• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

বিনা টিকেটে পার্কে প্রবেশ করায় শিক্ষার্থীকে নির্যাতন

সিসি নিউজ ।। পার্কে বিনা টিকেটে প্রবেশের অপরাধে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। গত ৮ মে বিকালে নীলফামারী জেলা সদরের ইটাখোলা ইউনিয়নের দরবেশ পাড়ার ‘বাগান বাড়ী’ নামক পার্কে ওই ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন (১৫) নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ওই শিক্ষার্থী জেলা শহরের কালিবাড়ী এলাকার মৃত ফরহাদ হোসেনের ছেলে।

অভিযোগ মতে, গত রবিবার বিকালে জেলা শহরের এর আর ইণ্টারন্যাশনাল স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিয়াম হোসেন (১৫) ও তার কয়েকজন সহপাঠি ওই পার্কে যায়। সহপাঠিরা টিকেট করে প্রবেশ করলেও টাকা না থাকায় সিয়াম পার্কের পেছনদিক দিয়ে তারকাটার বেড়া টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। এসময় নিরাপত্তা কর্মীর হাতে ধরা পড়লে নিরাপত্তা কর্মীরা তাকে মারপিট করেন। পরে পার্কের মালিক মো. মাহমুদ আরেফিন চৌধুরীও তার ওপর নির্যাতন চালায়।

সিয়াম হোসেনের মা আফিয়া আক্তার এসব অভিযোগ করে বলেন, ‘বিনা টিকেটে প্রবেশের অপরাধে প্রথমে নিরাপত্তাকর্মীরা তাকে মারপিট করেন। পরে পার্কের মালিক একটি ঘরে নিয়ে আবারও নির্যাতন করেন। এসময় আমার ছেলেকে গরুর মুত্র, নোংড়া পানিসহ ওষুধ মেশানো পানি খাওয়ায়। খবর পেয়ে তাকে গুরুত্বর অসুস্থ্য অবস্থায় উদ্ধার করে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করি। এ ঘটনায় নীলফামারী সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছেও অভিযোগ করেছি।’

এবিষয়ে নীলফামারী জেনারেল হাসাপাতালের আবসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রহিম বলেন,‘ হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আসার পূর্বে ওই শিক্ষার্থী ঘুমের ঔষধ সেবন করেছিল বলে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক আমাকে জানিয়েছেন। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থী হাসাপাতলের সাধারণ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছে, তার শরীরে কোথাও আঘাতের কোন চিহ্ন নেই। সে সুস্থ্য আছে।’

মঙ্গল ও বুধবার ওই পার্কের মালিক মো. মাহমুদ আরেফিন চৌধুরীর সাথে কথা বলতে পার্কে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। এসময় তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে ‘বাগান বাড়ী’ পার্কে গিয়ে কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান মাহমুদ আরেফিন চৌধুরী মঙ্গলবার সকাল থেকে পার্কে আসেননি। সকাল থেকে তার মুঠোফোনও বন্ধ আছে।

এসময় ওই ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে পার্কে কর্মচারী মো. মিঠু ইসলাম (২৫) বলেন, ‘ঘটনার দিন সিয়াম তার কয়েকজন বন্ধুসহ পার্কে আসেন। তার অন্যান্য বন্ধুরা টিকেট করে প্রবেশ করলেও সিয়াম বেড়া টপকে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর পার্কে আসা মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতে থাকেন। মেয়েরা অভিযোগ করলে পার্কের মালিক প্রথমে তাদের সতর্ক করেন। এতে তারা মালিক কর্মচারীদের ওপর চড়াও হলে সিয়ামকে আটক করা হয়। এসময় তার অন্যান্য বন্ধুরা পালিয়ে যায়। পরে পার্কের মালিক তাকে কয়েকটি চরথাপ্পর দিয়ে ছেড়ে দেন। তাকে গো মুত্র বা অন্য কিছু খাওয়ানোর অভিযোগ সত্য না।’

এ বিষয়ে কথা বললে নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুর রউপ বলেন, ‘এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মা একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত চলছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ