• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫০ অপরাহ্ন |

পার্বতীপুরে বন্ধুকে অজ্ঞান করে মটরসাইকেল ও টাকা ছিনতাই

Atiarসিসি নিউজ: পার্বতীপুরে আতিয়ার রহমান (৩০) নামে এক বন্ধুর নাকে রুমাল দিয়ে ওষুধ প্রযোগে অজ্ঞান করে মটরসাইকেল, টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। পরে এঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে বিশ্বাসঘাতক ওই বন্ধু  সিরিঞ্জ দিয়ে আতিয়ারকে হত্যার উদ্দেশ্যে শরীরে বিষ প্রয়োগ করে এবং মৃত ভেবে ফেলে পালিয়ে যায়। আতিয়ার রহমান নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের চক-দুবলিয়া গ্রামের ইয়াছিন আলীর পুত্র।

পার্বতীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ সূত্র মতে, মৌসুমী ব্যবসায়ী আতিয়ার রহমানের বন্ধু পাশ্ববর্তী (উভয়ের বাড়ীর দূরত্ব প্রায় ১ কিলোমিটার মধ্যে) দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার গোয়ালডিহি ইউনিয়নের দুবলিয়া গ্রামের সত্যেন অধিকারীর পুত্র সুশান্ত অধিকারী বাবু (২৮)। গত ১৪ আগষ্ট ব্যবসায়ীক মালামাল করার উদ্দেশ্যে আতিয়ার নিজের লাল রংয়ের ১০০ সিসির সিটি বাজাজ মটরসাইকেল নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয়। এর কিছুক্ষণ পর সুশান্ত মোবাইল ফোনে দিনাজপুরে বিশেষ জরুরী কাজের কথা বলে বন্ধু আতিয়ারকে তার সাথে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করে। সহজসরল মনে আতিয়ার বন্ধু সুশান্ত’র অনুরোধ রক্ষায় মটরসাইকেলে যোগে দুপুরে দিনাজপুর পৌছে। এসময় অসৎ উদ্দেশ্যে সুশান্ত দিনাজপুর থেকে বাড়ী ফিরতে বিকল্প পথে বেলা আড়াইটার দিকে পার্বতীপুরের ভবানীপুরে আসে। এসময় আকাশের বৃষ্টি নামার কারণে ভবানীপুর হাবড়া-১ পুলিশ বক্সে আশ্রয় নেয়। সেখানে মুখে পানি মুছে দেয়ার অজুহাতে বিশ্বাসঘাতক সুশান্ত তার হাতে থাকা রুমাল দিয়ে আতিয়ারের মুখ মুছে দিলেই সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর মটরসাইকেল, পকেটে থাকা ৬৩ হাজার টাকা ও স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে প্রকৃত ঘটনাটিকে আড়াল করার উদ্দেশ্যে অজ্ঞান আতিয়ারের শরীরে (বাম পায়ের হাঁটুর নীচে) সিরিঞ্জ দিয়ে বিষ প্রয়োগে হত্যার চেষ্টা করে। পুলিশ বক্সে সাড়ে ৫ ঘন্টা অজ্ঞান থাকার পর রাত ৮টার দিকে ওই সড়কে টহল চৌকিদাররা মৃতপ্রায় আতিয়ারকে উদ্ধার করে ভবানীপুর বাজারে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গিয়ে তার জ্ঞান ফেরায়। আতিয়ার কাছ থেকে কোনমতে মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে তার পরিবারের লোকজনকে বিষয়টি অবহিত করে। পরবর্তীতে বাড়ীর লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে আতিয়ারকে নিয়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায় এবং পার্বতীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।

দীর্ঘ দু’সপ্তাহ চিকিৎসা শেষে আতিয়ার বাড়ীতে ফিরে এলেও তার হাঁটাচলা এখনও স্বাভাবিক হয়নি। গতকাল বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর’১৬) আতিয়ার রহমান জানান, রংপুরের চিকিৎসক জানিয়েছেন তার শরীরে অজ্ঞাত এক ধরনের বিষ প্রয়োগ করা হয়েছে। যা আর মাত্র ঘন্টা দুয়েক দেরী করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব ছিলনা। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তার কাছে ব্যবসার টাকা রয়েছিল সেটা সুশান্ত জানতো।

আতিয়ারের বাবা ইয়াছিন আলী জানান, সুশান্তকে এখন এলাকায় দেখা যায়না। তবে তার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা তার হদিশ দিতে অস্বীকার করে। তিনি জানান, আতিয়ারকে উদ্ধারের সময় তার শরীরে যে সিরিঞ্জ দিয়ে বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল সেটা পুলিশ বক্সের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পার্বতীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল আলমের সাথে কথা হলে তিনি অভিযোগ প্রাপ্তির কথা নিশ্চিত করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ