• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৩ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

খানসামায় রাবার ড্যাম: বছরে অতিরিক্ত মিলবে দেড় কোটি টাকার ফসল

বিশেষ প্রতিনিধি।। দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার বেলান নদীতে দ্রুতগতিতে চলছে রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজ। এরই মধ্যে রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজ ৬৫ শতাংশ এবং প্রকল্পের আওতায় মরা খালে পরিনত হওয়া বেলান নদীর ৯ কিলোমিটার খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এ অঞ্চলের দেড় হাজার হেক্টর কৃষি জমি সেচের আওতায় আসবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্র মতে, বেলান নদী বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দিনাজপুর জেলার একটি নদী। সর্পিলাকার প্রকৃতি নদীটির দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটার এবং গড় প্রস্থ ৩৫ মিটার। নদীটি নীলফামারী জেলা হতে উৎপত্তি হয়ে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার মধ্যদিয়ে চিরিরবন্দরের আত্রাই নদীতে গিয়ে মিলেছে। নীলফামারী সদরের গোড়গ্রামের পেটবিশার বিলের পানিই এ নদীর প্রধান উৎস। বিগত ষাটের দশকে শুষ্ক মৌসুমেও বেলান নদীতে ব্যাপকভাবে পানি প্রবাহিত হতো।

সূত্রটি আরো জানায়, দীর্ঘদিন যাবৎ বেলান নদীটি খনন না করায় পলি পড়ে প্রায় ভরাট হয়ে যায়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে পানি শূন্য হয়ে পড়ে নদীটি। আর পানি না থাকায় নদীতে মাছের উৎপাদন একেবারেই কমে যায়। এতে শুষ্ক মৌসুমে পানি না থাকায় ৯ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীর দুইপাড়ের কৃষকরা বিস্তৃর্ন আবাদি জমিতে কৃষি কাজ করতে পারছিল না। তাই সেচের পানির অভাবে এলাকার অধিকাংশ জমি অনাবাদি অবস্থায় পড়ে থাকে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে এলাকার মৎস্যজীবি পরিবার ও কৃষক তথা সাধারণ মানুষের কৃষি অর্থনৈতিক দিকটি বিবেচনায় নিয়ে বেলান নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ প্রকল্প গ্রহন করা হয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে বেলান নদীর পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে চাষাবাদে করাই মূল উদ্দেশ্য।

মঙ্গলবার সরেজমিনে এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বেলান নদীতে রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ইতিমধ্যে রাবার ড্যাম নির্মাণ কাজের ৬৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান ঠিকাদারী এমআরআই-আরএটি (জেভি)।

কাচিনীয়ার গুলিয়ারা গ্রামের গনেশ চন্দ্র রায় বলেন, খরার সময় নদীতে পানি না থাকায় এবং এলাকায় পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বোরো আবাদের সেচ সংকটে পড়তে হয়। এতে চাষাবাদে আমাদের ব্যয় অনেক বেড়ে যায়। এছাড়া নদীটি পানি শুন্য থাকায় মাছের আকাল দেখা দেয়। ফলে মৎস্যজীবী পরিবারগুলো নিদারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করেন।
কাচিনিয়া বাজার বেলান খাল পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতি লিমিটেড এর সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম জানান, রাবার ড্যামটির মাধ্যমে বেলান নদীর পানি সংরক্ষণ করে সুষ্ঠু ও পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের জন্য একটি সমিতি রয়েছে। সমিতিতে বিভিন্ন পেশার মানুষ সদস্য হিসেবে রয়েছেন। এর সদস্য সংখ্যা ৬১৭ জন। আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা জাইকার অর্থায়ণে চলমান প্রকল্পের আওতায় সমিতির সদস্যদের মৎস্য চাষ, হাঁস-মুরগী পালন, কৃষি উন্নয়নে প্রশিক্ষনের মাধ্যমে দক্ষ হিসেবে গড়ে তুলছে।

খানসামা উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী নুরুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে ৯ কিলোমিটার নদীর অংশ এবং ২ দশমিক ২ কিলোমিটার দুটি শাখা খালের খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এছাড়া নদীর বাম ও ডান তীরে হেডার ট্যাংকসহ বারিড পাইপ নেটওয়ার্ক নির্মাণের ফলে রাবার ড্যামের ভাটি এলাকার কৃষি জমিগুলো সেচ সুবিধার আওতায় আসবে। এতে প্রকল্প এলাকায় বছরে দেড় কোটি টাকার অধিক ফসল ফলবে। তিনি জানান, চলমান কাজের গতি অব্যাহত থাকলে চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

এ বিষয়ে কথা হয় খানসামা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শফিউল আযম চৌধুরী লায়ন বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রচেষ্টার ফসল রাবার ড্যাম নির্মাণের ফলে এ অ লে কৃষিক্ষেত্রে একটি বৈপ্লাবিক পরিবর্তন ঘটবে। এছাড়া রাবার ড্যামের ওপর নির্মিত সেতটিু নদীর উভয় তীরের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যাতায়াত সহজতর হবে।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার প্রকৗশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ক্ষুদ্রাকার পানি সম্পদ উন্নয়ন প্রকল্পের (২য় পর্যায়) এর আওতায় বেলান নদীতে ওই রাবার ড্যামটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের অধীনে ৩৫ মিটার দৈর্ঘ্যের রাবার ড্যামসহ পাম্প হাউজ, এপ্রোচ রোড, বেলান নদীর বাম ও ডান তীরে হেডার ট্যাংকসহ বারিড পাইপ নেটওয়ার্ক -১, নেটওয়ার্ক -২ নির্মাণ, পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির কার্যালয় নির্মিত হবে। বাংলাদেশ সরকার ও জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) অর্থায়নে এ প্রকল্পটি ব্যয় বরাদ্দ হয়েছে ১৪ কোটি ১৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ