ঢাকা: সোনালী ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেয়ার নাম করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এমন একটি প্রতারক চক্রের প্রধান কথিত চৌধুরী গ্রুপের চেয়ারম্যান এমএ কাদের চৌধুরীসহ (৩৮) ওই চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
বুধবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সিনিয়র সহকারী পরিচালক মাকসুদুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
গ্রেপ্তারকৃত অন্য সদস্যরা হলেন- জাকির হোসেন (৩৮), মাহবুব মোরশেদ আলম (৪২), এমএ হোসেন (৫১), শিবলী নোমান (৩৯), মো. সিদ্দীক (৩১) ও জাফর ইকবাল (২৭)।
অভিযানে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত জাল ও ভূয়া কাগজপত্রাদি ও ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড সম্বলিত একটি পাজেরো জিপও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাব কর্মকর্তা মাকসুদুল আলম।
তিনি বলেন, ‘সোনালী ব্যাংকে চাকরি দেয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এ চক্রটি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে এমন অভিযোগ পাওয়ার পর র্যাব-৩ গুলশান-১ এর ২৩/এ নম্বর রোডের ১ নম্বর বাসার ৪/এ নম্বর ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করে।’
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার উপপরিচালক রুম্মান মাহমুদ জানান, এ চক্রটি দেশের বিভিন্ন স্থানে কৌশলে সাধারণ মানুষকে বানোয়াট গল্প বলে চাকরি ও ব্যবসার প্রলোভন দেখায়। চক্রটি কথিত চৌধুরী গ্রুপের নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে প্রতারণা করছে।
গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে তিনি জানান, কথিত চৌধুরী গ্রুপ রাষ্ট্রায়াত্ত সোনালী ব্যাংকে সারাদেশে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের দরপত্র পেয়েছে বলে নিরীহ মানুষকে টার্গেট করে প্রচারণা চালায়। এরপর নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার জামানত হিসেবে সাধারণ প্রার্থীদের কাছ থেকে ১২ হাজার থেকে ১৫ হাজার টাকা করে গ্রহণ করে। এ প্রক্রিয়ায় এক হাজারেরও বেশি প্রার্থীর কাছ থেকে তারা জামানতের টাকা নিয়েছে।
সোনালী ব্যাংকে নিয়োগের ভূয়া নিয়োগপত্র তৈরি করে চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে বিতরণ করেছে বলেও তিনি বাংলামেইলকে জানিয়েছেন।
এমএ কাদের ‘একটি বাড়ি একটি খামার’ প্রকল্পের কথা বলে বিভিন্ন এলাকার গ্রামের মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলেও র্যাবের কাছে অভিযোগ আছে বলে রুম্মান মাহমুদ জানিয়েছেন। কথিত কাদের তার জিপে সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মতো ফ্ল্যাগ স্ট্যান্ড এবং হুটার ব্যবহার করেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলামেইল