• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৫ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুর পৌরবাসীকে অযথা হয়রানী করছে পুলিশ

WIN_20160218_163631সিসি নিউজ: মিথ্যে মামলা করে হয়রানি, আইনশৃংলার অবনতিসহ নানা ঘটনায় নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র বিএনপি নেতা অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকার বৃহস্পতিবার বিকেলে (১৮ ফেব্রুয়ারি) তার অফিস কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলন করেছেন। মিথ্যা মামলা দায়ের করে একজন নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলরকে পুলিশের অযথা হয়রানি বন্ধ করা  না হলে  পৌরসভার সকল সেবা কার্যক্রম বন্ধ এবং মামলাসহ বিভিন্ন কর্মসূচী হাতে নেয়া বলে সাংবাদিকদের জানানো হয়।
পৌর মেয়র বলেন, গত ৩০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনে কেন্দ্রে গোলযোগের কারণে পৌরসভার ৩, ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডের ভোটগ্রহণ স্থগিত করে। যা পরবর্তী তারিখে অনুষ্ঠিত হলেও সেসময় সহকারি প্রিজাইডিং অফিসার (সৈয়দপুর এলজিইডি’র উপ সহকারী প্রকৌশলী) হেলালুর রহমান অজ্ঞাতনামা দু’শ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ করেন। সেই মামলায় ১৪ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত কাউন্সিলর আবিদ হোসেন লাড্ডান ও তার পরিবারকে পুলিশ হয়রানি করছেন। অথচ কারা ওই ভোট কেন্দ্র দখল করেছিল তার ভিডিও ফুটেজ ও প্রিন্ট ছবি রয়েছে আমাদের হাতে।

সম্মেলনে পৌর মেয়র অধ্যক্ষ আমজাদ হোসেন সরকার বলেন, আমাকে আওয়ামী লীগে যোগদানের জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে নইলে সিলেটে সেই বিএনপি নেতা ইলিয়াছ আলীর পরিণতি হবে জানানো হয়েছে। উন্নয়ন কাজে বাঁধা দেয়া হচ্ছে এমনকি বরাদ্দও কমিয়ে দেয়া হয়েছে। পৌরবাসীকে পুলিশ অযথা হয়রানি করছে। চুরির আতঙ্কে দিনাতিপাত করছে পৌরবাসী। সৈয়দপুর থানা পুলিশ এখন জমি সংক্রান্ত মামলার আদালত খুলে বসেছে। ওই সংক্রান্ত মামলা হলেই তদন্তকারী কর্মকর্তাগণ বাদী ও বিবাদীদের কাগজপত্র আনতে বলেন থানায়। বাদীর মামলা থানায় বসেই নিষ্পত্তি করার চেষ্টা করে কালক্ষেপণ করছেন। সাধারন মানুষকে আটক করে অন্য মামলার আসামী বানিয়ে চালান দেয়া হচ্ছে। এসব কর্মকান্ড বন্ধ না হলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি দেয়া হবে তিনি উল্লেচিরকুটখ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত কাউন্সিলর লাড্ডান জানান, ওই দিন সৈয়দপুর পৌরসভার নির্বাচন। আমার ১৪নং ওয়ার্ডে ভোট গ্রহণ চলছে এবং আমি একজন প্রার্থী। আমি এবং আমার পরিবারের লোকজন আমার নির্বাচনী এলাকার ভোট কেন্দ্রের বাইরে সর্বদা অবস্থান করে ভোটারদের সাথে কুশল বিনিময় করছি। তাহলে কিভাবে আমি ও আমার পরিবারের লোকজন ৩নং ওয়ার্ডের ফ্রি আমিন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র দখল করার চেষ্টা করেছি ? অথচ ওই ঘটনার পর সৈয়দপুর থানার এসআই সাঈদ তার কয়েকজন সহকর্মী ও পুলিশকে নিয়ে আমার বাসায় গিয়ে এ ঘটনার সাথে আমি, আমার ভাই ও আমার নির্বাচনী এজেন্টরা জড়িত রয়েছি বলে জানিয়ে দেন। লাড্ডান জানান, ওই পুলিশ কর্মকর্তা ১৩জনের একটি নামের তালিকার একটি চিরকুট আমার হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলেন এরাই জড়িত। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে কথা হয় নির্বাচন সংক্রান্ত ওই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই এম আর সাঈদের সাথে। ১৩ জনের তালিকা কাউন্সিলরের হাতে দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি সিসি নিউজকে জানান, যেহেতু মামলাটিতে অজ্ঞাত আসামী রয়েছে, তাই আমি বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে মামলার আসামীদের সনাক্ত করার জন্য নামের তালিকা তৈরী করেছি। তালিকায় ওই ১৩জন ১৪নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হওয়ায় তাদের সম্পর্কে যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধি কাউন্সিলর আবিদ হোসেন লাড্ডানের সহযোগিতা নেয়ার জন্য তালিকাটি দিয়েছি। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি ওই তালিকায় কাউন্সিলরের ভাইয়ের নাম থাকায় এমন বিরুপ মন্তব্যের সৃষ্টি হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ