• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
চলন্ত ট্রাকে আড়াই ঘন্টা ঝুলে ৩২ লাখ টাকার ইয়াবা জব্দ করলেন সিপাহি জয়পুরহাট রেড ক্রিসেন্ট ইউনিটের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দুই দিনব্যাপী কর্মশালা শুরু দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে বাসের ধাক্কা, নিহত বেড়ে ৪ ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে

সিসি নিউজ।। বুধবার রাত ৯টায় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, পানি প্রবাহ কমে গিয়ে তিস্তা নদীর পানি বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এদিকে সন্ধ্যা ৭টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৪০ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। সে সময় পূর্বাভাস কেন্দ্র জানায়, রাত অবধি তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫০ সেমি ওপর পর্যন্ত উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছিল।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাত দিয়ে নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, ভারতের উত্তর সিকিমে তিস্তা নদীর চুংথাং ড্যাম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভারতীয় আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সিকিম অঞ্চলে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।

সর্বশেষ আজ (বুধবার) রাত ৯টায় তিস্তা নদীর ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার (৫২ দশমিক ১৫ মিটার) ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বেলা ৪টায় যা বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। রাত অবধি তা বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৫০ সেমি ওপর পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে কর্তৃপক্ষ।

এদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতা জারি করেছে তিস্তা বেষ্টিত উপজেলা প্রশাসনগুলো। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরা সতর্কীকরণ মাইকিং করে নদীর তীরবর্তী ও নিম্নাঞ্চলের মানুষকে নিরাপদ আশ্রয় যাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

বিভিন্ন উপজেলায় সকাল থেকে বৃষ্টির ফলে আগাম জাতের আমন ধান তিস্তার চরে কেটে রাখায় বিপাকে পড়েছে মানুষ। বন্যার খবর শোনার পর থেকেই বৃষ্টি উপেক্ষা করে কেটে রাখা ধান চর থেকে সরিয়ে নিচ্ছে চাষিরা। পাশাপাশি কাটতে না পারা আমন ধানখেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

নদীপাড়ের মানুষেরা জানান, পানি বেড়ে যাওয়ার কারণে তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো প্লাবিত হয়েছে। বন্যায় শঙ্কায় চিন্তিত তারা। চলতি মৌসুমে কয়েক দফায় বন্যা হলেও তা বেশি সময় স্থায়ী ছিল না। মৌসুমের শেষ দিকে বড় বন্যার আশঙ্কাও করছে নদী পাড়ের মানুষেরা।

নীলফামারীর ডিমলা খালিশা চাপানি ইউনিয়ন (ইউপি) চেয়ারম্যান শহীদুজ্জামান সরকার বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ৫-৬ হাজার মানুষ পানিবন্দী। তাদের আমন ধানের খেত তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে।’

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, ‘পানিবন্দী লোকজনের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। তাদের খাদ্যসহ অন্যান্য সামগ্রী দিয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা করার প্রস্তুতি রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উপজেলার কালিগঞ্জ জিরো পয়েন্ট দিয়ে তিস্তা নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তাই প্রথম ধাক্কা এ উপজেলার ওপর দিয়ে আসতে পারে। এ জন্য এলাকায় প্রচারণাসহ মানুষজনকে সতর্ক করা হয়েছে।’

নীলফামারীর ডালিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদদৌলা বলেন, ‘ভারতের উত্তর সিকিমে লোনক হ্রদে ভারী বৃষ্টির জেরে তিস্তা নদীর পানি প্রবল বেগে ভয়াবহ ঢল নেমে আসছে। এর ফলে সিকিমের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। হড়পা বান (আকস্মিক বন্যা) বলা হচ্ছে এটিকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘উজানের ঢলের পানি প্রবল বেগে তিস্তা দিয়ে বাংলাদেশে ধেয়ে আসছে। দুপুরের পর থেকে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সব প্রকারের সতর্কাবস্থান নিয়েছি। তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। তিস্তা ব্যারাজের ফ্লাড বাইপাস দিয়ে মানুষজনের চলাচলে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ