• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

দিন শেষে টাইগারদের সংগ্রহ ২৫৩/৬

সিসি ডেস্ক: প্রথম দিন শেষে নির্ধারিত ৯০ ওভারে টাইগারদের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৫৩ রান। দলীয় ১১৭ রানে পাঁচ উইকেট হারানোর পর শতরানের জুটিতে দলকে ম্যাচে ফেরান মুশফিকুর রহিম ও সাব্বির রহমান।

মুশফিক ৬২ ও নাসির হোসেন ১৯ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। মুশফিকের এটি ১৮ নম্বর টেস্ট ফিফটি। দিনের শেষভাগে ২২২ রানের মাথায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন রানে ফেরা সাব্বির রহমান। তার ইনিংসটি থামে ৬৬ রানে। রান খরা কাটিয়ে পূরণ করেন চতুর্থ টেস্ট অর্ধশতক। আউট হওয়ার আগে অধিনায়ক মুশফিকের সঙ্গে ষষ্ঠ উইকেটে গড়েন ১০৫ রানের পার্টনারশিপ। থার্ড আম্পায়ার রিপ্লেতে উইকেটের দাগে পা থাকা নিয়ে কিছুটা অস্পষ্টতা ছিল। শেষ পর্যন্ত স্ট্যাম্পিং আউটের সিগন্যাল দেন টিভি আম্পায়ার আলিম দার। টার্ন করে লেগ সাইডে নাথান লায়নের আচমকা লাফিয়ে ওঠা বল মারতে গিয়ে পায়ের ব্যালেন্স ধরে রাখতে পারেননি সাব্বির।
এর আগে, বৃষ্টির শঙ্কা থাকলেও ফর্সা আকাশ নিয়েই চট্রগ্রাম টেস্টের প্রথম সকালে টস ভাগ্যে জয় পেয়ে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন টাইগার কাপ্তান মুশফিকুর রহিম। ঢাকা টেস্টে জয়ের পর চট্রগ্রামে এক পেসার কমিয়ে দল সাজায় বাংলাদেশ দল।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া দল থেকে বাদ পড়েছেন টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান উসমান খাজা। বদলী হিসেবে অলরাউন্ডার হিল্টন কার্টরাইট সুযোগ পেয়েছেন। এছাড়া পেসার জস হেজেলউডের বদলী হিসেবে খেলছেন বাঁহাতি স্পিনার স্টিভেন ও’কিফ।

ইতিমধ্যে ব্যাট করতে নেমেছেন দুই বাংলাদেশি ওপেনার তামিম ইকবাল ও সৌম্য সরকার। চট্রগ্রাম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ানরা এক পেসারের দল হওয়ায় টেস্টের প্রথম দিনের দ্বিতীয় ওভারেই অফ স্পিনার নাথান লায়নকে হাত ঘুরাতে দেখা যায়।

১৯৩৯ সালের দিকে শেষবার অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে এমন ঘটনা ঘটেছে। একমাত্র পেসার প্যাট কামিন্স এক প্রান্ত থেকে আগুনঝরা বোলিং করেন। কয়েকবার তামিমের ব্যাটের পাশ কাটিয়ে যেতে সক্ষম হন তিনি।

কামিন্সের বাউন্সারে ক্রিজে আটকা পড়তে দেখা যায় টাইগার ওপেনারকে। অন্যদিকে লায়নের অফ স্পিনে স্বাচ্ছন্দ্যে ছিলেন না সৌম্য, ব্যাটের মাঝখান খুঁজে পান নি তামিমও।

ইনিংসের ষষ্ট ওভারে কামিন্সের লেন্থ থেকে ভেতরে আসা বলটি সামলাতে ব্যর্থ হন তামিম। টাইগার ওপেনারকে পরাস্ত করে স্লিপে থাকা ম্যাক্সওয়েলের হাতে ক্যাচের সুযোগ সৃষ্টি করেন কামিন্স। কিন্তু ম্যাক্সওয়েলের ভুলে তামিমের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট বঞ্চিত হন কামিন্স।

দলের স্কোর তখন ১০ রান। কামিন্স পেস ও বাউন্সের সাথে লায়নের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে টেস্টের প্রথম সকালেই বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে ফেলে। উপহারও পেয়ে যায় অজিরা। ইনিংসের দশম ওভারে টাইগার ক্যাম্পে বড় আঘাত হানেন লায়ন।

বাঁহাতি তামিমকে নন স্পিনিং ডেলিভারিতে লেগ বিফরের ফাঁদে ফেলেন লায়ন। ৩৪ বল খেলে ৯ রান যোগ করা ইনফর্ম তামিমকে ফিরিয়ে উল্লাসে মাতে অস্ট্রেলিয়ানরা।

তামিমের বিদায়ের পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি উইকেটের জন্য বেশীক্ষণ অপেক্ষা করতে হয় নি অস্ট্রেলিয়ানদের। সেই লায়নকেই সুইপ করতে গিয়ে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন তিন নম্বরে নামা ইমরুল কায়েস।

দলীয় ২১ রানে ৪ রান যোগ করে লায়নকে সুইপ করতে গিয়ে আউট হন এই বাঁহাতি। উইকেট পতনে পাহাড়সম চাপ নিয়ে মাঠে নামেন দলে ফেরা মমিনুল হক।

দুই উইকেট পতনে অন্য প্রান্তে উইকেটে সময় কাটিয়ে জমে যাওয়া সৌম্য সরকার ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে ব্যাটিং করে রান বাড়াতে থাকেন। লায়নকে একই ওভারে চার ও ছয় হাঁকিয়ে নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি।

কয়েক ওভার পর আরেক স্পিনার ও’কিফকে স্টেপ আউট করে বাউন্ডারি হাঁকান মমিনুল। লাঞ্চের আগে আরেকটি উইকেটের আশায় ফাস্ট বোলার কামিন্সকে বল তুলে দেন স্টিভ স্মিথ।

ইনিংসের ২২তম ওভারে এই জুটি দলের স্কোর ৫০ ছাড়িয়ে যায়। আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠা মমিনুল ও সৌম্য রানরেট বাড়িয়ে অর্ধশত রানের পার্টনারশীপের পথে এগোতে থাকেন। কিন্তু লাঞ্চ ব্রেকের ঠিক আগেই লায়নের আর্ম বলে টার্নের জন্য খেলতে গিয়ে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন দারুন খেলতে থামা সৌম্য।

৮১ বলে ৩৩ রান যোগ করে আউট হন তিনি। একই সাথে সৌম্য-মমিনুলের ৪৯ রানের জুটি ভাঙ্গে। ৭০ রানে তিন উইকেট নিয়ে লাঞ্চ ব্রেকে যায় দুই দল। চিটাগং টেস্টের প্রথম সেশনে নাথান লায়ন একাই তিন উইকেট শিকার করেন।

লাঞ্চের পর সাকিব আল হাসান ক্রিজে এসেই কামিন্সে একই ওভারে দুইবার বাউন্ডারি ছাড়া করেন। স্বাচ্ছন্দ্যে খেলছিল মমিনুলও। কিন্তু ৩৪তম ওভারে লায়নের চতুর্থ শিকারে পরিনত হন তিনি।
ব্যাকফুটে গিয়ে নন স্পিনিং ডেলিভারিকে লেগ সাইডে খেলতে গিয়ে লেগ বিফরের ফাঁদে পড়েন ভালো খেলতে থাকা মমিনুল। ৬৭ বলে ৩১ রান করে দলীয় ৮৫ রানে সাজঘরে ফেরেন মমিনুল।
ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে উপরের সারির ব্যাটসম্যানদের দ্রুত বিদায়ে আরেকবার চাপের মুখের দলের দায়িত্ব সামলানোর কঠিন দায়িত্বটি নিতে হয় অভিজ্ঞ সাকিব ও মুশফিককে। ইনিংসের ৪০তম ওভারে বাংলাদেশের স্কোর ১০০ রান স্পর্শ ছাড়িয়ে যায়।

কিন্তু এবার পারলেন না সাকিব। ইনিংসের ৪৭তম ওভারে সাকিব আল হাসানের উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ ক্যাম্পে বড় আঘাত হানেন অ্যাস্টন অ্যাগার। ফুল লেন্থের বলে কাট শট খেলতে গিয়ে কট বিহাইন্ড হন ২৪ রান করা সাকিব।

সেখান থেকে সাব্বির ও মুশফিকের দৃঢ়তায় চা পান বিরতির আগে কোন উইকেট হারায় নি বাংলাদেশ। দিনের দ্বিতীয় সেশনে দুই উইকেট হারিয়ে ৮৫ রান তুলে দলের স্কোর পাঁচ উইকেট ১৫৫ রানে পৌঁছে দেন মুশফিক ও সাব্বির।

চা পান বিরতির পর বাংলাদেশের ইনিংসের প্রথম পঞ্চাশ রানের জুটি পূর্ণ করেন সাব্বির-মুশফিক। মুশফিক বলের মেধা বুঝে খেলে গেলেও সাব্বির ছিলেন আক্রমণাত্মক। ওয়ানডে মেজাজে খেলে ৬২ বলে ক্যারিয়ারের চতুর্থ টেস্ট ফিফটি তুলে নেন তিনি।

পার্টনারশিপে খেলে এই জুটি দলের স্কোর ৭৩তম ওভারে দুইশ ছাড়িয়ে যায়। একই ওভারে ও’কিফকে দুইবার বাউন্ডারি ছাড়া করে নিজের ফিফটির পথে এগোতে থাকেন টাইগার কাপ্তান মুশফিক। সাব্বির ও মুশফিকের জুটিও একশর কাছাকাছি পৌঁছে যায়।

৮০তম ওভারে ১২৪ বলে ব্যক্তিগত ফিফটি পূর্ণ করেন মুশফিকুর রহিম। একই সাথে জুটির সেঞ্চুরিও ছাড়িয়ে যান সাব্বির-মুশফিক জুটি। দলের স্কোর তখন পাঁচ উইকেটে ২১৭ রান।
কোন রকম ঝুঁকি ছাড়াই দলের স্কোর বাড়াতে থাকেন এই জুটি। ৮০ ওভার পর নতুন বল নিয়ে আক্রমনে ফিরে আসেন লায়ন ও কামিন্স। আক্রমনে ফিরেই জুটি ভাঙ্গেন দিনের সেরা বোলার লায়ন।
৮২তম ওভারে লেগ সাইডে শর্ট দিয়েও সাব্বিরকে স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন তিনি। পুল শট খেলতে গিয়ে ব্যালেন্স হারিয়ে দুর্ভাগ্যজনকভাবে স্ট্যাম্পিংয়ের শিকার হন সাব্বির। ১১৩ বলে ৬৬ রানের নজরকাড়া ইনিংস খেলে লায়নের পঞ্চম শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তিনি।

বাংলাদেশের একাদশ:
তামিম ইকবাল, সৌম্য সরকার, ইমরুল কায়েস, মমিনুল হক, সাব্বির রহমান, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম (অধিনায়ক এবং উইকেট রক্ষক), নাসির হোসেইন, মেহেদী হাসান মিরাজ, মুস্তাফিজুর রহমান, তাইজুল ইসলাম।

অস্ট্রেলিয়ার একাদশ:
ডেভিড ওয়ার্নার, হিল্টন কার্টরাইট, স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), অ্যাস্টন অ্যাগার, প্যাট কামিন্স, পিটার হ্যান্ডসকম্ব, নাথান লায়ন, গ্ল্যান ম্যাক্সওয়েল, স্টিভেন ও’কিফ, ম্যাট রেনশো, ম্যাথিউ ওয়েড (উইকেটরক্ষক)।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ