সিসি নিউজ: এক স্কুল শিক্ষিকাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করার অভিযোগে শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার রংপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ভূক্তভোগী ওই শিক্ষিকা। বিষয়টি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত রংপুর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টটিগেশনকে (পিবিআই) ঘটনা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে।
বুধবার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) রফিক হাসনাঈন এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
পাবলিক প্রসিকিউটর বলেন, ঢাকার ধানমন্ডী এলাকার একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে বাংলা সাহিত্যের এক শিক্ষিকা চাকুরী করাকালীন প্রতিষ্ঠানের কো-কারিকুলাম স্কাউটিং নিয়োগ করেন এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ ও প্রোগ্রামে জাতীয় পর্যায়ে অংশ নেন। এরইমধ্যে স্কাউট সমিতির সহকারী পরিচালক ও ঝিনাইদহ জেলার আরাতপুর ক্যাডেট কলেজপাড়া এলাকার মতিয়ার রহমানের ছেলে লিয়াকত হোসেনের (৩৬) সাথে পরিচয় হয় ওই শিক্ষিকার। এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং লিয়াকত ওই শিক্ষিকাকে নানা রকম কু-প্রস্তাব দিলে শিক্ষিকা বিয়ে ব্যতীত কোন রকম দৈহিক সম্পর্ক স্থাপনে অস্বীকৃতি জানায়।
পরবর্তীতে লিয়াকত রংপুরে বদলী হয়ে আসেন এবং রংপুর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক ফারুকুজ্জামান এলাহীর (৪৫) সাথে যোগসাজস করে ওই শিক্ষিকাকে বিয়ের কথা বলে রংপুরে ডেকে আনেন।
পাবলিক প্রসিকিউটর আরো বলেন, ওই শিক্ষিকা বিয়ের আশায় গত ৪ অক্টোবর/১৫ ভোরে ঢাকা থেকে বাসযোগে রংপুর বাসস্ট্যান্ডে আসেন এবং ফারুকুজ্জামান তাকে বাসস্ট্যান্ড থেকে স্কাউটস ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে যান।পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অভিযুক্ত লিয়াকত জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে চাইলে ওই শিক্ষিকা তাতে বাধা দেন। একপর্যায়ে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন লিয়াকত।
পরে অপর অভিযুক্ত আসামী ফারুকুজ্জামান ওই শিক্ষিকার ধর্ষণের চিত্র ভিডিও ধারণ করেছেন বলে জানিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন এবং লিয়াকত খাবার আনার জন্য বাইরে চলে গেলে ফারুকজ্জুামানও তাকে ধর্ষণ করার জন্য চেষ্টা চালান। এসময় শিক্ষিকার চিৎকারে ওই ভবনের অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে ধর্ষণে ব্যার্থ হন ফারুকুজ্জামান।
পরবর্তীতে ওই শিক্ষিকা বিষয়টি কোতয়ালী থানায় লিখিতভাবে জানিয়ে ঢাকা চলে যান। এর কিছুদিন পর ওই শিক্ষিকা জানতে পারেন যে, অভিযোগের বিষয়টি থানা কর্তৃপক্ষ আমলে নেয়নি। তাই নিরুপায় হয়ে বুধবার আদালতে ধর্ষণ ও ধষর্ণের চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন তিনি। মামলায় লিয়াকতকে প্রধান ও ফারুকুজ্জামানকে ২ নং আসামী করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুল কাদের জিলানী বলেন,ধর্ষিতার একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সেটি তদন্ত করে মামলা রুজু করা হতো। তার আগেই তিনি আদালতে মামলা করেছেন।
রংপুর জেলা স্কাউটসের কমিশনার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তা সভাপতিকে অবহিত করেছি।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেষ্টটিগেশন (পিবিআই) রংপুর জেলার প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুস সালাম বলেন, তদন্তের কাগজপত্র এখনো হাতে পাইনি। পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।