চট্টগ্রাম : তিন হাজার টাকা ঋন নিয়ে ২ হাজার টাকা পরিশোধ করেছিলেন মোহাম্মদ রাশেদ নামের এক নিম্নআয়ের ব্যক্তি। আর মাত্র বাকি এক হাজার টাকা সময়মতো পরিশোধ করতে না পারায় পাওনাদারের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন মোহাম্মদ রাশেদের স্ত্রী।
চট্টগ্রামের বাকলিয়া থানার কল্পলোক আবাসিক এলাকায় একটি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ নামের ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠানের অফিসেই বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এই ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার রাতে বাকলিয়া থানায় মামলা দায়েরের পর ঘটনাটি জানাজানি হয়।
সর্বশেষ পুলিশ শনিবার ঘটনার সঙ্গে দুইজনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলো অ্যাডভোকেট মো. বাহাদুর (৩৫) এবং নুর মোহাম্মদ (৩৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে কল্পলোক আবাসিক এলাকার নুর মোহাম্মদের মালিকানাধীন একটি মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ থেকে মাত্র তিন হাজার টাকা ঋণ গ্রহণ করেন মোহাম্মদ রাশেদ। এই ঋণের দুই হাজার টাকা নির্ধারিত সময় অনুযায়ী পরিশোধও করে দেন। সর্বশেষ এক হাজার টাকা তার কাছে পাওনা ছিল। এই এক হাজার টাকা নভেম্বরের ১ তারিখের মধ্যেই পরিশোধের কথা ছিল। কিন্তু আর্থিক সঙ্কটের কারণে নির্ধারিত সময়ে ওই টাকা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হন রাশেদ।
ঋণের এক হাজার টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে মাল্টিপারপাস কোম্পানির মালিক নুর মোহাম্মদের দুই সহযোগী সাব্বির ও রাসেল নামের দুই যুবক রাশেদ ও তার স্ত্রীকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে মাল্টিপারপাস অফিসে বন্দি করে রাখে। এরপর দুই জনের ওপরই চালানো হয় নির্যাতন। গভীর রাতে রাশেদকে অন্য কক্ষে বেঁধে রেখে তার স্ত্রীকে গণধর্ষণ করে ৪ ব্যক্তি।
পরদিন শুক্রবার রাতে বন্দিদশা থেকে মুক্তি পেয়ে বাকলিয়া থানা পুলিশের শরণাপন্ন হন স্বামী স্ত্রী। শুক্রবার রাতে এই ঘটনায় ৪ ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ধর্ষিতা। পুলিশ মামলা নিয়েই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই ধর্ষককে গ্রেফতার করে।
বাকলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুই আসামিকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। অপর দুই আসামিকেও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ধর্ষিত গৃহবধূকে ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে ওসি জানান।