• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০০ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বাংলাদেশী তরুণীদের পাচার করে কোটিপতি সুজয়

11সিসি ডেস্ক: বয়স সবে ৩৩। পড়াশোনা ক্লাস এইট। এখনই কোটিপতি সুজয় বিশ্বাস। লটারি নয়, পারিবারিক সম্পত্তির জোরেও নয়। কেবল তরুণীদের পাচার করে সুজয়ের আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ।

পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজারের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ওঠে আসে এমন চমকে দেয়া তথ্য। আর সুজয়ের এই নারী পাচার ব্যবসার বড় শিকার বাংলাদেশী তরুণীরা।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাগদা ব্লকের লক্ষ্মীপুর গ্রামে সুজয়ের বাড়ি। গ্রামটি ভারতের মূল জনপদ থেকে বিচ্ছিন্ন। অনেকটা দ্বীপের মতো। তিন দিকে সংকীর্ণ কপোতাক্ষ নদী, এক দিকে গদাধরপুর বাওড়।

নদীর ওপারে বাংলাদেশের যশোরের চৌগাছা থানার শাহাজাদপুর গ্রাম। ৫০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে পাকা রাস্তা। লক্ষ্মীপুর গ্রামে যে দু-তিনটি একতলা পাকা বাড়ি রয়েছে, তার একটি সুজয়দের। তবে, বাড়ির চাল অ্যাসবেসটসের। খালি চোখে কোটিপতির বাড়ি মনে হওয়া কঠিন।

সুজয়ের বাবা সুশান্তবাবু বাগদা পঞ্চায়েত সমিতির দুবারের প্রাক্তন সিপিএম সদস্য। তিন ভাইয়ের মধ্যে সুজয় ছোট। বড় ভাই বাসচালক। গ্রামের বাইরে বয়রা বাজারে বিশ্বাস পরিবারের একটি প্রসাধনী সামগ্রীর ছোট দোকান রয়েছে। মেজো ভাইয়ের সঙ্গে সেই দোকান চালাত সুজয়।

বছর তিনেক আগে বিয়ে করে সুজয়। দুবছরের একটি ছেলেও রয়েছে তার। নিজ গ্রামে ‘নিরীহ’ হিসেবে এই যুবক যে আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রে জড়িত, তা শেষ পর্যন্ত টের পায় পুলিশ।

রাজস্থানের জোধপুরের উদয় মন্দির থানা সূত্রে জানা গেছে, দিন কয়েক আগে স্থানীয় এক জায়গা থেকে ফোনে বলা হয়, একটি তালাবদ্ধ ঘর থেকে মেয়েদের চিৎকার শোনা যাচ্ছে।

এরপর পুলিশ তালা ভেঙে ১৪ বছরের এক কিশোরী ও ১৮ বছরের এক তরুণীকে উদ্ধার করে। পরে জানতে পারে তারা বাংলাদেশী। কাজের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের চোরাপথে প্রথমে পশ্চিমবঙ্গে এবং পরে রাজস্থানে নিয়ে আসে নন্দিনী।

নন্দিনী নামটা উদয় মন্দির থানার পুলিশ আগেই জানতো। কয়েক মাস আগে তিন বছরের একটি মেয়েকে অপহরণের মামলার সূত্রে। তখন তাকে ধরা যায়নি। এবার অবশ্য নন্দিনী ধরা পড়েছে। তাকে জেরা করেই খোঁজ মিলে সুজয়ের বাড়ির।

আর অভিযানে তালাবদ্ধ ওই ঘর থেকে পুলিশ একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিস পায় যার মালিক সুজয়। যৌন ব্যবসার জন্য বিভিন্ন রাজ্যে নারী পাচার করেই সুজয় নিজের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে কোটি টাকা জমিয়ে ফেলেছে।

ওই দুই বাংলাদেশী কিশোরী ও তরুণীকে উদ্ধারের পরে পুলিশ সুজয়কে গ্রেফতার করে। সুজয়ের আগে জোধপুর থেকে তার বাংলাদেশী সঙ্গিনী নন্দিনী ওরফে রুবিনাকে ধরা হয়।

উদয় মন্দির থানার তদন্তকারী অফিসার মদন বেনিওয়ালের দাবি, দুজনেই আন্তর্জাতিক নারী ও শিশু পাচার চক্রে জড়িত। জেরায় দুজনেই অপরাধ স্বীকার করেছে। শুধু মেয়ে পাচার করেই সুজয় কোটিপতি হয়েছে বলে জানিয়েছে।

গত ছয় মাসে সুজয়ের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে।

সুজয়ের পরিবারের অবশ্য দাবি, তাকে ফাঁসানো হয়েছে। আর প্রতিবেশীদের অনেকেও বিশ্বাস করতে পারছেন না, ‘টোকো’ (সুজয়ের ডাকনাম) নারী পাচারে জড়িত।

তদন্তকারী অফিসারের দাবি, সুজয়কে ধরার পর যে তথ্য পেয়েছেন তা রীতিমতো ভাবাচ্ছে। ভারত-বাংলাদেশ ছাড়া আর কোনো দেশেও চক্রটি সক্রিয় কি না, তার খোঁজ চলছে।

যুগান্তর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ