বিশেষ প্রতিনিধি ।। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে রোববার(১৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টায়। রোববার দুপুর পৌনে ১২টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটএ গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি ফলাফলের বিস্তারিত জানান গণমাধ্যমকর্মীদের ।
করোনা প্যান্ডামিকের কারণে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে অনুষ্ঠিত এবারের এইএসসি পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড দিনাজপুরের ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায় বেড়েছে পাশের হার। বেড়েছে জিপিএ ৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যাও।
দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডে এবার এইচএসসিতে পাশের হার ৯২ দশমিক ৪৩ শতাংশ। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ হাজার ৩৪৯ জন পরীক্ষার্থী। করোনা মহামারী পরিস্থিতির জন্য ২০২১ সালের এই এইচএসসি পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে শুরু হয় ২
ডিসেম্বর থেকে।
করোনার কারণে গত বছর ২০২০ সালের এইএসসি পরীক্ষায় অটোপাসের কারণে শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করে। তবে তার আগের বছর ২০১৯ সালে পাশের হার ছিল ৭১ দশমিক ৭৮ ভাগ। ২০১৮ সালে ছিল ৬০ দশমিক ২১ভাগ। আর ২০২১ সালে পাশের হার বেড়ে দাড়ায় ৯২দশমিক ৪৩ভাগ।
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড দিনাজপুর সূত্রে জানা যায়, ২০২১সালে মোট ৬৬৭টি কলেজের ২০৩টি কেন্দ্রে ১লাখ ১৩ হাজার ৪৪জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাশ করে ১লাখ ৪হাজার ৪৮৪জন শিক্ষার্থী। জিপিএ ৫ পেয়েছে
১৫ হাজার ৩৪৯জন শিক্ষার্থী। শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করেছে ৫৩টি কলেজের শিক্ষার্থী। আর দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নেয়া দু’টি কলেজ থেকে কোন শিক্ষার্থী পাশ করেনি।
ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী পাশের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তি দু’টোতেই ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছে। এবছর ছাত্রদের পাশের হার ৯০দশমিক ৭৪ভাগ আর ছাত্রীদের পাশের হার ৯৪দশমিক ১০ ভাগ। জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ছাত্রের সংখ্যা
৭হাজার ২৩২জন জিপিএ ৫ প্রাপ্ত ছাত্রীর সংখ্যা ৮হাজার ১১৭জন।
এবছর দিনাজপুর বোর্ডের অধীনে ৮টি জেলার ফলাফলের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পাশের হার ও জিপিএ ৫ প্রাপ্তিতে এগিয়ে রয়েছে রংপুর জেলা। রংপুর জেলায় মোট ২৩হাজার ৮৭৬জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করে ২২হাজার ৬৪৭জন
কৃতকার্য হয়। আর জিপিএ ৫ পায় ৬ হাজার ৭৫জন। পাশের হার ৯৪ দশমিক ৮৫শতাংশ। পাশের হারে পরের অবস্থানে রয়েছে লালমনিরহাট জেলা। লালমনিরহাটের ৭হাজার ৬৮১জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করে ৭হাজার ২৬৫জন। আর জিপিএ ৫ পায় ৬৪৯জন। পাশের হার ৯৪দশমিক ৫৮শতাংশ। পাশের হারে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে নীলফামারী জেলা। মোট ১২হাজার ৯৩৩জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করে ১২হাজার ৫৮জন। পাশের হার ৯৩দশমিক ২৩শতাংশ আর জিপিএ ৫ পেয়েছে ১হাজার ৭০০জন।
পাশের হারে চতুর্থ অবস্থানে রয়েছে দিনাজপুর জেলা। দিনাজপুর জেলার ২২ হাজার ৬৫৭জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করে ২০হাজার ৯৬০জন, এরমধ্যে জিপিএ ৫ পেয়েছে ২হাজার ৮৪৮জন। পাশের হার ৯২দশমিক ৫১শতাংশ। কুড়িগ্রাম জেলার ১২হাজার ৬১৭জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করে
১১হাজার ৫৬৪জন। পাশের হার ৯১দশমিক ৬৫শতাংশ আর জিপিএ ৫ পেয়েছে ১হাজার ৬২জন। গাইবান্ধা জেলার ১৬হাজার ১৭০জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করে ১৪হাজার ৬৩১জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১হাজার ৬৭২জন। পাশের হার ৯০দশমিক ৪৮শতাংশ। ঠাকুরগাঁওয়ের ৯হাজার ৮১৪জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাশ করে ৮হাজার ৮৭৮জন পরীক্ষার্থী। পাশের হার ৯০দশমিক ৪৬শতাংশ আর জিপিএ ৫ পেয়েছে ৯৪৩জন পরীক্ষার্থী। পাশের হারে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছে পঞ্চগড় জেলা। পঞ্চগড়ের ৭হাজার ২৯৬জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে পাশ করে ৬হাজার ৪৮১জন আর পাশের হার ৮৮দশমিক ৮৩শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ৪০০জন পরীক্ষার্থী।