সিসি ডেস্ক: সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের কবর রাজধানীর চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে সরিয়ে তার জন্মস্থান বগুড়ায় পাঠানোর পরিকল্পনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
এ ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শাহ আজিজ ও যোগাযোগমন্ত্রী সবুর খানের কবর সরিয়ে তাদের জন্মস্থান কুষ্টিয়া ও খুলনায় পাঠানো হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী (একনেক) কমিটির সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার এ পরিকল্পনার কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ ভবন ও এর আশপাশের এলাকা নিয়ে স্থপতি লুই আই কান যে নকশা করেছিলেন, সেখানে কবরের জন্য স্থান নির্ধারিত ছিল না। হঠাৎ করে তিনজনকে সেখানে কবর দেওয়া হলো। সংসদ ভবনের ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি লুই কানের নকশা বাস্তবায়ন করতে গিয়ে কবরগুলো যদি সরানোর দরকার হয়, তাহলে সরকার তা-ই করবে।
এর আগে গত বছর ১৭ জুন একনেক সভায় জিয়াউর রহমানের কবর চন্দ্রিমা উদ্যান থেকে সরিয়ে অন্যত্র নেওয়ার কথা বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তখন এ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে লাগাতার আন্দোলনের হুমকি দিয়েছিল বিএনপি।
গতকাল রাজধানীর শেরে বাংলানগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি ও মন্ত্রীর কবর সরানোর আলোচনা উঠে আসে সংসদ ভবনের আধুনিকায়নে নেওয়া “সংসদ ভবনের পূর্তকাজ, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক উন্নয়ন প্রকল্পের” সূত্র ধরে। ১০৩ কোটি টাকা ব্যয়সংবলিত প্রকল্পটি গতকাল একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়।
এরপর আলোচনা শুরু করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ ভবন নিয়ে লুই আই কান যে নকশা তৈরি করেছেন, তার পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত কপি সরকারের কাছে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেটি আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সংসদ ভবন নিয়ে অনেক সমস্যা দেখা দিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ সমস্যা কাটাতে হলে লুই কানের নকশা বাস্তবায়ন জরুরি। আর সে জন্য আমূল সংস্কার আনতে হবে। আর সংস্কার আনতে হলে সেখান থেকে কবরগুলো সরাতে হবে। কবর সরিয়ে তাদের জন্মস্থানে পাঠানো হবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেছেন, চন্দ্রিমা উদ্যানের পাশের জায়গাটা খালি ছিল। সেখানে মাজার করার কোনো পরিকল্পনাই ছিল না। নিয়ম না মেনেই তা করা হয়েছে।
একনেকে প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যের পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সরকারের একাধিক নীতিনির্ধারক জানান, প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়কে শেরে বাংলানগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পাশে স্থানান্তর করা হবে। লুই আই কানের নকশায় সেখানে সচিবালয় নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী চান, ঢাকার যানজট কমাতে সচিবালয় শেরে বাংলানগরে স্থানান্তর করতে।
গত ৮ জুন পরিকল্পনা কমিশনে এ-সংক্রান্ত এক আন্তমন্ত্রণালয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
সচিবালয় স্থানান্তর করলে যানজট পরিস্থিতি কেমন দাঁড়াবে কিংবা তা এড়ানোর জন্য কী পরিকল্পনা নেওয়া যেতে পারে, এখন চলছে তার একটি পূর্ণাঙ্গ সমীক্ষা।
এরপরই প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হবে। আর সচিবালয় যদি শেরে বাংলানগরে চলে যায়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই জিয়াউর রহমানের কবর সেখান থেকে সরাতে হবে।
“সংসদ ভবনের পূর্তকাজ, বৈদ্যুতিক ও যান্ত্রিক উন্নয়ন প্রকল্পের” আওতায় সংসদ ভবন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হবে। এখন অনেক জায়গায় একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে যায়।
এ ছাড়া অনেক স্ল্যাব উঠে গেছে। সেগুলো নতুন করে লাগানো হবে। এসি ব্যবস্থার আধুনিকায়ন হবে। সামগ্রিকভাবে জাতীয় সংসদকে ঝকঝকে করার জন্য প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এর জন্য অর্থ জোগান দেওয়া হবে।
খবর: কালেরকণ্ঠ’র