• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরে রেলওয়ে কর্মচারীদের ন্যায্য দাবী আদায়ে শ্রমিক সমাবেশ

সিসি নিউজ।। রেলওয়ে কর্মচারীদের ন্যায্য দাবী আদায়ে নীলফামারীর সৈয়দপুরে শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ লীগ (রেজি: নং বি-১৭০৩) সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ও ওপেন লাইন শাখার উদ্যোগে এর আয়োজন করা হয়।
বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধায় রেলওয়ে মূর্তজা মিলনায়তনে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিআরইএল`র কেন্দ্রীয় সভাপতি ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আক্তারুজ্জামান।
প্রধান আলোচক ছিলেন বিআরইএল`র কেন্দ্রীয় কার্যকরী সভাপতি সেলিম পাটোয়ারী, বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সৈয়দপুর উপজেলা আমীর হাফেজ মাওলানা  আব্দুল মুনতাকিম।
সভাপতিত্ব করেন বিআরইএল সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা শাখার সভাপতি হাফিজুর রহমান মন্ডল। সঞ্চালনা করেন সম্পাদক মো. খায়রুল বাশার। বক্তব্য বলেন, সৈয়দপুর শহর জামায়াতের আমীর শরফুদ্দীন খানসহ অন্যান্য রেলওয়ে শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
প্রধান অতিথি মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ফ্যাসিষ্ট ও লুটেরা হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশ রেলওয়ে দূর্নীতিতে ৪ বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই সেক্টরে দলীয় দূর্নীতিবাজদের দিয়ে লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল।
সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানাতেও অভাবনীয় দূর্নীতি করা হয়েছে। বিগত ১৭ বছরে দেশের সর্ববৃহৎ এই কারখানায় ন্যুনতম উন্নয়ন হয়নি। বরং উন্নয়নের নামে দলীয় নেতাকর্মীদের পকেট ভারী করা হয়েছে। এর প্রতিবাদ করায় বিআরএল এর নেতাকর্মীরাসহ দেশপ্রেমিক শ্রমিকরা তাদের বহুমুখী নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
চরম বৈষম্য করা হয়েছে শ্রমিক নিয়োগ, পদন্নোতি, বদলী ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে। অবসরে যাওয়া শ্রমিকদের শেষ সঞ্চয় প্রাপ্তির সময়ও এফএস শাখার মাধ্যমে অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে ফেলে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন সরকারী দলের শ্রমিক নেতা।
এভাবে অমানবিক আচরণের মাধ্যমে বিরোধী মতের সকল শ্রমিক সংগঠনগুলোকে কোনঠাসা করে রেখে ইচ্ছেমত দূর্নীতি করে এই শ্রমিক নেতারা আঙুল ফুলে বটগাছে পরিণত হয়েছে। আর সাধারণ শ্রমিক কর্মচারীরা ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এখনও সেই বঞ্চনা থেকে মুক্তি মেলেনি।
আগামীর বাংলাদেশে যেন শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার সঠিকভাবে পায় সেজন্য ইসলামি শ্রমনীতির আলোকে সকল শিল্প কারখানা পরিচালনা করা প্রয়োজন। আর এই নীতি বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে আন্দোলন ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, শ্রমিকরা যদি সত্যিকার অর্থে অধিকার পেতে চায় তাহলে ইসলামি শ্রমনীতি বাস্তবায়নের জন্য বিআরইএল বা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাথে একিভুত হওয়া ছাড়া কোনো উপায় নাই। তাই সকল শ্রমিকের প্রতি সংগঠনে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Comments are closed.

আর্কাইভ