পিরোজপুর: পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে ‘ধর্ষণের’ ভিডিও চিত্র মুঠোফোনে ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এক তরুণকে গত বুধবার রাতে সালিসে জুতাপেটা করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রীর পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার একটি গ্রামের ওই তরুণ (২০) স্থানীয় একটি উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর (১৫) সঙ্গে কৌশলে ঘনিষ্ঠ হন। ওই তরুণ সম্প্রতি ছাত্রীটিকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন এবং কৌশলে এই দৃশ্য মুঠোফোনে ধারণ করেন। কয়েক দিন আগে তিনি ওই ভিডিও চিত্র স্থানীয় তরুণদের মুঠোফোনে ছড়িয়ে দেন। একপর্যায়ে বিষয়টি ছাত্রীর পরিবার ও এলাকাবাসীর নজরে আসে। পরে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি ছাত্রীর পরিবারকে বিচারের আশ্বাস দিয়ে বিষয়টি চেপে যেতে বলেন। এই প্রেক্ষাপটে বুধবার রাতে উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য পঙ্কজ কুমার মল্লিক সালিস ডাকেন। সেখানে ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ভিডিও চিত্র মুঠোফোনে ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার কথা ওই তরুণ স্বীকার করেন। পরে তাঁকে জুতাপেটা এবং বিয়ের সময় ছাত্রীর পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এরপর তাঁর এক চাচা তরুণকে জুতাপেটা করেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্কুলছাত্রীর এক আত্মীয় বলেন, মেয়েটির বাড়ি পাশের জেলায়। তার পরিবার এই এলাকায় জমি কিনে বাড়ি করে বসবাস করছে। আর তরুণের পরিবার স্থানীয়। তাঁরা বেশ প্রভাবশালী। এ কারণে মেয়ের পরিবার কোনো প্রতিবাদ বা মামলা করার সাহস পায়নি। ধর্ষণের ঘটনায় ছেলেটিকে জুতাপেটার শাস্তির নাম করে তাঁকে রক্ষা করা হয়েছে। এটি সালিসের নামে প্রহসন।
ইউপি সদস্য পঙ্কজ কুমার মল্লিক বলেন, ‘ছেলে ও মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আমি স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যক্তি নিয়ে এ সালিস করেছি।’ ধর্ষণের ঘটনায় বিচার করা যায় কি না প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের এলাকায় এ ধরনের ঘটনায় সামাজিক বিচারব্যবস্থার প্রচলন আছে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার মুঠোফোনে জানতে চাইলে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে ওই তরুণ বলেন, তিনি ওই স্কুলছাত্রীকে বিয়ে করতে চান। কিন্তু ছাত্রীর পরিবার তাঁর সঙ্গে বিয়ে দিতে রাজি না হওয়ায় তিনি অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও চিত্র মুঠোফোনে ধারণ করেন।
নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন মল্লিক গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ‘আমি ঘটনাটি আপনার কাছে প্রথম শুনলাম। ধর্ষণের ঘটনায় সালিস করা যায় না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’