বিশেষ প্রতিনিধি: দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের এক সিনিয়র স্টাফ নার্স তার স্বামীসহ প্রতারনার ফাঁদ ফেলে চাকুরী দেয়ার নামে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে অনেককে নিঃস্ব করে দিয়েছে। প্রতারনার শিকার এসব মানুষ এখন অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছে। এব্যাপারে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ দিয়েও কোন কাজ হচ্ছেনা। ধুরন্ধর ওই নার্স মাতৃকালীর ছুটি নিয়ে লাপাত্তা রয়েছে। কর্তৃপক্ষ মোবাইলফোনেও পাচ্ছেনা তাকে এমন অভিযোগ হাসপাতালের সেবা তত্বাবধায়কের।
দিনাজপুর বিরল উপজেলার হরিপুর এলাকার মো.আমিনুল হক দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে এক লিখিত অভিযোগে জানিয়েছেন, তিনি স্বাস্থ্য বিভাগে ৪র্থ শ্রেণী’র কর্মচারী থাকা অবস্থায় অবসর গ্রহণ করেছেন। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে পড়ালেখা শেষ করে বেকার অবস্থায় রয়েছেন। এই সুযোগে তার ভায়রার মেয়ে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স নাসরিন আক্তার শিউলী তার ছেলে আলমগীর হোসেন ও মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অফিস সহকারী পদে চাকুরী দেয়ার নামে ১০ লাখ টাকা দাবী করেন। আত্মীয়তার খাতিরে সরল বিশ্বাসে ছেলে ও মেয়েকে চাকুরী দেয়ার জন্য মো. আমিনুল হক সিনিয়র স্টাফ নার্স নাসরিন আক্তার শিউলীকে ২০১৫ সালের মার্চ মাসের শেষের সপ্তাহে নগদ ৯ লাখ টাকা প্রদান করে। এ সময় নার্স নাসরিন আক্তার শিউলী’র পিতা আলতাফ হোসেন ড্রাইভার, মা গুলশান আরা সহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু এ পর্যন্ত আমিনুল হকের ছেলে মেয়েকে চাকুরী দিতে পারেনি নার্স নাসরিন আক্তার শিউলী। এ বিয়য়ে তাকে বলতে গেলে শিউলী কালক্ষেপণ করতে থাকে এবং বলে যে আমার স্বামী আজিজুল হক আওয়ামীলীগের বড় নেতা তার কাছে টাকা দিয়েছি। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার শালিসী বৈঠকও হয়েছে। নার্স নাসরিন আক্তার শিউলী বৈঠকে বলেছেন, আমার স্বামী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং মন্ত্রী-মিনিষ্টারকে টাকা দিয়েছে। চাকুরী এক সময় হবেই। বাসায় ঝুলিয়ে রাখা বিভিন্ন মন্ত্রী এবং এমপি’র সাথে তার স্বামী আজিজুল হকের ছবি দেখিয়ে বলেন, দ্যাখেন-আমার স্বামীর সাথে কার কার সম্পর্ক। চাকুরী এক সময় হবেই।
এদিকে এক ভিজিটিং কার্ডে আজিজুল হক নিজেকে ঢাকা মহানগর উত্তরের শের-ই-বাংলা নগর থানার ২৭ নং ওয়ার্ড (সাবেক ৪০) যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পরিচয় দিয়েছেন। শুধু আমিনুল হক চাকুরী দেয়ার নামে প্রতারনার ফাঁদ ফেলে তারা স্বামী-স্ত্রী বেশ কয়েকজনের কাছে টাকা নিয়েছেন। বিরল উপজেলার বিজোড়া গ্রামের আমানুল্লাহ’র ছেলে মোকসেদুর রহমান, ভগবতীপুর গ্রামের মাহবুর রহমানের ছেলে এন্তাজ আলী’র কাছেও চাকুরী দেয়ার নামে টাকা নিয়েছে তারা। এ টাকায় নার্স নাসরিন আক্তার শিউলী ও তার স্বামী আজিজুল হক শহরের মাহুতপাড়ায় জায়গা কেনার পাশাপাশি অনেক ব্যাংক-ব্যালেন্স করেছেন। নার্স নাসরিন আক্তার শিউলী ২য় স্বামী আজিজুল হক। এর আগের স্বামীর ঘরে তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
এব্যাপারে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলেসেবা তত্বাবধায়ক জুলফা জাহান জানান, নার্স নাসরিন আক্তার শিউলী জুলাই মাসের ২১ তারিখ থেকে ৬ মাসের মাতৃকালীর ছুটি নিয়েছে। আগামী বছরের ১৬ জানুয়ারী তার ছুটি শেষ হবে। আমরা তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। কর্তৃপক্ষ এ অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমাকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন। কিন্তু মোবাইলফোনেও পাচ্ছেনা তাকে। আমি তার পিতার সাথে কথা বলেছি এব্যাপারে। তার মেয়ে টাকা নেয়ার কথা তিনি স্বীকার করেছেন।
এ বিয়য়ে অভিযুক্ত নার্স নাসরিন আক্তার শিউলী’র সাথে যোগাযোগ করতে তার শহরের বালুয়াডাঙ্গাস্থ বাসায় গিয়েও দেখা পাওয়া যায়নি তাকে। তবে মুঠোফোনে তার স্বামী আজিজুল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি টাকা নেয়ার কথা অস্বীকৃতি জানায়।