাও গিয়েছেন। সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি কি রয়েছে তা এই জনগণনায় স্পষ্ট হবে। পাশাপাশি ছিটমহলের বাসিন্দারা কোন দেশে থাকতে চান তা নিয়েও তথ্য সংগ্রহের কাজ করছে জনগণনায় নিযুক্ত দল।

ছিটমহলবাসীদের জন্য বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ
বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে ১৯৭৪ সালের স্বাক্ষরিত স্থল সীমানা চুক্তি এবং ২০১১ সালের প্রটোকলটি-কার্যকরের প্রেক্ষিতে ছিটমহল বাসীদের অবগতির জন্য উভয় দেশের প্রশাসন একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ১/ ৩১ জুলাই /২০১৫ এর মধ্যরাত থেকে বাংলাদেশের মূল ভুখন্ডে অবস্থি সকল ভারতীয় ছিটমহল বাংলাদেশের ভুখন্ড হিসাবে অন্তর্ভুত হবে। একইভাবে ভারতের অভ্যান্তরে অবস্থিত সকল বাংলাদেশী ছিটমহল ভারতের ভুখন্ড হিসাবে অন্তর্ভুত হবে।
২/ বাংলাদেশের অভ্যান্তরে অবস্থিত ভারতীয় ছিটমহলে/ভারতের অভ্যান্তরে অবস্থিত বাংলাদেশের ছিটমহলে ২০১১ সালে যৌথ শুমারীর হেড কাউন্ট) তালিকায় অন্তুভুক্ত ব্যাক্তি এবং এর পরে জন্মগ্রহনকারী তাদের সন্তানদের বাংলাদেশে/ভারতের নাগরিকত্ব প্রদান করা হবে। তারা বাংলাদেশের ? ভারতের নাগরিক হিসাবেন সকল সুযোগ সুবিধা প্রাপ্য হবেন।
৩/ জুলাই /২০১৫ এর প্রথ, দ্বিতীয় সপ্তাহে ভারত ও বাংলাদেশের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ জড়িপদল ছিটমহল সমুহ সফর ও ছিটমহল বাসিদের মতাতম সংগ্রহ করবেন। যে সব বাসিন্দা ভারতের নাগরিকত্ব বহাল রাখতে চান এবং ভারতের মূল ভুখন্ডে চলে যেতে চান তাদের উক্ত যৌথ জড়িপ দলের কাছে নিধারিত ফর্মে আবেদন করতে হবে। একইভাবে যে সব বাসিন্দা বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বহাল রাখতে চান এবং বাংলাদেশের মুল ভুখন্ডে চলে যেতে চান তাদের উক্ত যৌথ জড়িপ দলের কাছে নির্ধারত ফর্মে আবেদন করতে হবে।
৪/ যদি কোন ব্যাক্তি ভারতের /বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বহাল রাখার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তবে তাকে ১ আগষ্ট/২০১৫ হতে ৩০ নবেম্বর /২০১৫ তারিখের মধ্য প্রয়োজনীয় সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন পূর্বক বাংলাদেশের /ভারতের মুল ভুখন্ডে যেতে হবে। এই সু-নির্দিষ্ট সময় সীমার মধ্য এক দেশে থেকে অন্য দেশে যেতে ইচ্ছুক বাসিন্দাদের প্রয়োজনীয় ট্রাভেল পাস ইস্যু করা হবে।
৫/ যারা ভারত/ বাংলাদেশে যেতে চান তারা চিলাহাটি-হলদিবাড়ী ,বুড়িমারী-চ্যাংড়াবান্ধা,সাহেবগঞ্জ-বাগবন্দর চেক পোষ্ট পয়েন্ট দিয়ে যেতে পারবেন।
৬/ যারা ভারত/বাংলাদেশে যাবেন তারা টাকা পয়সাসহ অস্থাবর সম্পক্তি সাথে নিয়ে যেতে পারবেন।
৭/ ৩১ জুলাই /২০১৫ এর মধ্য ছিটমহলের কোন জমি আর বিক্রি করা যাবেনা। এ সময়ের পর ১ আগষ্ট থেকে ৩০ নবেম্বর /২০১৫ পর্যন্ত স্ব-স্ব স্থানীয় ডিসি/ডিএম-এর অনুমতিক্রমে জমি বিক্রি করা যাবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ