• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ব্র্যাক কর্মীকে হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন

হত্যাআজমল হক আদিল, বদরগঞ্জ (রংপুর) : পরকীয়ার জের ধরে খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে ব্র্যাক কর্মী স্বামীকে হত্যা করেছে স্ত্রী। ৫ মাস পর এই হত্যাকান্ডের রহস্য উন্মোচন হওয়ায় এলাকায় ব্যাপক তোলপাড়ের সৃষ্টি হয়েছে। এদিকে নিহতের বড় ভাই শাহিনুর কবির বাদী হয়ে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ও তার প্রেমিকের বিরুদ্ধে রংপুর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা সুত্রে জানা যায়, বদরগঞ্জ উপজেলার বিঞ্চুপুর ইউনিয়নের ছোট হাজীপুর মন্ডলপাড়ার আব্দুর রউফ বাবুর মেয়ে রওশনারা বেগমের সাথে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর দামইর গ্রামের আলহাজ¦ ওয়ায়েজ উদ্দিনের ছেলে ব্র্যাক কর্মী এসএম শাহেতাজুল ইসলামের বিয়ে হয় বিগত ৬জুন/২০১৪সালে। বিয়ের পর স্বামী স্ত্রী গঙ্গাচড়ায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। কিন্তু সেখানে তাদের স্বামী স্ত্রীর মাঝে সারাক্ষণ ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকত। এর কারণ হচ্ছে রওশনারা বেগমের পছন্দের ছেলের সাথে বিয়ে না হওয়ায় তিনি তার স্বামীকে একদিনও মেনে নিতে পারেননি। তাই রওশনারা এলাকার পুর্ব প্রেমিক মোঃ ফেলাউ উদ্দিনের ছেলে জামান মিয়ার সাথে যোগসাজস করে ব্র্যাক কর্মী স্বামীকে হত্যা করার জন্য পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা মোতাবেক গত ২৩আগষ্ট/১৫ রাতে প্রেমিকের কাছ থেকে বিষ কিনে নিয়ে স্বামীর খাবারের সাথে মিশিয়ে স্বামীকে খাওয়ান। এরপর তার স্বামী অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে হাসপাতালে না নিয়ে কালক্ষেপন করেন। কিন্তু তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তাকে গঙ্গাচড়া উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তার ডায়াবেটিকস রোগ আছে বলে কর্তব্যরত চিকিৎসককে জানান। চিকিৎসকরা তার ডায়াবেটিকস রোগের চিকিৎসা দেয়ার আগেই পরদিন ভোরে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এদিকে তার স্ত্রী স্বামীর মৃত্যুর খবর বাড়ীতে না জানিয়ে ব্র্যাক অফিসে জানান যে, তিনি হৃদ যন্ত্রক্রিয়া বন্দ হয়ে মুত্যু বরণ করেছেন। পরবর্তীতে ব্র্যাক কর্মী শাহেতাজুলের রহস্যজনক মৃত্যুর বিষয়টি সঠিক তদন্ত এবং প্রকৃত রহস্য উন্মোচনের আশায় তার বড় ভাই শাহিনুর কবির গঙ্গাচড়া ব্র্যাক অফিসে আবেদন করেন, এবং গঙ্গাচড়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে থানা পুলিশ বাদীর মামলাটি নথি ভূক্ত না করে ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ দাফনের অনুমতি দেন। এমনকি হৃদ রোগ জনিত কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ব্র্যাক অফিস কর্তৃপক্ষ একটি শোক বার্তা প্রকাশ করেন। নিহতের বড় ভাই সরল বিশ^াসে নিজ বাড়িতে লাশ নিয়ে এসে দাফন কার্য সম্পন্ন করেন। এদিকে গত ২২ডিসেম্বর/২০১৫ ইং তারিখে মামলার বাদী গঙ্গাচড়া ব্র্যাক অফিসে মৃতের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য গিয়ে মৃতের ভাড়া করা বাসায় ওঠেন। সেখানে গেলে স্থানীয় লোকজন তাকে জানান, ঘটনার দিন গত ২৩আগষ্ট/২০১৫ ইং তারিখে রশনারা বেগমের প্রেমিক জামান মিয়া এই বাসায় (ঘটনাস্থলে) উপস্থিত ছিলেন। তিনি ও রওশনারা পরস্পর জোগসাজশ করে রাতের খাবারের সাথে বিষ মিশিয়ে ব্র্যাক কর্মী শাহেতাজুলকে হত্যা করেন। শুধু তাই নয় তার মৃত্যুর পর রওশনারা বেগম ও তার প্রেমিক জামান মিয়া মৃত ব্র্যাক কর্মীর চাকুরীর এককালীন মোটা অংকের টাকা নমিনী পরিবর্তন করে উত্তোলনের জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করছেন। উক্ত ঘটনার তারিখে ঘটনাস্থলে জামান মিয়ার রহস্যজনক উপস্থিতির বিষয়ে সার্বিক ভাবে জ্ঞাত হওয়ার জন্য গত ৩১ডিসেম্বর/২০১৫ ইং তারিখে বাদীসহ তার লোকজন জামানের বসতবাড়িতে গিয়ে দেখেন সেখানে রওশনারা ও জামান একই ঘরে অবস্থান করছেন। এসময় তাদের সাথে বাদীপক্ষের লোকজনের বাকবিতান্ডা হলে ২ নং আসামী জামান মিয়া অনুতপ্ত হয়ে গর্বের সহিত এলাকাবাসীর সামনে বলেন, ঘটনার দিন আমি তোমার ভাইয়ের গঙ্গাচড়ার ভাড়া বাসায় গিয়েছিলাম। সেখানে আমি ও রওশনারা দুজন মিলে তোমার ভাইকে বিষ খাইয়ে হত্যা করে আমাদের পথের কাটা সরিয়ে দিয়েছি। পারলে আইনের আশ্রয় নিয়ে  আমাদের বিরুদ্ধে যা খুশি তাই কর। এঘটনার ৫মাস পর গত রোববার নিহতের বড় ভাই শাহিনুর কবির বাদী হয়ে ছোট ভাইয়ের স্ত্রী রওশনারা ও তার কতিথ প্রেমিক জামান মিয়াকে আসামী করে রংপুর আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ