সিসি নিউজ।। দিনাজপুরের খানসামায় বিএনপির শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সমাবেশে হামলার ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন দিনাজপুর-৪ (খানসামা-চিরিরবন্দর) আসনে বিএনপি মনোনয়ন প্রত্যাশী অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দ।
শনিবার (১২ জুলাই) দুপুরে খানসামা উপজেলার চৌধুরী রাইস মিল চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হামলায় আহত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা শারীরিক আঘাতের চিহ্ন প্রদর্শন করে হামলার বিবরণ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কর্নেল (অব.) মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “গতকাল (১১ জুলাই) কেন্দ্র ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচির পালনের জন্য প্রস্তুতি সভায় হামলার প্রতিবাদে ভাবকী ইউনিয়নের কাচিনিয়া বাজারে আয়োজিত শান্তিপূর্ণ একটি প্রতিবাদ সমাবেশে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়। এ হামলার নেতৃত্ব দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া এবং উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ভাবকী ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল আলম তুহিন।”
তিনি জানান, এ ঘটনায় তিনিসহ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হন। তাদের অনেককে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নিতে হয়। হামলাকারীরা লাঠি, রড, পাইপ ও ইটপাটকেল ব্যবহার করে ভাঙচুর চালায়। এতে শতাধিক মোটরসাইকেল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, “ঘটনার সময় পুলিশকে জানানো হলেও তারা সময়ক্ষেপণ করে। যদি আগেভাগে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হতো, তবে এ ন্যাক্কারজনক হামলা এড়ানো সম্ভব হতো।”
নেতারা এ ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বহিষ্কারের দাবি জানান। তারা বলেন, “বিএনপি কখনোই সহিংস রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না। যারা দলের মধ্যে থেকে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।”
সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজন সংবাদ সম্মেলনে তাদের মাথা, হাত ও শরীরের আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে হামলার নির্মমতা তুলে ধরেন।
সম্মেলনের শেষদিকে নেতারা দলীয় ঐক্য ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান।