সিসি নিউজ: নির্মাণ ও উৎপাদনমুখী শিল্পের জন্য বাংলাদেশ থেকে ইন্টার্ন বা শিক্ষানবিশ হিসেবে সর্বোচ্চ দুই হাজার কর্মকর্তা নেবে জাপান।
প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে বুধবার এ সংক্রান্ত একটি চুক্তিস্বাক্ষর হয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং আইএম জাপানের নির্বাহী চেয়ারম্যান কিওয়েই ইয়ানাগিসাওয়া এই চুক্তিস্বাক্ষর করেন।
জানা গেছে, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত এক সমঝোতা চুক্তির অধীনে বাংলাদেশ থেকে ন্যূনতম পাঁচশ’ থেকে সর্বোচ্চ দুই হাজার লোককে শিক্ষানবিশ ও বাণিজ্যিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় নেবে জাপান।
এছাড়া বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষানবিশদের প্রশিক্ষণ প্রদানে জনশক্তি, কর্মসংস্থা ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর মহাপরিচালক বেগম শামসুন নাহার এবং আইএম জাপানের জ্যেষ্ঠ নির্বাহী কাজুয়ও সুবোতা আরেকটি সমঝোতা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন।
চুক্তিস্বাক্ষর শেষে মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ বলেন, বাংলাদেশের তরুণরা জাপানে কারিগরি প্রশিক্ষণ নেবে এবং তিন বছর ধরে জাপানে তাদের অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা দেশে ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে।
শুরুতে পাঁচশ’ থেকে এক হাজার জন কারিগরি শিক্ষানবিশ নেয়া হলেও পর্যায়ক্রমে দুই হাজার জনকে নিয়োগ দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
কিওয়েই ইয়ানাগিসাওয়া জানান, বাংলাদেশ থেকে যাওয়া কারিগরি শিক্ষানবিশদের জাপানের নির্মাণ ও উৎপাদনমুখী খাতে কাজ করানো হবে এবং তাদের সফরের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে জাপানী প্রতিষ্ঠান।
জাপানের ভাষা, সংস্কৃতি এবং আচার-আচরণ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা অর্জনের জন্য প্রার্থীদের অন্তত চার মাসের জন্য বাংলাদেশেই একটি প্রাক-প্রাথমিক প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা নেবে মন্ত্রণালয়।
এরপর প্রশিক্ষণার্থীরা জাপান গিয়ে এক মাসের একটি সমন্বিত প্রশিক্ষণ কোর্স শেষে চুক্তি অনুযায়ী ১১ মাসের জন্য কোনো প্রতিষ্ঠানে কাজ করবেন। যারা এই এক বছরের কোর্সটি সফলভাবে শেষ করতে পারবেন, তাদের আরো দু’ বছরের একটি কারিগরি প্রশিক্ষণের জন্য যোগ্য মনে করা হবে।
পুরো সময়ে প্রত্যেক শিক্ষানবিশ প্রতি মাসে প্রশিক্ষণ ভাতা বাবদ জাপানী মুদ্রায় ৮০ হাজার ইয়েন পাবেন এবং যে প্রতিষ্ঠানে তারা কাজ করবেন, জাপানের শ্রম আইন অনুযায়ী সেখান থেকেও সম্মানী পাবেন।
সফলভাবে তিন বছরের প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা কারিগরি শিক্ষানবিশরা দেশে ফেরত আসার পর বাণিজ্যিক প্রণোদনা হিসেবে জাপানী মুদ্রায় ছয় লাখ ইয়েনের সমপরিমাণ টাকা পাবেন। এই অর্থ তারা নতুন ব্যবসা শুরু, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কাজে পুনঃনিয়োগের তহবিল হিসেবে পাবেন।