সিসি ডেস্ক: ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার শশীভূষণ থানার রসুলপুর ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনার পরিদর্শক মাহাফুজুর রহমান রনির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ধর্ষিতা ও নির্যাতিতা নারী গত ৩০ নভেম্বর আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার মাধ্যমে জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মাহাফুজুর রহমান রনিসহ ৭ জনকে আসামি করে একটি কমপ্লেইন পিটিশন মামলা দায়ের করেন( মামলা নং ৯২৩/১৬ইং)।শুনানী শেষে উহার তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বিজ্ঞ আদালত সহকারী পুলিশ সুপার লালমোহন সার্কেলকে নির্দেশ দেন।
এদিকে মাহাফুজুর রহমান রনি বলেন, নিজে চাকুরিজীবী, বাবা ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ওয়ারেছ মন্টু, ম্যাজিস্ট্রেট নিকটাত্মীয়, পত্রিকায় লিখে হবে কি, হ্যাপীর ধর্ষণ মামলা খাইতে ৫ লাখ টাকা বাজেট করেছি বলে বেড়াচ্ছেন।
শুধু তাই নয় তার স্বজনরা ও নির্যাতিতা হ্যাপীকে আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার কর্মকর্তাদের মামলার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা এবং মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি ও টাকার প্রলোভন দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হ্যাপির অভিযোগ ও ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, রসুলপুর ১ নং ওয়ার্ডরে গোলাম ওয়ারেছ মন্টুর ছেলে মাহফুজুর রহমান (রনি) ঢাকা পড়া লেখার সুবাদে মিরপুর এলাকার হ্যাপীর সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। রনি তার বন্ধুদের সাথে নিয়ে ইসলামী সরিয়া মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে সাংসারিক কার্যক্রম শুরু করে। এতে হ্যাপী অন্তঃসত্ত্বাও হয়ে পড়ে।
কিছু দিন পর রনির ভোলার চরফ্যাশন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনায় রসুলপুর ইউনিয়ন পরিদর্শক পদে চাকুরী হওয়ায় হ্যাপীকে কিছু না জানিয়ে পালিয়ে চলে আসেন। গত ৭ নভেম্বর হ্যাপী স্ত্রীর দাবি নিয়ে রনির বাড়িতে উঠলে রনি হ্যাপীকে স্ত্রী হিসেবে অস্বীকার করেন।
হ্যাপী অভিযোগ করে বলেন, রনিদের বাড়িতে আসার পর তার গর্ভপাত ঘটিয়ে তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দেয়ার পর রসুলপুর ৮ নং ওয়ার্ডে তার আত্মীয় কবিরের বাড়িতে আশ্রয় নিলে রনির পরিবার হামলা ও মামলার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে রনি তার বন্ধুরা ও তার পরিবারের সদস্যরা। এই নিয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মীরা গত ৭,৮ ও ৯ ডিসেম্বর বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করে।
এরপর থেকে রনি ও তার পরিবার বিভিন্ন অপপ্রচার ও হ্যাপীকে আইনি সহায়তা প্রদান কার্য মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থার চরফ্যাশন উপজেলা শাখার সভাপতি/সম্পাদকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ও স্থানীয় রসুলপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হুমায়ুন কবীর ও তার পরিবারটিকে মামলার কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার এবং মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে হুমকি ধামকি ও মামলা-হামলার ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসেন রনি তার বন্ধু ও তার পরিবার।
এদিকে পিতা-মাতা হারা অসহায় নির্যাতিতা হ্যাপী আক্তার প্রতারণার ফাঁদে পরে বাহানামূলক বিয়ে পড়ায়ে দাম্পত্য স্বত্ব পালনের নামে যৌন সঙ্গমে লিপ্ত হয় প্রতারক রনি। অতপর অন্তঃসত্ত্বা ঘটানোর প্রতিকার চেয়ে স্বামীর স্বীকৃতির জন্য ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালতে মামলা করেছে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে ৫ লাখ টকা খরচ করার মত ধনাট্য প্রতিপক্ষ মাহাফুজুর রহমান রনিদের সঙ্গে আইনি লড়াইয়ে গিয়ে মূলত ন্যায় বিচার পাবে কি? কারণ বিচারের বাণী নীরবে নিভৃতে কাঁদে এমন একটি প্রবাদ বাক্য আছে।