আজমল হক আদিল, বদরগঞ্জ (রংপুর) : রংপুরের বদরগঞ্জে দাদনের টাকা পরিশোধ করতে না পেরে অন্তঃস্বত্তা গৃহবধুর পেটে লাথি মেরে ৫মাসের সন্তান হত্যা করেছে আনারুল ইসলাম ফুতি নামে একজন দাদন ব্যবসায়ী। এব্যাপারে ওই গৃহবধুর মাতা মহুজা বেগম বাদী হয়ে আনারুলসহ ৪জনকে আসামী করে বদরগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। গত শনিবার (২এপ্রিল) উপজেলার কালুপাড়া ইউনিয়নের জামুবাড়ী কুমারপাড়া গ্রামে এঘটনা ঘটে।
অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, ওই গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের ছেলে দিনমজুর মহিবুল ইসলাম গত ৪মাস পুর্বে অভাবের তাড়নায় একই গ্রামের আনারুল ইসলাম ফুতির স্ত্রী দাদন ব্যবসায়ী আরজু বেগমের কাছ থেকে চড়া সুদের উপর ২হাজার টাকা গ্রহণ করে। এদিকে গত শনিবার সকাল ৯টায় মহিবুল ইসলাম প্রতিবেশী আব্দুল আজিতের বাড়ীতে কাঠের কাজ করছিল। দাদন ব্যবসায়ী আরজু ও তার লোকজন সেখানে উপস্থিত হয়ে এক সঙ্গে সুদে আসলে সব টাকা ফেরত চায়। এনিয়ে উভয়ের তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে দাদন ব্যবসায়ীরা মহিবুলকে ধরে পেটাতে থাকে। এখবর পেয়ে তার মা মহুজা বেগম ও বোন মেহেননারা বেগম মহিবুলকে উদ্ধার করতে ঘটনাস্থলে ছুটে এলে দাদন ব্যবসায়ীরা ক্ষিপ্ত তাদেরকেও ধরে বেদম মারপিট করে। মারপিটের এক পর্যায়ে দাদন ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম ফুতি ৫মাসের অন্তঃস্বত্তা মেহেননারার পেটে লাথি মারলে সে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। গ্রামবাসী তাদেরকে উদ্ধার করে বদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করান। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হওয়ার পর থেকে মেহেননারা বেগমের রক্তক্ষরণ শুরু হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার শারিরীক পরীক্ষা (আলট্রাসনো গ্রাম ) করার জন্য পরামর্শ দেন। শারিরীক পরিক্ষা শেষে রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা ৫মাসের অন্তঃস্বত্তা মেহেননারার গর্ভের সন্তানটি মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এপ্রসঙ্গে অভিযুক্ত দাদন ব্যবসায়ী আনারুল ইসলাম ফুতির সাথে আলাপকালে তিনি তার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মনোয়ারা বেগম জানান; ৫মাসের অন্তঃস্বত্তা মেহেননারা শারিরীক পরিক্ষার রিপোর্ট দেখে চিকিৎসকরা তার গর্ভের সন্তান মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
বদরগঞ্জ থানার ওসি মোস্তাফিজার রহমান বলেন; বাদীর লিখিত অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।