• বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
“ভালো থেকো আমার না হওয়া মহারানী” চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার

সৈয়দপুরে যৌতুক না পেয়ে গৃহবধুকে নির্যাতন

DSC00380সিসি নিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুরে যৌতুকের দাবি মেটাতে না পারায় স্বামি ও তার পরিবারের হাতে মধ্যযুগিয় নির্যাতনের শিকার হয়ে হাসিনা বানু(২২) নামে এক গৃহবধু হাসপাতালের বিছানায় অঘাতের যন্ত্রনায় ছটফট করছে। ঘটনাটি ঘটেছে রবিবার সকালে শহরের গোলাহাট পানির ট্যাংকি এলাকায়। এ নির্যাতনের ঘটনায় পুরো শহরজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের ওই এলাকার মৃত শামি আহমেদের দর্জি পুত্র মোঃ নাসিম(৩৫) এর সাথে একই শহরের কাপড় ব্যবসায়ি মোঃ সোলেমানের মেয়ে হাসিনা বানুর সাথে দুই পরিবারের সম্মত্বিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে ২০১২ সালের জানুয়ারি মাসে বিয়ে হয়। বিয়ের পরের বছরই হাসিনার কোল জুড়ে আসে একটি ফুটফুটে কন্যা সন্তান। তবে দাম্পত্য জিবনে কখনোই সুখি ছিলেন না গৃহবধু হাসিনা। কারন শরিরের রং কালো বলে স্বামির পরিবারের সকলেই খোটা দিত।আর এ সুযোগ কে কাজে লাগিয়ে হাসিনার প্রবাসি ভাইয়ের কাছে টাকা চেয়ে পাঠাত। এভাবে তার সংসারের যাবতিয় অভাব-অনটনের আবদার মেটাত হত পিতাকে। তারপরেও সুখ জুটতনা হাসিনার কপালে। স্বামি ও তার পরিবারের সদস্যদের শারিরিক নির্যাতনসহ গনজনা যেন ছিল তার নিয়তির প্রাপ্য। এনিয়ে দফায়-দফায় পিতা সোলেমান স্থানিয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠকের পর আবারো হাসিনাকে শ্বশুড়ালয়ে পাঠান। তবে কাজের কাজ কিছুই হয় না। সামান্য অজুহাতে নির্যাতন দিন-দিন বাড়তে থাকে। অবশেষে গত ২৫ অক্টোবর সকালে স্বামি নাসিম,দেবর ও ননদ মিলে নাসিমার ওপর শারিরিক নির্যাতন চালায়। এরপর অচেতন অবস্থায় তাকে তার পিতৃালয়ে ফেলে আসে পাষন্ড স্বামি নাসিম। পরে তাকে সংকটাপন্ন অবস্থায় সৈয়দপুর ১০০ শয্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
সৈয়দপুর হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, ১ নং বেডে চিকিৎসাধীন হাসিনা বেগম মাথার যন্ত্রনায় শুধুই কাতরাচ্ছেন। তিনি অস্পষ্ট স্বরে জানান, গায়ের রং কালো বলে সব সময়ই খোটা দিয়ে নিয়মিত মানষিক নির্যাতন করত সকলে। আবার অভাব দেখা দিলে বাবার বাড়ি পাঠাত টাকার জন্য। এভাবে বাবা মায়ের কাছে এনে তাদের সহযোগিতা করলেও তারা আমার ওপর কোন কারন ছাড়াই ক্ষেপে থাকত। আর মাড়ধর ছিল যেন আমার নিত্য পাওনা। আর ঘটনার দিন সংসারের বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে  লাঠি পেটাসহ প্লেট দিয়ে মাথায় আঘাত করে। এতে কান দিয়ে প্রচুর রক্ত ক্ষরন হয়। এখন চিকিৎসা চললেও ঘুমোতে পারছিনা। প্রচন্ড মাথা ব্যাথা করছে।
সৈয়দপুর ১০০ শয্য হাসপাতালের আরএমও ডাঃ আব্দুর রহিম জানান, কান দিয়ে রক্ত ক্ষরন হয়েছিল সেটি মাথায় ইনজুরির কারনে কি-না তা পরিক্ষার পর জানা যাবে। তবে সে এখোনো বিপদ মুক্ত নয়।
হাসিনার পিতা সোলেমান জানান, মেয়ের সুখের জন্য তাদের সব আবদার মেটালেও তাদের নির্যাতন বন্ধ হয় না। নগদ ৮০ হাজার টাকা ও লক্ষাধিক টাকার আসবাব দিয়ে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে অত্যন্ত জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিয়ে দেই। এরপর বিভিন্ন বাহানায় মেয়েকে পাঠিয়ে টাকা নিত। তারপরেও সুখ জুটলনা মেয়ের কপালে। এ কথা বলতে তিনিই সাংবাদিকদের সামনে হাউ-মাউ করে কেদে ওঠেন। তাই অসহায় এ পিতা মেয়ের নির্যাতনের বিচার পেতে দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনসহ স্থানিয় প্রশাসনের কাছে সহায়তা কমনা করছেন।
এ নিয়ে সৈয়দপুর থানার অফিসার্স ইনচার্য মোঃ আমিরুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি জানান, চিকিৎসাধীন গৃহবধু হাসিনা বেগমের ওপর নির্যাতনের কথা শুনেছি। তবে লিখিত ভাবে অভিযোগ পেলেই তদন্ত করে দ্রুত ব্যাবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ