বিশেষ প্রতিনিধি।। ঠাকুরগাঁওয়ে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম-সংক্রান্ত মামলায় পীরগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানসহ ১৭ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. জামাল হোসেন এ আদেশ দেন। পরে তাঁদের কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় আদালত প্রাঙ্গণে দায়িত্বরত এক পুলিশ সদস্যের মাথায় আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে।
আহত পুলিশ সদস্যের নাম রবিউল ইসলাম। তাঁর ভাষ্য, আসামিদের হাজতখানায় নেওয়ার পথে সিভিল পোশাকে থাকা দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি তাঁর মাথায় আঘাত করে পালিয়ে যান।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন পীরগঞ্জের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আক্তারুল ইসলামসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের ১৭জন নেতা-কর্মী। মামলার এজাহারে তাঁদের বিরুদ্ধে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনা, গোপন বৈঠক এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৬ সালের ১৪ আগস্ট রাত থেকে পরদিন বিকেলের মধ্যে পীরগঞ্জ উপজেলার ভাকুরা ধনীপাড়ায় আক্তারুল ইসলামের বাড়িতে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা গোপন বৈঠক করেন বলে অভিযোগ করা হয়। বৈঠকে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানো এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, ‘রাণীশংকৈল উপজেলা আওয়ামী লীগ’ নামের একটি ফেসবুক পেজে বৈঠকের কয়েকটি ছবি প্রকাশিত হয়। পরে পুলিশ ছবিগুলোর স্ক্রিনশট জব্দ করে তদন্ত শুরু করে। ১৬ আগস্ট আক্তারুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কিছু আলামত জব্দ করা হয়। ওই দিন কার্তিক চন্দ্র শীল ও মো. ফজলুল হককে তাঁদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের অভিযোগ, গ্রেপ্তার দুই আসামিকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বৈঠকের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ৬(৩), ৮, ৯(৩), ১০, ১২ ও ১৩ ধারায় মামলা করা হয়। তবে মামলার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়া বাকি।
আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, তাঁর মক্কেলরা এ ধরনের কোনো গোপন বৈঠক বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত নন। তাঁদের মধ্যে কলেজের অধ্যাপক এবং পাঁচবারের নির্বাচিত উপজেলা চেয়ারম্যানও রয়েছেন। মামলায় উপস্থাপিত ফেসবুকের ছবিতে নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় উল্লেখ নেই। ছবিগুলো পুরোনো হতে পারে কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বা পরিবর্তন করা হয়ে থাকতে পারে—এমন যুক্তিও আদালতে তুলে ধরা হয়েছিল।
আইনজীবী আরও বলেন, মামলার ২০ আসামির মধ্যে ১৭ জন হাইকোর্ট থেকে ছয় সপ্তাহের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছিলেন। জামিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাঁরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে নিয়মিত জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত তাঁদের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ সদস্যের মাথায় আঘাত করার ঘটনায় কারা জড়িত, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।