• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

কাঁচা খেজুরের রস নিপাহ ভাইরাসের কারণ

Nipaস্বাস্থ্য ডেস্ক: কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার আগে আরেকবার ভাবুন। আক্রান্ত হতে পারেন প্রাণঘাতি নিপাহ ভাইরাসে। এ বছরও দেশের বিভিন্নস্থানে খেজুরের রস খেয়ে অনেকে প্রাণ হারিয়েছেন। সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগ বিশেষ করে রোগতত্ত্ব- রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) কাঁচা খেজুরের রস খাওয়া থেকে বিরত থাকতে গত কয়েক বছর ধরে প্রচার-প্রচারণা চালাচ্ছে। তাতেও কোন লাভ হয়নি। গ্রামাঞ্চলের অশিক্ষিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিপাহ ভাইরাসে আক্রেোন্তর হার বেশি। সরকারের  প্রচারণা তাদের কানে পৌঁছায় না কিংবা তারা এ বিষয়ে গুরুত্ব দেয় না। এমন মন্তব্য করেছেন আইইডিসিআরের প্রধান  বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মোস্তাক হোসেন।

গত দুই সপ্তাহের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মানিকগঞ্জে ২ জন ও ফরিদপুরে একজন মারা গেছে। আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআরবির (কলেরা হাসপাতাল) কর্মকর্তারা বলেন, খেজুরের কাঁচা রস খাওয়া বাঙালিদের পছন্দ। অনেকে এ রস খাওয়ার জন্য শীত মৌসুমে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে যান। তারা জানেন না খেজুরের কাঁচা রস খেলে জীবন দ্রুত চলে যাবে। ২০০১ সাল থেকে গত সোমবার পর্যন্ত নিপাহ ভাইরাসে ২৪৫ জন আক্রান্ত হয়। মারা যায় ১৮৬ জন। ২০১৩ সালে ২৮ জন নিপাহ ভাইরাস আক্রান্ত হয় এবং মারা যায় ২৪ জন। আক্রান্তের মোট ৭৬ ভাগই মারা যায় বলে আইইডিসিআর-এর গবেষণায় জানা গেছে। দেশের ২৫টি জেলায় শীত মৌসুমে নিপাহ ভাইরাসের ঝুঁকি বেশি।
নিপাহ ভাইরাসের একমাত্র বাহক বাদুড় আইইডিসিআর ২০০৪ সালে ফরিদপুরে যারা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে তাদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে। পরে পরীক্ষা করে তারা নিশ্চিত হয়, বাদুড় হলো নিপাহ ভাইরাসের একমাত্র বাহক। বাদুড় থেকে  খেজুরের রসে এবং সেই রস মানুষ খেলে তা মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়।
২০০১ সালে এদেশে নিপাহ ভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ হয়। কিন্তু তখন তা শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নমুনার স্লাইটগুলো আইইডিসিআর-এ সংরক্ষিত ছিল। ২০০৪ সালে নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত করার পর উক্ত সংরক্ষিত স্লাইটগুলো পরীক্ষা করে কর্মকর্তারা নিশ্চিত হন যে, ২০০১ সালে আক্রান্তরা ছিল নিপাহ ভাইরাস কর্তৃক। এর উপসর্গ হলো আক্রান্তদের প্রচন্ড জ্বর, খিঁচুনি ও জ্ঞান হারিয়ে ফেলা। কাঁচা রস খাওয়ার ২ দিন পর থেকে ১২ দিনের মধ্যে এ সব উপসর্গ দেখা দেয়।
আইইডিসিআর-এর পরিচালক অধ্যাপক ডা. মাহমুদুর রহমান বলেন, মালয়েশিয়ায় ১৯৯৮ সালে নিপাহ গ্রামে এই প্রাণঘাতি ভাইরাস দেখা দেয়। তখন বাদুড়ের খাওয়া ফল শূকর খেয়েছিল। সেই শূকর খেলে মানুষের দেহে নিপাহ ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছিল। ঐ গ্রামের নামানুসারে ভাইরাস নাম রাখা হয় নিপাহ। তবে খেজুর গুড় ও পায়েশ খেলে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। আগুনের তাপে ঐ ভাইরাস মারা যায়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ