সিসি ডেস্ক: কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার কোটবাড়ি এলাকায় অবস্থিত সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিদ্যালয় শাখার ইনচার্জ আবদুল কাইয়ুমের বিরুদ্ধে নবম শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষিতাদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অবৈধ মেলামেশায় বাধ্য করতেন বলে জানা গেছে। কাইয়ুমকে আখ্যা দেয়া হয়েছে ঢাকার পরিমল হিসেবে। এ ঘটনায় কলেজ কর্তৃপক্ষ ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। এই ধর্ষক শিক্ষকের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
কুমিল্লা সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সিটি কলেজটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই বেশ পরিচিতি লাভ করে। তবে বর্তমানে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে এসেছে। এর মূল কারণ হচ্ছে, কলেজের বিদ্যালয় শাখার ইনচার্জ আবদুল কাইয়ুম কোচিংয়ে শিক্ষার্থীদের পড়ানোর সুবাদে তিনি ছাত্রীদের সঙ্গে প্রথমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এরপর সু-কৌশলে ছাত্রীদের তার গোপন কক্ষে ডেকে নিয়ে অবৈধ মেলামেশায় বাধ্য করেন। এছাড়া অবৈধ মেলামেশার ওই নগ্ন ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে রাখেন কাইয়ুম। পরে এসব নগ্ন ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে ছাত্রীদের দিনের পর দিন অবৈধ মেলামেশায় বাধ্য করে কাইয়ুম।
জানা গেছে, সম্প্রতি সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণীর দুই ছাত্রীকে ধর্ষণের বিষয়টি ফাঁস হয়ে পড়লে ওই লম্পট শিক্ষক কাইয়ুমের আসল চেহারা বের হয়ে আসে। শিক্ষক কাইয়ুম ওই দুই ছাত্রীকেই বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে ধর্ষণ করে আসছিলেন। এর আগেও গত বছরের ১ অক্টোবর বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে অনৈতিক কাজে বাধ্য করে তা মোবাইল ফোনে ধারণ করেন কাইয়ুম। তবে ওই সময়ে তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় আবদুল কাইয়ুম আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন।
এদিকে গত শনিবার শিক্ষক আবদুল কাইয়ুমের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেছে সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী। ওই মানববন্ধনেও ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেন শিক্ষক আবদুল কাইয়ুম।
সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন অভিভাবক জানান, একজন শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে পিতার মতোই। আর সেই শিক্ষক যদি ছাত্রীদের জীবন এভাবে ধ্বংস করে তাহলে আমরা কীভাবে আমাদের মেয়েদের পড়তে দেব। আমরা অবিলম্বে ওই শিক্ষককে গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।
সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিদ্যালয় শাখার কয়েক শিক্ষার্থী নাম প্রকাশ না শর্তে জানান, এর আগেও অনেক মেয়ে কাইয়ুম স্যারের লালসার শিকার হয়েছে। বিষয়গুলো কলেজের সবাই জানে, তবে জানি না এখনো কীভাবে এই লম্পট শিক্ষক আমাদের দায়িত্বে রয়েছেন। আমরা এমন শিক্ষকদের ফাঁসি চাই। আমরা কাইয়ুম নামে ‘পরিমল’ আর চাই না। আমরা ভালো শিক্ষক চাই।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক আবদুল কাইয়ুমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আনোয়ার হোসেন বলেন, এসব ঘটনা বানোয়াট। আমাদের কলেজে আরিফ নামের এক শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়। তিনি শিক্ষার্থীদের ইন্ধন দিয়ে এসব নাটক সাজিয়েছেন।
অধ্যক্ষের এমন কথা শুনে পরে খোঁজ নিয়ে সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রাক্তন শিক্ষক আরিফের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ প্রতিবেদকে বলেন, আমি দুই বছর আগে চাকরি ছেড়ে দিয়ে বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছি। আমি জানি না কেন আমার বিরুদ্ধে এমন বানোয়াট কথা বলছেন অধ্যক্ষ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. সেলিম রেজা বলেন, এ ঘটনায় ২ জন শিক্ষক ও ৩ জন পরিচালকের সমন্বয়ে ৫ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্তে শিক্ষক কাইয়ুম দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ বিষয়ে জানতে সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রশান্ত পালের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল আউয়াল বলেন, আমি খবর পেয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।