• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৩৩ অপরাহ্ন |

স্কুলছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা

হত্যানাটোর: নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলায় দীপা খাতুন নামের এক স্কুলছাত্রীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার শিকারপুর কৃষি কারিগরি বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি কলাবাগান থেকে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।

মেয়েটির পরিবারের অভিযোগ, দীপার (১৪) সঙ্গে স্থানীয় স্বপন (১৮) নামের এক কলেজছাত্রের সম্পর্ক ছিল। স্বপন গত বৃহস্পতিবার রাতে মেয়েটিকে নিয়ে পালিয়ে যান এবং নির্যাতনের পর গলা কেটে হত্যা করেন।

দীপা উপজেলার মশিন্দা ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহাপুর গ্রামের মুদি ব্যবসায়ী দুলাল প্রামাণিকের মেয়ে। তিন বোনের মধ্যে সে সবার বড়। সে স্থানীয় চাঁচকৈড় নাজিম উদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল।

দীপার পরিবারের সদস্যরা জানান, পাশের বামনকোলা গ্রামের রহিতের ছেলে এবং শিকারপুর মহসীন আলী কলেজের মানবিক প্রথম বর্ষের ছাত্র স্বপনের সঙ্গে দীপার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের জের ধরে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে দীপা স্বপনের সঙ্গে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় দীপা বাড়ি থেকে গরু বিক্রির প্রায় তিন লাখ টাকা ও কিছু সোনার গয়না নিয়ে যায়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল দুপুরে দীপাদের বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে উপজেলার শিকারপুর কৃষি কারিগরি বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়-সংলগ্ন একটি কলাবাগানে তার লাশ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন বলেন, লাশটি দেখে তাঁরা ধারণা করছেন, হত্যার আগে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

দীপার চাচি নাদিরা জানান, স্বপন বখাটে-প্রকৃতির ছেলে। তিনি প্রায়ই দীপাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতেন। স্বপনের বাবার সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ থাকায় দীপার বাবা ওই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। নাদিরা অভিযোগ করেন, শেষ পর্যন্ত প্রেমের ফাঁদে ফেলে দীপাকে ঘরছাড়া করেন স্বপন।

স্বপনদের বাড়িতে গিয়ে স্বপন ও তাঁর বাবাকে পাওয়া যায়নি। স্বপনের মা রেনু বেগম বলেন, তাঁর ছেলের সঙ্গে মেয়েটির সম্পর্ক ছিল কি না, সেটা তাঁর জানা নেই। তবে এমন নিষ্ঠুর ঘটনার সঙ্গে তাঁর ছেলে জড়িত থাকতে পারেন না। অন্যায়ভাবে তাঁর ছেলেকে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

দীপার স্কুলের অধ্যক্ষ মো. আফসার আলী জানান, দীপা মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের মেয়ে ছিল। হত্যাকারীর শাস্তির দাবি করে তিনি বলেন, পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধনসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) মো. ইব্রাহিম হোসেন গতকাল রাতে জানান, এ ঘটনায় দীপার বাবা দুলাল প্রামাণিক বাদী হয়ে স্বপনকে আসামি করে হত্যা মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্বপন পলাতক রয়েছেন। তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ