• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

ঘোড়াঘাট ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

Taka-2মাহবুবুল হক খান,  দিনাজপুর: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট ডিগ্রী কলেজের বিরুদ্ধে সোয়া ১৯ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। বিধি বর্হিভূতভাবে অধ্যক্ষ নিয়োগ এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ওই কলেজের শিক্ষকরা শিক্ষা মন্ত্রীসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন।
কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি হাফিজার রহমান স্বাক্ষরিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম এক বছর পুর্বে পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির আলোকে গত ০৮.০৪.২০১৩ তারিখে ওই কলেজে অধ্যক্ষ হিসাবে যোগদান করেন। বিধি মোতাবেক কোন ডিগ্রি কলেজে ১৫ বছরের শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার কথা থাকলেও তিনি একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা দেখিয়ে আবেদন করেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক ড. মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত স্মারক নং-১০৪৪ তারিখ-২৫/০৭/২০১২ইং তারিখের পত্র বলে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ শর্তাবলীর রেজ্যুলেশন ২(ক) ও ৪(ক) ধারা মোতাবেক ওই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পুর্বানুমতি দেওয়া হয়নি। কিন্তু রহস্যজনকভাবে একই ব্যক্তি স্বাক্ষরিত স্মারক নং-৫২৭৩ তারিখ-২৪/০৩/২০১৩ ইং তারিখে এক বছর পুর্বে পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তির আলোকে অধ্যক্ষ পদে মনিরুল ইসলামকে নিয়োগে অনুমতি দেওয়া হয। তিনি কলেজে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেই অর্থ আত্মসাৎ এবং দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। কলেজের যাবতীয় আয়ের উৎস হতে প্রাপ্ত অর্থ কলেজের ব্যাংকের হিসাব নম্বরে জমা না করে আদায় রশীদে তিনি স্বাক্ষর করে তা গ্রহন করেন।
কলেজের শরীর চর্”চা শিক্ষক মোঃ হাসানুর রহমান তার এলাকার জামায়াত নেতা হওয়ায় গত ২০১৩ সালের মে মাসে তার নামে একটি মামলা করলে তিনি ৩ মাস হাজতে ছিলেন। অধ্যক্ষ তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে বেতন স্থগিত রাখেন এবং অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজিং কমিটিকে ম্যানেজ করে ওই সময়ে তার ছুটি দেখিয়ে স্থগিত বেতন রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে ছাড় করে দেন।
গত ০৭.০৩.২০১৩ ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দায়িত্ব ছেড়ে দেয়ার সময় কলেজের হিসাব নম্বরে জমা ছিল ৫ লাখ ৫১ হাজার ৭১৭ টাকা। মনিরুল ইসলাম যোগদান করে কলেজের ছাত্র ভর্তি এবং  ২০১৩ইং সালে ডিগ্রি পরীক্ষার ফরম পুরন বাবদ রশিদ মুলে ১০ লাখ ২১ হাজার ৯২০ টাকা আদায় করেন। ১০৭ জন শিক্ষার্থীর রশীদ না কেটেই ফরম পুরন করান যার টাকা প্রায় ২ লাখ ২২ হাজার টাকা। এছাড়া আরো ৯৬ জন শিক্ষার্থীর হিসাব বা কোন রশীদের হদিস নেই। যা থেকে কলেজের আ্য় হতো প্রায় ১ লাখ ১৭ হাজার টাকা। তিনি কলেজের প্রায় সোয়া ১৯ লাখ টাকার কোন হিসাব দিতে পারেননি। এছাড়া কলেজের নামীয় পুকুর লিজ দিয়ে প্রায় ৪০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করেন। তিনি কোন রেজ্যুলেশন ছাড়াই কলেজের হিসাব থেকে টাকা উত্তোলন করেন।
ওই কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি মোঃ হাফিজার রহমান জানান, তারা কলেজের টাকা আদায়ের রশীদ বই নম্বর উল্লেখপুর্বক টাকার পরিমান উল্লেখ করে অধ্যক্ষের অর্থ আত্মসাৎ এবং দুর্নীতির প্রমানাদিসহ অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রীর বরাবরে দাখিল করেছি এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে দাখিল করা হয়েছে।
অধ্যক্ষের দুর্নীতি নিয়ে কোন শিক্ষক প্রতিবাদ করলে তিনি লোক মারফতে নানা প্রকার ভয়ভীতি প্রদর্শন করে থাকেন। তার যোগদানের পর থেকে কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থাও ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। এ ব্যাপারে অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মনিরুল ইসলাম তার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ