• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ন |

নীলফামারী ও সৈয়দপুরে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু, হাসপাতালে ভর্তি ৫

সিসি নিউজ।। নীলফামারীর প্রত্যন্ত গ্রামে ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু। গতকাল রোববার আব্দুর রাজ্জাক (৪০) নামের একজন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে। তিনি পেশায় একজন কৃষক।

জেলার জলঢাকা উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল পূর্ব বালা গ্রামে তার বাড়ি। এলাকার বাইরে ঢাকা বা অন্য কোন স্থানে ভ্রমন না করেও তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানান।

এদিকে গত এক সপ্তাহ ধরে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন ডেঙ্গু রোগী রবিউল ইসলাম। তিনি ঢাকা শহরের উত্তরায় ৭নং সেক্টরের একটি কোম্পানিতে আনসার সদস্য হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর বাড়ি সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর গ্রামে।

সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. নাজমুল হুদা সিসি নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত এক মাসে ৪ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগিকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

নীলফামারীর জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, এ হাসাপাতালে গত ১১ জুন থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত ১৪ জন রোগি ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে ১০ জন চিকিৎসায় সুস্থ্য বাড়িতে ফিরেছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন চার জন। এসব রোগির মধ্যে ১৩ জনই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ডেঙ্গু প্রকোপের এলাকা ভ্রমন করেছেন। এদের মধ্যে এক জনের কোন ভ্রমন কাহিনী পাওয়া যায়নি।

জলঢাকার কৃষক আব্দুর রাজ্জাক নামের ওই রোগি বলেন,  গত ১০ বছরের মধ্যে ঢাকায় যাইনি। আমি বাস, ট্রেনে উঠলেই অসুস্থ্য হয়ে পড়ি। একারণে জলঢাকা শহর ছাড়া এলাকার বাইরে কোথাও যাই না। এরপরও ডেঙ্গু আক্রান্তের কারণ বুঝতে পারছি না।’

আক্রান্তের কথায় তিনি বলেন, ‘অনেকেই ঢাকায় গিয়ে বিভিন্ন কাজকর্ম করেন। এলাকায় ফিরে আসলে তাদের সঙ্গে বসে বিভিন্ন গল্প করি। ঢাকা ফেরৎ এমন একজনের সঙ্গে গত এক সপ্তাহ আগে এলাকায় বসে কিছুক্ষণ কথা বলেছি। এর দুইদিন পর তার ডেঙ্গু আক্রান্তের কথা শুনতে পাই। এরপর গত শুক্রবার আমার জ্বর উপলদ্ধি হলে জলঢাকা হাসপাতালে পরীক্ষা করে শনিবার ডেঙ্গু আক্রান্তের কথা জানতে পারি। ফলে রবিবার নীলফামারী হাসপাতালে ভর্তি হই’।

এবিষয়ে কথা বললে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবু-আল হাজ্জাজ বলেন, ’হাসপাতালে আসা ১৪ রোগির মধ্যে ১৩ জনেরই ভ্রমন হিস্ট্রি আছে। কিন্তু কৃষক আব্দুর রাজ্জাকের কোন ভ্রমন হিস্ট্রি পাওয়া যায়নি’। ভ্রমন হিস্ট্রি না থাকলেও ডেঙ্গু আক্রান্তের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বহনকারী এডিস মশা এবং জীবানু দুটোরই সমন্বয় থাকতে হবে। এডিস মশা সাধারণত রোগির শরীর থেকে এ রোগটি বহন করে সুস্থ্য মানুষের শরীরে ছড়ায়। আব্দুর রাজ্জাকের কোন ট্রাভেল হিস্ট্রি না থাকায় ধারণা করা হচ্ছে এ এলাকায়ও এডিস মশার প্রকোপ ছড়িয়েছে।’

এবিষয়ে নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, ’পরিচ্ছন্নতা অভিযান আমাদের আছে। জনসচেনতা কার্যক্রমও চলমান আছে। এ কার্যক্রম আমরা আরও বৃদ্ধি করবো। পাশাপশি পৌরসভার কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে এডিস মশা জন্ম নেয় এমন জায়গাগুলো পরীক্ষা করে ব্যবস্থা নিবে’।

একই উদ্যোগের কথা সিসি নিউজকে জানালেন সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহান বেবী। তিনি বলেন, এডিস মশা সবার জন্যই হুমকি। অতএব এ বিষয়ে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে। একমাত্র সচেতনতাই পারে এ ডেঙ্গু পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখতে। পৌর পরিষদ থেকে মশা নিধনের জন্য নেওয়া পদক্ষেপ দ্রুত কার্যকর করতে ইতিমধ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিন্তু মনে রাখতে হবে সবার সচেতনতা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ