দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরে এই প্রথম পশুর মেলার আড়ালে চলছে উলঙ্গ নৃত্য এবং শহরের আনাচে-কানাচে মাইকিং করে দেয়া হচ্ছে হাউজি এবং জুয়ার দাওয়াত। যেন দেখার কেউ নেই।
দিনাজপুরে ঐহিত্যবাহী চেরাডাঙ্গী পশু মেলা বর্তমানে তার ঐহিত্য হারিয়ে জুয়া-হাউজি-লটারি-উলঙ্গ নৃত্যের মেলায় পরিণত হয়েছে। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার শুভ উদ্বোধন করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক আজিজুল ইমাম চৌধুরী। মেলা উদ্বোধনের দ্বিতীয় দিন দিনাজপুর জেলা শহরে মাইকিং করে হাউজি জুয়া চালানোর প্রচারণা চালানো হয়। ৯ ফেব্রুয়ারি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুর রহমান’র নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত এনডিসি আবুজার জিফারী ও কোতয়ালী থানার ওসি আলতাফ হোসেনকে সাথে নিয়ে রাতে চেরাডাঙ্গী মেলায় অভিযান চালিয়ে হাউজি-জুয়া-লটারী- নগ্ন নৃত্যসহ সকল অসামাজিক কার্যকলাপ বন্ধ করে দেন। স্থানীয় প্রশাসনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে ২ দিন বন্ধ থাকার পর হঠাৎ করে কি এক অজ্ঞাত খুঁটির জোরে পুনরায় শহরে মাইকিং করে হাউজি জুয়ার কার্যক্রম শুরু হয়।
মেলার আয়োজক মো. ফজলুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, মেলা সবকিছুই ম্যানেজ করে চলছে। ২০১১ সালে এই ঐহিত্যবাহী চেরাডাঙ্গী পশু মেলায় র্যাফেল ড্র-এর টাকা ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে মেলার পার্শ্ববর্তী গ্রামের আব্দুল মজিদ (৪৫) নামে দুই সন্তানের জনক দৃষ্কৃতিকারীদের হাতে নির্মমভাবে খুন হন। খুনের বিষয়টি এখনও বিচারাধীন রয়েছে। মেলার এই গা শিউরে উঠা খুনের ঘটনাটি যা অনেকেরই অজানা। ফেব্রুয়ারির পুরো মাসটিতে চলছে এসএসসি পরীক্ষা। সন্ধ্যার পর মাইকিং এর শব্দের কারণে পরীক্ষার্থীদের পড়ালেখার ক্ষতি হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ভুক্তভোগী অভিভাবকরা দ্রুত এই মেলা বন্ধ করার জন্য আহবান জানিয়েছেন।