ঢাকা: মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামালপুরের পলাতক ৬ জনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে আসামিদের অনুপস্থিতিতে বিচার শুরু হবে কি না- এ বিষয়ে আদেশের জন্য ১০ আগস্ট দিস ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার ট্রাইব্যুনাল ২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর তাপস কান্তি বল। আসামিদের পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মজিবুর রহমান।
এর আগে জামালপুরের ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন আদালত। এদের মধ্যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি ছয়জনকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইন শৃঙ্খলা বাহিনী।
পলাতক আসামীরা হলেন- মো. আশরাফ হোসেন, অধ্যাপক শরীফ আহমেদ ওরফে শরীফ হোসেন, মো. আব্দুল মান্নান, মো. আব্দুল বারি, হারুন ও মো. আবুল কাসেম।
ওই ৮ জনের মধ্যে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, জামালপুর শহরের নয়াপাড়া এলাকার অ্যাডভোকেট শামছুল হক (৭৫) ও সিংহজানি বালক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফুলবাড়িয়ার বাসিন্দা এস এম ইউসুফ আলী (৮২)।
গত ২৫ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কার্যালয়ে চিফ প্রসিকিউটর গোলাম আরিফ টিপুর কাছে এ আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
এর আগে ২৪ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ধানমণ্ডিস্থ কার্যালয়ে সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আবদুল হান্নান খান এক সংবাদ সম্মেলনে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেন।
এ মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে ১৯৬ পাতার দালিলিক প্রমাণ এবং ৪০ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
আসামীদের বিরুদ্ধে অপরাধের সময়কাল ১৯৭১ সালের ২২ এপ্রিল থেকে ১১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ধরা হয়েছে।
আব্দুল হান্নান জানান, এ আসামিরা মুক্তিযুদ্ধের সময় জামালপুরে প্রায় ১০ হাজার মানুষকে হত্যা, ৫০ হাজার বাড়িঘর ধ্বংস করে প্রায় ১২ কোটি টাকার ক্ষতি সাধন করেন।