সিসি নিউজ।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিভিন্ন স্থানে কুরবানি ঈদের পশু জবাই করাসহ পশুর মাংস কাটতে গিয়ে প্রায় অর্ধ শতাধিক আহত হয়েছেন। শনিবার সকাল থেকে দুপুর রাত ৮টা পর্যন্ত সৈয়দপুর ১০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার বই (রোগীর তথ্যবই) থেকে এ তথ্য মিলেছে।
আহতদের বেশির ভাগই হাত-পায়ের আঙ্গুলসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে গিয়ে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই হাসপাতালে না গিয়ে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে গরুর হাড় কাটতে গিয়ে নাজমুল হক (৪৪) নামের এক ব্যক্তির বাম হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুল মাংস কাটার চাপাতির কোপে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। নাজমুল সৈয়দপুরের পার্শ্ববর্তী চিরিরবন্দর উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের চৌধুরী হাটের সমসের আলীর পুত্র।
জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহার দিন উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় অসংখ্য কুরবানির পশু জবাই করা হয়েছে। এসব পশু জবাই ও পশুর মাংস কাটতে গিয়ে মৌসুমি কিছু কসাই ও পরিবারের সদস্যরা পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে তাদের কারো হাতে, পায়ে ধারাল ছুরি আঘাতে আহত হয়। এতে সৈয়দপুর উপজেলায় অর্ধ শতাধিক আহত হয়। এদের মধ্যে স্থানীয় ১০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ৩৯ জনকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
আহতদের মধ্যে শহরের কয়ানিজপাড়ার মাসুম মিয়া সিসিকে জানান, কাঠের গুড়িতে মাংস রেখে কাটার সময় পায়ে কোপ পড়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তার পায়ে সেলাই দেওয়া হয়েছে।
একইভাবে গুরুতর আহত চিরিরবন্দর উপজেলার চৌধুরী হাটের নাজমুল হক জানান, দুপুরে কুরবানি দেওয়ার পর গরুর মাংস কাটার সময় অসাবধানতা বসত চাপাতির কোপে বাম হাতের বৃদ্ধা আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে হাসপাতালে এসে ব্যান্ডেজ করে চিকিৎসা নিতে হয়েছে বলে সিসি নিউজকে জানান তিনি।
সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালের জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ মোঃ হাইয়ুল কবির জানান, সকাল থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ৩৯ জন রোগী হাসপাতালের জরুরি বিভাগে এসে চিকিৎসা নিয়েছেন। তারা সবাই কুরবানির মাংস কাটতে গিয়ে আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। বাকীদের কারো অবস্থাই গুরুতর নয় বলে সিসিকে তিনি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এ ছাড়াও একই দিনে বিভিন্ন স্থানে মোটরসাইকেল, অটোরিক্সা থেকে পড়ে গিয়ে ১৫ জনকে জরুরী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।